সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
ইতিহাসের অন্যতম ন্যায়পরায়ণ শাসক হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.)
ইতিহাসের অন্যতম ন্যায়পরায়ণ শাসক হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.)
"আপনি যে জোহর পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন, তার গ্যারান্টি কে দেবে?" ১৭ বছরের ছেলের এই একটি প্রশ্নে খলিফার চোখের ঘুম উবে গেল!
ইতিহাসের অন্যতম ন্যায়পরায়ণ শাসক হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.) সবেমাত্র বিছানায় একটু কাত হয়ে শুয়েছেন, এমন সময় তাঁর ১৭ বছর বয়সী তরুণ পুত্র আব্দুল মালিক কামরায় প্রবেশ করল। সে জিজ্ঞেস করল, "আমিরুল মুমিনীন! আপনি এখন কী করতে চাচ্ছেন?"
খলিফা উত্তর দিলেন, "বাবা! আমি কিছুক্ষণের জন্য একটু ঘুমাতে চাচ্ছি। কারণ আমার শরীরে আর বিন্দুমাত্র শক্তি নেই, আমি ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।"
ছেলের মন এই উত্তরে শান্ত হলো না। সে বলল,
"আমিরুল মুমিনীন! আপনি মজলুম ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের আকুতি না শুনেই ঘুমিয়ে পড়তে চাচ্ছেন? অন্যায়ভাবে মানুষের যে ধন-সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তা তাদের কে ফিরিয়ে দেবে?"
হযরত ওমর বিন আব্দুল আজিজ (রহ.) বললেন, "প্রিয় বৎস! তোমার চাচার ইন্তেকালের কারণে আমি গত সারারাত জেগেছিলাম। ক্লান্তির কারণে আমার শরীর পুরো ভেঙে পড়েছে। আমি একটু বিশ্রাম নিয়ে জোহরের নামাজ মানুষের সাথে জামাতে আদায় করব। এরপর ইনশাআল্লাহ সমস্ত মজলুমের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রত্যেকের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কেউ বঞ্চিত হবে না।"
তখন পুত্র আব্দুল মালিক পুরো পৃথিবী কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো একটি কথা বললেন,
"আমিরুল মুমিনীন! এই কথার গ্যারান্টি আপনাকে কে দেবে যে আপনি জোহর পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন?"
ছেলের মুখ থেকে এই বাণী শোনা মাত্রই হযরত ওমর বিন আব্দুল আজিজ (রহ.)-এর অন্তর কেঁপে উঠল! চোখের সমস্ত ঘুম এক নিমিষেই উধাও হয়ে গেল এবং ক্লান্ত-অবসন্ন শরীরে যেন এক অলৌকিক শক্তি ফিরে এলো।
তিনি তৎক্ষণাৎ বিছানায় সোজা হয়ে বসে পড়লেন এবং বললেন, "বাবা! একটু আমার কাছে এসো।"
ছেলে কাছে আসতেই খলিফা তাকে পরম স্নেহে বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং তার কপালে চুমু খেয়ে বললেন:
"সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর, যিনি আমাকে এমন এক নেককার সন্তান দান করেছেন, যে দ্বীনের ব্যাপারে এবং আল্লাহর হুকুম পালনে আমাকে সাহায্য করে।"
এরপর খলিফা আর এক মুহূর্তও দেরি করলেন না। তিনি বিছানা ছেড়ে উঠলেন এবং রাজ্যে ঘোষণা করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন,"যার ওপরই কোনো অন্যায় বা জুলুম করা হয়েছে, সে যেন এখনই খলিফার দরবারে এসে নিজের অভিযোগ পেশ করে।"
তৎক্ষণাৎ একের পর এক অভিযোগ ও মামলা আসতে লাগল এবং খলিফা পূর্ণ ইনসাফ ও ন্যায়ের সাথে সেগুলোর ফয়সালা করতে লাগলেন।
ভালো কাজে কখনো বিলম্ব বা টালবাহানা করা উচিত নয়। কারণ পরবর্তী মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের জীবন প্রদীপ জ্বলবে কি না, তার কোনো গ্যারান্টি নেই। চলে যাওয়া সময় কখনো আর ফিরে আসে না।
সন্তান যদি সৎ ও দ্বীনদার হয়, তবে সে মা-বাবাকে দুনিয়াবী মোহের ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে এবং আখেরাতের কল্যাণের পথে চালিত করে।
© ibnul bangali
সূত্র: فصل الخطاب في الزهد والرقائق والآداب
মন্তব্যসমূহ