Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ইতিহাস

শবে মেরাজের গোপন রহস্য ভেদ

  মি‘রাজ এক অনন্ত রব্বানী ভেদ। এই ভেদের তলদেশের সীমা-পরিসীমা নেই। মি‘রাজের নিবিড় মিলনের নির্জনতায় এমন নিগূঢ় তথ্য ও রহস্য নিহিত রয়েছে, যা প্রকাশ করা চলে না। সকল রহস্যের অন্তরালে তা চিরদিন সংগোপনে রয়েছে ও থাকবে। এই রহস্যময় দ্বার উদ্ঘাটন করা জিন ও ইনসানের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রাসঙ্গিক ভাবনা মি‘রাজ ঘটনার প্রেক্ষিতে কতগুলি প্রশ্ন জাগে। সংক্ষেপে এসব প্রশ্নের কিছু নিম্নে অবতারণা করা হলো :— ১. মি‘রাজের পুরো আলোচনায় স্পষ্টতঃ প্রমাণিত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে বাইতুল্লাহ (কাবা শরীফ) হতে বাইতুল মোকাদ্দাস এবং সেখান হতে সপ্তাকাশ ও তদূর্ধ্ব জগতে ভ্রমণ করেছেন। আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করে যে, কোন রকেট বা মহাকাশযান প্রতি সেকেন্ডে ০৭ (সাত) মাইল অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় পঁচিশ হাজার দুইশত মাইলের অধিক গতি সম্পন্ন না হলে মধ্যাকর্ষণ শক্তি অতিক্রম করতে পারে না। এই পরিমাণ গতি সম্পন্ন হলেও সেই রকেট বা মহাকাশ যানটি মহাশূন্যে পৌঁছাতে দশ দিন সময় অতিবাহিত হয়। এই হিসেব ধরলেও বোরাকের গতি কমপক্ষে ঘণ্টায় দুই লক্ষ বায়ান্ন হাজার মাইলের উপর ছিল। অত্যন্ত অলৌকিক কল্পনাতীত গতিসম্পন্ন ...

ইবলিশের দ্বিতীয় সন্তান, আউর বা আ‘ওয়ার জীন

  আশ্চর্য হবেন এই জ্বীন সম্পর্কে জানলে! অধিকাংশ মানুষের ধ্বংস হয়েছে, অথচ জানেই না কে টেনেছিল তাকে অন্ধকারে। আমি বলছিলাম ইবলিশের দ্বিতীয় সন্তান, আউর বা আ‘ওয়ার সম্পর্কে। জ্বীন নিয়ে গবেষণা করতে করতে আউর সম্পর্কে যত জানি, ততই অবাক হই। আর মনে মনে দৃঢ় প্রত্যয় করি, আমি এই জ্বীনকে মানুষের কল্যাণে উপস্থাপন করব, যেন মানুষ এখুনি সচেতন হয় এবং বাঁচতে পারে জাহান্নামের সেই অগ্নিচুল্লি থেকে। আমি, ঈশান মাহমুদ, প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেশনের পাশাপাশি ধর্ম, বিজ্ঞান এবং যুক্তির আলোকে মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার চেষ্টা করি। কাজেই আজ সবাইকে অনুরোধ করব—আপনি জানুন এবং সবাইকে জানান, একজন ইসলামের খাদিম হিসেবে। প্রথমত, ইসলামিকভাবে বিষয়টা পরিষ্কার করে, তারপর গবেষণার তথ্য জানাবো।  কুরআন বা সহীহ হাদীসে জ্বীন সম্পর্কে উল্লেখ থাকলেও সরাসরি আউর নাম দিয়ে জ্বীনের উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু কিছু তাবেঈ ও প্রাচীন ইসলামি আলেমদের বর্ণনায় এই জ্বীনের ব্যাপারে বলা আছে। ইবনে কাসীর, ইবনুল জাওযী, কুরতুবী প্রমুখ আলেমদের আলোচনায় উঠে আসে শয়তানের বিভিন্ন সহযোগী বা জ্বীনের নির্দিষ্ট শ্রেণীবিভাগ। আউর জ্বীন হলো তারই একজন। ...

লুমাজা জাতি কারা ?

  স্ত্রী গরমে ঘেমে অনেক সময় নিয়ে চা-নাস্তা বানিয়ে নিয়ে এসেছে। শ্বশুর, শাশুড়ি সবাই বসে খাচ্ছে। স্বামী চা’য়ে চুমুক দিয়ে বিরক্ত হয়ে বলছে, “নাহ, এখনও তুমি মা’র মত চা বানাতে শিখলে না। কতবার বললাম মা’র কাছ থেকে দেখো কতখানি লিকার দিতে হয়। মা! ওকে দেখিয়ে দিয়েন তো কীভাবে চা বানাতে হয়।” ☞ এ হচ্ছে “লুমাযাহ।” ❑ এরা সুযোগ পেলেই মানুষের মুখের উপর তার বদনাম করে। ❑ কারও কোনো দোষ ধরার সুযোগ পেলে সহজে ছেড়ে দেয় না। ❑ সারাদিন একে ধমকানো, ওকে খোঁচা মারা, একে গালি দেওয়া, ওকে ব্যঙ্গ করা, এগুলো হচ্ছে এদের স্বভাব। ❑ এদের নিজেদের দোষের কোনো শেষ নেই। নিজের দোষ ঢাকার জন্য এরা সবসময় অন্যের দোষ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ☞ এদের জিভ হচ্ছে একটা “ধারালোঅস্ত্র।” এই অস্ত্র দিয়ে সারাদিন এরা একের পর এক মানুষের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে। 〰️〰️〰️ আত্মীয় বেড়াতে এসেছে। গল্প করার ফাঁকে জিজ্ঞেস করলো, “আপনার মেয়ে কেমন আছে? ওর বাচ্চাগুলো ভালো আছে?” মা উত্তর দিলেন, “গত সপ্তাহে শুনলাম ওরা অসুস্থ। দেখি শুক্রবারে ফোন করলে বুঝতে পারবো কী অবস্থা?” আত্মীয় অবাক হয়ে বললেন, “শুক্রবারে? আপনার মেয়ে প্রতিদিন আপনাকে ফোন করে না? আমার মেয়ে প্রতিদিন সক...

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত সূচনা

  তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য একাধিক দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সুইডেন জরুরী ভিত্তিতে খাদ্যের মজুদ বাড়াচ্ছে। ইউক্রে‌ন নিয়ে ইতিমধ্যেই রাশিয়া, বেলারুশ, চীন, উত্তর কোরিয়া জোটের বিরুদ্ধে আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গঠিত পশ্চিমা জোটের একধরণের প্রক্সি বিশ্বযুদ্ধ চলছে।  বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র, সামরিক সহায়তা, সামরিক প্রশিক্ষক ইউক্রেনে যাচ্ছে।  নিজেদের জাতীয় বাজেট ব্যাপক কাটছাঁট করে তারা পানির মতো ইউক্রেনে টাকা ঢালছে। এসব দেশে জীবনযাত্রার খরচ অসহনীয়ভাবে বেড়ে গেছে। গরীব দেশগুলোকে দেয়া উন্নয়ন সহায়তা কমতে কমতে নাই হয়ে যাবার অবস্থা। জার্মানি বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালু করার সিরিয়াস চিন্তাভাবনা করছে। চীনের ঘোষিত ২০২৭ সাল‌ পরবর্তী তাইওয়ান যুদ্ধ শুরু হলে এইসব যুদ্ধের বহুগুন ভয়াবহ বিস্তার ঘটবে। একটা উদাহরণ দেই। চীনের অর্থনীতি রাশিয়ার প্রায় ২০ গুণ বড়।  ফলে ইউক্রেন যুদ্ধে পুরো পৃথিবীতে জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে চীন তাইওয়ানে সামরিক অভিযান শুরু করলে আমেরিকা জাপান দক্ষিণ কোরিয়া ফিলিপাইন এবং পশ্চিমা জোট তার বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে‌...

আদালত থেকে খলিফা হারুন অর রশিদের নিকট চিঠি এলো

  আদালত থেকে খলিফা হারুন অর রশিদের নিকট চিঠি এলো: নগরীর বিচারক এক মাস যাবত অসুস্থ। এজন্য বিচারকাজ স্থগিত আছে। খলিফা যেন দ্রুত বিচারক নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। হারুন অর রশিদ চিঠির জবাব পাঠালেন: অতি শীঘ্র নতুন বিচারক কাজে যোগদান করবেন। কয়েকদিন পরের কথা। নতুন বিচারকের অধীনে বিচার কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রহরীরা একজন বৃদ্ধ মহিলাকে আসামী হিসেবে দরবারে হাজির করলেন। তার অপরাধ তিনি শহরের এক রেস্তারাঁ থেকে রুটি আর মধু চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। বিচারক: আপনি চুরি করেছেন? বৃদ্ধা: (মাথা নিচু করে) জি। – আপনি কি জানেন না চুরি করা কত বড় পাপ? – জানি। – জেনেও কেন চুরি করলেন? – কারণ আমি গত এক সপ্তাহ যাবৎ অনাহারে ছিলাম । আমার সাথে এতিম দুই নাতিও না খেয়ে ছিল। আমি ওদের ক্ষুধার্ত চেহারা এবং কান্না সহ্য করতে পারিনি, তাই চুরি করেছি। আমার কাছে এ ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। বিচারক এবার পুরো এজলাসে চোখ বুলালেন। এরপর বললেন, "কাল যেন নগর প্রধান, খাদ্যগুদাম প্রধান, বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ আদালতে উপস্থিত থাকেন। তখন এই মামলার রায় দেওয়া হবে।" পরদিন সকালে স...

শৈশবের মহাবিস্ময়: গাউসুল আজম (রহঃ) ও জীবন-মৃত্যুর সেই কেরামত

  ✨ শৈশবের মহাবিস্ময়: গাউসুল আজম (রহঃ) ও জীবন-মৃত্যুর সেই কেরামত 🌟 পবিত্র জিলান নগরী। ছোট ছোট শিশুরা যখন খেলাধুলায় মত্ত, তখন ছোট্ট আব্দুল কাদেরের খেলা ছিল সবার চেয়ে আলাদা। তাঁর এই খেলাই ছিল কুদরতের এক জীবন্ত দলিল। ১. মাটির পুতুল ও প্রাণের সঞ্চার ছোট্ট আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) প্রতিদিন মাটির কিছু পুতুল তৈরি করতেন। তবে তাঁর এই মাটির পুতুলগুলো সাধারণ মাটির খেলনা হয়ে থাকত না। তিনি যখন সেই পুতুলগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলতেন, “কুম বিইজনিল্লাহ!” (অর্থাৎ, আল্লাহর অনুমতিতে উঠে দাঁড়াও!), তখন মহান আল্লাহর কুদরতে মাটির সেই নিথর পুতুলগুলো প্রাণ ফিরে পেত। তারা শিশুদের মতো নড়াচড়া করত, কথা বলত এবং সারা দিন তাঁর সাথে খেলা করত। আবার সন্ধ্যা হলে তিনি আদেশ দিতেন আগের রূপে ফিরে যেতে, অমনি তারা নিস্তেজ মাটির পুতুল হয়ে যেত। ২. মৃত শিশুর অলৌকিক পুনর্জীবন একই গ্রামের এক দম্পতি তাঁদের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাতুর হয়ে পড়েছিলেন। সন্তান মারা যাওয়ার পর তাঁরা ভাবলেন, “আব্দুল কাদের যদি মাটির পুতুলকে জীবন দিতে পারে, তবে আমাদের সন্তানকেও সে আল্লাহর হুকুমে বাঁচাতে পারবে।” তাঁরা অত্যন্ত বিশ্বাস নিয়ে রাত...

কোরআন ঐশীবাণী না হ‌লে, ১৪০০+ বছর আ‌গে একজন মানুষ কিভা‌বে ই‌ঙ্গিত দি‌তে পা‌রেন

  কোরআন ঐশীবাণী না হ‌লে, ১৪০০+ বছর আ‌গে একজন মানুষ কিভা‌বে ই‌ঙ্গিত দি‌তে পা‌রেন ? পৃ‌থি‌বির ঘুর্ণন বন্ধ হ‌লে দিন ও রাত স্থায়ী হ‌বে এবং পৃ‌থি‌বি বসবা‌সের উপ‌যোগী থাক‌বেনা, যা নি‌য়ে আজ‌কের বিজ্ঞা‌নের বিস্ম‌য়ের সীমা নেই ? আল্লাহ্ ব‌লেনঃ قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَٰهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِضِيَاءٍ ۖ أَفَلَا تَسْمَعُونَ "বলুন, ভেবে দেখ তো, আল্লাহ যদি রাত্রিকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, তবে আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে, যে তোমাদেরকে আলোক দান করতে পারে? তোমরা কি তবুও কর্ণপাত করবে না?" [Say: See ye? If Allah were to make the night perpetual over you to the Day of Judgment, what god is there other than Allah, who can give you enlightenment? Will ye not then hearken?] قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ النَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَٰهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِلَيْلٍ تَسْكُنُونَ فِيهِ ۖ أَفَلَا تُبْصِرُونَ "বলুন, ভেবে দেখ তো, আল্লাহ যদি...

কোন পদ্ধতিতে বাংলা ভাগ হলো?

  কোন পদ্ধতিতে বাংলা ভাগ হলো ? মুফতি গাজী আমিনুল ইসলাম কাসেমী তৎকালীন ব্রিটিশ লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ২ জুন নিজের বাড়িতে তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে একটা মিটিং আয়োজন করলেন।উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাভাগ ও পাঞ্জাবভাগ নিয়ে আলোচনা করা। মিটিংয়ে কংগ্রেস থেকে পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু, সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল, আচার্য কৃপালনি।মুসলিম লীগ থেকে ডাকলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, লিয়াকত আলী খান, আব্দুর রব নিশতারকে।শিখ জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সরদার বল দেব সিং উপস্থিত ছিলেন। সাতজনদের সাথে আলোচনা করলেন বাংলাভাগ করা যায় কি না,আর করলেও কোন পদ্ধতিতে করা হবে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। এই সাতজন একটা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির কথা মাউন্ট ব্যাটেনকে বললেন যে,বাংলার এসেম্বলিতে যত মেম্বার আছেন,হিন্দু অধ্যুষিত মেম্বারদের নিয়ে ও মুসলমান অধ্যুষিত মেম্বারদের নিয়ে আলাদা আলাদা করে মিটিং করা হোক। সেই মিটিং এ যদি হিন্দু/মুসলিম অধ্যুষিত কোনো এক গ্রুপের এমএলএ যদি বাংলাভাগের পক্ষে রায় দেয়,তাহলে বাংলা ভাগ হবে। এমএলএ রা যে রায় দিলোঃ তৎকালীন সময়ে বাংলায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা ছিলো ১৬ টি। নোয়াখালী,চট্টগ্রাম,ত্রিপুরা,বাকেরগঞ্জ,...

আবু সালেহ মূসা জঙ্গি দোস্ত (রহঃ) – জীবনী

  আবু সালেহ মূসা জঙ্গি দোস্ত (রহঃ) – জীবনী আবু সালেহ মূসা জঙ্গি দোস্ত (রহঃ) ছিলেন কোরআন-সুন্নাহ পরিপূর্ণ অনুসারী, অত্যন্ত পরহেজগার, সত্যবাদী ও আল্লাহভীরু একজন মহান ব্যক্তি। তাঁর জন্ম হয়েছিল ইরাকের জিলান অঞ্চলে এক সম্ভ্রান্ত, ধার্মিক ও আলেম পরিবারে। শৈশবকাল থেকেই তিনি দুনিয়াবি ভোগ-বিলাস থেকে দূরে থেকে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করতেন। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন এবং খেজুর বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। আবু সালেহ মূসা (রহঃ)-এর সততা ও সত্যবাদিতার একটি বিখ্যাত ঘটনা ইতিহাসে বর্ণিত আছে— একবার তিনি তাঁর বাগান থেকে খেজুর সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন। পথে একটি স্রোতস্বিনী নদীর পাড়ে তিনি কিছুটা বিশ্রাম নিলেন। সেখানে এক অসহায় বৃদ্ধ এসে তাঁর কাছে খাওয়ার জন্য কিছু চাইলেন। আবু সালেহ (রহঃ) নিজের খেজুর থেকে কিছু খাওয়ার জন্য তাকে দেন। কিন্তু সেই বৃদ্ধ ছিলেন আল্লাহর এক ওলি। তিনি আবু সালেহ (রহঃ)-এর সত্যবাদিতা, দয়া ও পরহেজগারী দেখে অত্যন্ত খুশি হয়ে দোয়া করেন— “আল্লাহ তোমাকে এমন এক সন্তান দান করুন, যিনি সারা দুনিয়ার জন্য হেদায়াতের আলো হয়ে উঠবেন।” এই দোয়ার বরকতেই আবু সালেহ (রহঃ)-এর ঘরে জন্ম নিয়েছিল...

ঐতিহাসিক শহীদি আযানের ৯৪ বছর

   শহীদি  আযানের ৯৪ বছর                         লেখকঃ   মুফতি গাজী আমিনুল ইসলাম কাসেমী হাফিঃ ১৮৪৬ সালে অভিশপ্ত বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মাত্র ৭৫ লাখ রুপির বিনিময়ে মুসলিমদের ভূমিগোটা কাশ্মীর ভূখণ্ডকে আরেক অভিশপ্ত ডোগরা রাজা গুলাব সিং এর কাছে বিক্রি করে দেয়।   ভূমির প্রকৃত মালিক মুসলিমদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার তোয়াক্কা না করে অভিশপ্ত জাতি বৃটিশরা তাদেরই আরেক গোলাম হিন্দু জমিদারদের হাতে মুসলিমদের ভূখণ্ড বিক্রি করে দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই গোটা ভূখণ্ডে অশান্তির দাবানল জ্বলে ওঠে।  এমনই উত্তাল সময়ে কাশ্মীরের উধমপুর জেলায় একজন ব্যবসায়ী ইসলাম গ্রহণ করলে হিন্দুরা তাঁর সম্পত্তি জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে তাঁর হিন্দু ভাইকে দিয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে তিনি মামলা করেন। কিন্তু হিন্দু বিচারক তাঁকে শর্ত দিয়ে বসে- পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে না আসলে তিনি আর নিজের জমির মালিক থাকবেন না। ১৯৩১ সালের এপ্রিল মাসের ২৯ তারিখ। কাশ্মীরের মুসলমানরা ঈদুল ফিতরের নামায আদায় করেন। নামাজের ইমামতি করেন মুফতি মুহাম্মদ ইসহাক। নামাযের পর তিনি তাঁর খুতবায়...