Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ধর্ম

ভণ্ডরা কারা?

 🔎 ভণ্ডরা কারা? লেখক মুফতি গাজী আমিনুল ইসলাম কাসেমী ভণ্ড বা মুনাফিক হলো সেইসব মানুষ যারা মুখে মুসলমান দাবি করে, কিন্তু অন্তরে কুফর, অবিশ্বাস ও শত্রুতা লুকিয়ে রাখে। তারা কখনও প্রকাশ্যে মুসলিমদের মতো চলে, আবার গোপনে শত্রুদের সঙ্গে মিলে মুসলমানদের ক্ষতি করে। 🌐 ভণ্ডদের প্রকাশ্য বৈশিষ্ট্য মুসলমানদের সামনে নামাজ, রোজা, কোরআন পাঠ করে ধার্মিক সাজে। মানুষকে উপদেশ দেয়, অথচ নিজেরা তা মানে না। ইসলামি দাওয়াত বা আলেমের পরিচয়ে নিজেদের সম্মানিত করে তোলে। সমাজে মুসলমানদের বন্ধু সাজে, কিন্তু আড়ালে অন্যদের সঙ্গে মুসলমানদের বিরুদ্ধে চুক্তি করে। প্রতিটি কাজে দ্বিমুখী আচরণ—একজনের সামনে একরকম, আরেকজনের সামনে আরেকরকম। 📖 কোরআনে: “তারা যখন মু’মিনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি।’ আর যখন নিজেদের শয়তানদের সঙ্গে একান্তে থাকে, বলে, ‘আমরা তো তোমাদের সঙ্গেই আছি; আমরা তো শুধু ঠাট্টা-বিদ্রূপ করি।’” (সূরা বাকারা: ১৪) 🕋 ভণ্ডদের গোপন নীতি ও কাজ ইসলামের শত্রুদের খবর দেয়া – মুসলিমদের গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়। অভ্যন্তরীণ বিভেদ সৃষ্টি – মুসলিম সমাজকে টুকরো করার জন্য কাজ করে। কোরআন...

দলের নামে বিভেদ—ইসলামে দলবাজির শিকড় কোথায়?

  ইসলামী বিভ্রান্তি ও করণীয় পর্ব ২: দলের নামে বিভেদ—ইসলামে দলবাজির শিকড় কোথায়? ✦ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী ❝তোমাদের মধ্যে দল-উপদল সৃষ্টি করো না❞ — (সূরা আনআম, ৬:১৫৯) দলবাজি—এই শব্দটা এখন এমন একটা বিষে পরিণত হয়েছে, যা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে বিভাজনের বিষবৃক্ষ রোপণ করেছে। “আমি জামাত করি।” “আমি আহলে হাদীস।” “আমি আহলে কুরআন।” “আমি মাযহাব মানি না।” “আমি শুধুই কুরআন অনুসরণ করি।” এতসব পরিচয়ের ভীড়ে ‘আমি মুসলমান’ পরিচয়টা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে! ❌ ইসলাম কি দল তৈরির অনুমতি দিয়েছে? নবী ﷺ নিজে কখনো কোন রাজনৈতিক বা মাজহাবভিত্তিক দলের নাম দেননি। সাহাবাগণ ছিলেন এক উম্মাহ, এক আকীদার অনুসারী। তাদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল, কিন্তু সে মতবিরোধ বিভেদ সৃষ্টি করেনি। আজকের মুসলমানরা কুরআনের এই আহ্বান ভুলে গেছে— "তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে সবাই মিলে দৃঢ়ভাবে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না" — (সূরা আলে ইমরান, ৩:১০৩) ⚠️ দলবাজির পেছনের কারণসমূহ: ১. অহংকার ও ‘আমরাই সঠিক’ মানসিকতা। ২. নেতৃত্বের লোভ—দীনকে রাজনীতির ঢাল বানানো। ৩. আলেমদের একত্রে না চলার সংস্কৃতি। ৪. জনগণের জ্ঞানহীন...

হিন্দু ধর্মের দর্শন ও কার্যক্রম

  বিধর্মীদের সাকসেস মিশন – পর্ব ২: হিন্দু ধর্মের দর্শন ও কার্যক্রম হিন্দু ধর্মের পরিচয় হিন্দুধর্ম পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ ধর্ম। এটি একক কোনো প্রতিষ্ঠাতা ছাড়া বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা এবং বহুমাত্রিক ধর্মীয় বিশ্বাসের সমন্বয়। হিন্দুধর্মে বিশ্বাস করা হয় জন্ম-মৃত্যু ও পুনর্জন্মের চক্রে, কর্মফলের আইন এবং শেষমেষ মুক্তি (মোক্ষ) লাভের লক্ষ্য। মূল বিশ্বাস ও দর্শন পলিথেইজম (বহুদেবতাবাদ): হাজারো দেব-দেবী ও আত্মার অস্তিত্বের বিশ্বাস। পুনর্জন্ম ও কর্মফল: জীবনের কর্ম অনুসারে পরবর্তী জীবনের পরিস্থিতি নির্ধারিত হয়। মোক্ষের লক্ষ্য: জন্ম ও মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি লাভ করা। বর্ণব্যবস্থা: সমাজকে চারটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করে, যা জাতিভেদের ভিত্তি। ধর্মগ্রন্থ: বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, ভগবদ গীতা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগ্রন্থ। অনলাইন ও আইটি কার্যক্রম মিডিয়া ও বিনোদন: বলিউড সিনেমা, ধর্মীয় ধারাবাহিক ও মিউজিক ভিডিও। যোগ ও ধ্যান অনলাইন কোর্স: ইউটিউব ও বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনে প্রচুর যোগ-ধ্যান বিষয়ক ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদ প্রচার: বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে ভারতের জ...

নাস্তিকদের মূল বিশ্বাস ও জীবনদর্শন ∆

  বিধর্মীদের সাকসেস মিশন – পর্ব ১: নাস্তিকতা ও তাদের দর্শন সংজ্ঞা ও ইতিহাস নাস্তিকতা (Atheism) শব্দটির অর্থ হচ্ছে “ঈশ্বরের অনাস্থা” বা “ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার”। নাস্তিকেরা বিশ্বাস করে যে, এই বিশ্ব ও জীবন কোনও ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি নয়, বরং এটি প্রাকৃতিক নিয়ম ও বিজ্ঞানসম্মত সূত্রে নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়েছে। নাস্তিকতার ধারণা নতুন নয়, প্রাচীন সময় থেকেই বিভিন্ন সভ্যতায় এর বিভিন্ন রূপ দেখা গেছে। তবে আধুনিক নাস্তিকতা মূলত বিজ্ঞান ও যুক্তির উত্থানের সাথে জোরালো হয়েছে, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসকে অন্ধবিশ্বাস বা অজ্ঞতার ফল মনে করা হয়। নাস্তিকদের মূল বিশ্বাস ও জীবনদর্শন ১. ঈশ্বরের অনাস্থা: নাস্তিকরা ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। তারা মনে করে এই ধরনের ধারণা মানুষের কল্পনা বা সামাজিক নিয়মাবলীর অংশ মাত্র। ২. বিজ্ঞান ও যুক্তি: তারা জীবনের, মহাবিশ্বের এবং মানুষের অস্তিত্বের ব্যাখ্যা বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে করে। বিজ্ঞানের পরীক্ষা ও যুক্তিকে প্রধান জ্ঞান উৎস মনে করে। ৩. নৈতিকতার উৎস: নাস্তিকদের মতে, নৈতিকতা বা মূল্যবোধের উৎস কোনও ধর্মীয় বিধান নয়...

ভারতবর্ষে বেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ?।

 -আর্যসমাজ—নাম শুনলেই মনে পড়ে এমন এক ধুরন্ধর অপপ্রচারকারী হিন্দুধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে, যাদের অপপ্রচারের জবাবে বিতর্ক করতে চাইলে টালবাহানা করে নানা শর্তারোপ করে এবং তর্কে এঁটে উঠতে না পারলে গালিগালাজ করে উধাও হয়ে যায়। এটা আর্যসমাজীদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধুমাত্র বর্তমান যুগের আর্যসমাজীরা যে এমন ধুরন্ধর তা কিন্তু নয়; আর্যসমাজের প্রতিষ্ঠা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীও বড় মাপের ধুরন্ধর ছিল। আজ তার লেজ গুটিয়ে পালানোর কাহিনী সম্পর্কে একটু আলোকপাত করব। -ব্রিটিশ-ভারত। গোলামীর শিকলে ভারতবর্ষ আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। ভারতবর্ষের এমন দুর্দিনে আবির্ভাব ঘটে এক নয়া হিন্দুত্ববাদী শক্তির। আর্যসমাজ—স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী যার প্রতিষ্ঠাতা। ভারতবর্ষে বেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই যার অন্যতম লক্ষ্য। এই লক্ষ্যের প্রধান প্রতিবন্ধক মুসলিম জনগোষ্ঠী। সুতরাং, স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী তার পূর্ণ শক্তি নিয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুসলিমের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর কোনো সুযোগই সে হাতছাড়া করত না। লেখালেখি, বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে সে ইসলামবিদ্বেষ ছড়িয়ে যেতে থাকে।  -১৮৭৮ ঈসাব্দের ২৯ জুলাই। স...

কবরের পাশে বসে আছে যে মেয়েটি।

 কবরের পাশে বসে আছে যে মেয়েটি। এটি অন্য কোনো মেয়ে নয়",এটি আমার একমাত্র বোন খাদিজা আক্তার (হুমায়রা) গত ৪ তারিখ আমার বোনের স্বামী রোড এক্সিডেন্টে ইন্তেকাল করেছেন। আমার বোনের হাজবেন্ড ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর একটি থানার সেক্রেটারি; তিনি নিজ থানার একজন রুকন ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মূলত নিজে প্রাণ হারালেন। আর এরাই হলো ইসলামী আন্দোলনের কর্মী।  আমার বোন এ মৃ-ত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেনা🥲🥲 স্বামীর মৃ-ত্যুর খবর শুনে হুঁশ হারিয়ে প্রায় ৮ ঘন্টা বেহুঁশ ছিলেন। দাপন সম্পন্ন করলাম। দাপনের পরের দিন কাউকে না জানিয়ে গোপনে আমার বোন সন্ধ্যার সময় স্বামীর কবরে গিয়ে স্বামীর কবরের সব মাটি নিজে সরিয়ে কবর থেকে স্বামীকে উঠিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে রাখেন। পথিমধ্যে কয়েকজন পরিচিত ও এলাকাবাসী কান্নার আওয়াজ শুনে দৌড়ে যান। গিয়ে দেখতে পায় আমার বোন তার স্বামীকে কবর থেকে উঠিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছেন। সাথে সাথে আমাদের কল দেয় সবাই দৌড়ে গেলাম। বোনকে শান্তনা দিয়ে জোর করে তুললাম। আবার মসজিদের ইমাম সাহেবকে এনে দাপনের ব্যবস্থা করলাম। দাপন করে বোনকে বাসায় আনার পর থেকে কড়া নিরাপত্তায় রাখলাম। অলটাইম বোনকে চোখে চোখে রাখি। প্রতি...

যে মসজিদের আঙিনায় এলেই পালায় জিন!★★

 যে মসজিদের আঙিনায় এলেই পালায় জিন!★★ **মানুষের অস্বাভাবিক আচরণকে ইঙ্গিত করে অনেকেই বলে থাকেন মানুষটিকে বদ জিনে ধরেছে। তাই তাকে সুস্থ করতে ফকির, ওঝা বা এলাকার ইমামকে ডেকে এনে চলে ঝাড়-ফুঁক। গ্রামে গঞ্জে এ দৃশ্যটি খুবই পরিচিত; জিন ছাড়াতে ওঝা আসে, তার এলাহী কাণ্ড দেখতে রোগির বাড়িতে ভিড় জমায় পাড়ার মানুষ। কিন্তু ঢাকার হযরত হাজী খাজা শাহবাজ মসজিদের খাদেম বলছেন, কোন ঝাড়-ফুঁকের দরকার নাই, এই মসজিদের আঙিনায় পা দিলেই মানুষের ওপর আছড় করা জিন নাকি পালিয়ে যায়!এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা নাকি জিনের সঙ্গে এই মসজিদে নামাজও পড়তেন! বাংলা একাডেমি এবং হাইকোর্টের মাঝামাঝি তিন নেতার মাজারের পেছনে অবস্থিত মসজিদটি ১৬৭৯ সালে  নির্মান করেণ ঢাকার ধনাঢ্য বণিক ও সুফি শাহজাদা খাজা শাহবাজ । জনশ্রুতি আছে, তিনি নাকি টঙ্গি থেকে এখানে এসে জিনদের সঙ্গে নামাজ আদায় করতেন। মানুষকে জিনে ধরার ব্যাপারটির কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি না থাকলেও মসজিদের খাদেম রাশেদ হাসান স্বপনের দাবি, এ মসজিদের আঙিনায় পা রাখলেই মানুষের ওপর থেকে জিনে আছর ছুটে যায়।  তিনি বলেন: প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ আসে জিন ছাড়াতে। এখানে পা রাখলেই তারা সম্পুর্...

ইসলামের প্রথম মুয়ায্যিন যিনি ছিলেন ।

  🕋 হযরত বেলাল (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু): যিনি আযানকে সম্মানিত করলেন ✨ পরিচিতি হযরত বেলাল ইবনে রাবাহ (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম সম্মানিত সাহাবি। তিনি ছিলেন একজন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ক্রীতদাস, যিনি ইসলামের প্রথম যুগেই মুসলমান হন। তাঁর ত্যাগ, ঈমানের দৃঢ়তা এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি অসীম ভালোবাসা তাঁকে সাহাবাদের মধ্যে বিশেষ স্থান এনে দিয়েছে। 🌙 ইসলামের প্রথম মুয়ায্যিন হযরত বেলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন ইসলামের প্রথম মুয়ায্যিন। তিনি সেই মহান সাহাবি, যিনি সর্বপ্রথম কাবা শরীফের ছাদে উঠে "আযান" দিয়েছিলেন। তার কণ্ঠের আযান শুনে মদিনার বাতাস পর্যন্ত কাঁপে যেত। রাসূল ﷺ তাকে নিজ হাতে মুয়ায্যিন নিযুক্ত করেছিলেন। নবীজীর প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল এমন, যে যখন রাসুল ﷺ ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি আর মদিনায় আযান দিতে পারেননি। 💔 নবীজীর ইন্তেকালের পর হৃদয়বিদারক ঘটনা হযরত বেলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ ﷺ এর ইন্তেকালের পর এতটাই কষ্ট পেয়েছিলেন যে, তিনি আর মদিনায় থাকতে পারেননি। তিনি বলেছিলেন, "আমি কিভাবে সেই শহরে আযান দিব, যেখা...

হযরত উসমান (রাঃ)-এর কবর, ইতিহাস ও ব্যথার স্মৃতি

 🕋 কারবালার আগেও এক শহীদ খলীফা — হযরত উসমান (রাঃ)-এর কবর, ইতিহাস ও ব্যথার স্মৃতি লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী ❝ কোরআন পাঠরত অবস্থায় রক্তে রঞ্জিত হলেন তৃতীয় খলীফা… ❞ ইতিহাসে এমন এক শাহাদাত, যেখানে আল্লাহর কিতাব হাতে থাকা অবস্থায় মুসলিম উম্মাহর সর্বোচ্চ নেতা শহীদ হন নিজের ঘরে, পিপাসায় কাতর, অথচ যুদ্ধ নয়—উম্মতের ফিতনার ছুরিতেই। তিনি হলেন— > ✦ হযরত উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ✦ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জামাতা, "যার জন্য ফেরেশতারা লজ্জিত" সেই মহান সাহাবি ✦ ইসলামি ইতিহাসের তৃতীয় খলীফা, কুরআনের Mushaf (একত্রিত সংস্করণ) প্রচারের প্রথম পথপ্রদর্শক 📍 কোথায় রয়েছে হযরত উসমান (রাঃ)-এর পবিত্র কবর? ➤ স্থান: জান্নাতুল বাকি (البقیع) — মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত প্রধান ইসলামি কবরস্থান ➤ একটি আলাদা অংশে হযরত উসমান (রাঃ)-এর শাহাদাত হয় এমন এক সময়, যখন মদিনার কিছু বিদ্রোহী মুসলিমদের মধ্যেই বিভ্রান্তি ও ফিতনা ছড়িয়ে দেয়। এই বিদ্রোহীদের কারণে জান্নাতুল বাকি'তে প্রথমে তাঁকে সমাধিস্থ হতে দেওয়া হয়নি। তাই তাঁকে জান্নাতুল বাকি’র সীমানার এক পাশে (একটি ইহুদি কবরস্থানের পাশে) দাফন করা...

ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কিত বর্তমান অবস্থার গবেষণা ও আলোচনা।

 ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কিত বর্তমান অবস্থার  গবেষণা ও আলোচনা।  (গবেষণা মুলক আলোচনা যারা এসব বিষয় চিন্তা  গবেষনা করতে চান শুধু তাদের জন্য।). ১. হাদিস: ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কিত বর্তমান অবস্থার  গবেষণা ও আলোচনা।  একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়তে পড়তে তাঁর গৃহে প্রবেশ করলেন এবং বলতে লাগলেন, শীঘ্রই একটি দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি হবে। এতে আরবের ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী। ইয়াজুজ ও মাজুজের দেয়ালে এতটুকু পরিমাণ ছিদ্র হয়ে গিয়েছে, এ কথা বলে দু’টি আঙ্গুল গোলাকার করে দেখালেন। যাইনাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ, আমরা কি (ইয়াজুজ মাজুজের আক্রমণ দাঁড়া) ধ্বংস হয়ে যাবো, অথচ আমাদের মাঝে অনেক সৎ ব্যক্তি আছেন?” জবাবে তিনি বলেন: “হ্যাঁ, যখন মন্দ লোকের সংখ্যা বেড়ে যাবে।”[সহীহ ইবনু হিব্বান হা/৩২৭, সনদ সহীহ; সহীহ বুখারী: ৩৩৪৬] যখন অশ্লীলতা বেড়ে যাবে।[সহীহ বুখারী হা/৩৫৯৮, সনদ সহীহ] যখন পাপাচার বেড়ে যাবে।[সহীহ বুখারী হা/৭০৫৯, সনদ সহীহ]  উক্ত হাদিসের নিদর্শন বুঝায় ইয়াজুজ-মাজুজ আল্লাহর রাসুলুল্লাহ সাঃ এর পরেই বেড়ি...

সুরা বাকারার প্রতিশোধ - জ্বীন: পর্ব ৪

  জ্বীন: পর্ব ৪ — সুরা বাকারার প্রতিশোধ সম্পাদক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী রাত গভীর, পুরো গ্রামে অদ্ভুত এক অস্থিরতা। গবাদিপশু চিৎকার করছে, ঘরে ঘরে বাচ্চারা আতঙ্কে ঘুম থেকে উঠছে। 📿 ফাইয়াজ এশার নামাজ শেষ করে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়ছিল। হঠাৎ খেয়াল করল, তার ঘরের জানালার পর্দা হঠাৎ টান মেরে খুলে পড়ল মেঝেতে। একটি শব্দ কানে এল — যেন কেউ বলছে, "এই আয়াত আবার পড়ো..." 📖 সে জোরে জোরে পড়ে যেতে লাগল: "آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ..." সে যতই পড়ে, ঘরের হাওয়া বদলে যেতে থাকে — যেন ভারি এক অদৃশ্য উপস্থিতি হালকা হয়ে যাচ্ছে। তারপর, বাড়ির পেছনে থাকা শুকনো পুকুর থেকে এক গলা চিৎকার: "তুই যাকে ডাকছিস, সে তো শুধু মানুষদের জন্য পাঠানো হয়নি!" 🌙 ফাইয়াজ বুঝে গেল — সূরা বাকারা শুধু রক্ষা নয়, এই আয়াতগুলো জ্বীনদের মাঝে ভয় তৈরি করে। 📖 শিক্ষা: ▪️ সূরা বাকারা, বিশেষ করে শেষ দুই আয়াত — ঘরকে জ্বীন-শয়তান থেকে হেফাজত করে ▪️ জ্বীনরাও জানে কুরআনের শক্তি, তাই তারা তা এড়াতে চায় ▪️ একজন মুমিনের অন্তরের সাহস, তার মুখের কুরআনের সুর — সবচেয়ে বড় ঢাল Publ...

গাজায় ত্রাণকেন্দ্রে গুলি – ইসরায়েলি সেনারা জনড়ে গুলিচালনা!

  🎯 গাজায় ত্রাণকেন্দ্রে গুলি: ইসরায়েলি সেনাদের বর্বর "ভিড় নিয়ন্ত্রণ" পদ্ধতি! 🩸 খাবার নয়, গুলি—এটাই গাজার বর্তমান বাস্তবতা খাবার, পানি, ওষুধের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালাচ্ছে —এবার সরাসরি সেই তথ্যই তুলে ধরেছেন ইসরায়েলেরই প্রভাবশালী দৈনিক Haaretz -এর সাংবাদিক নীর হাসন । কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera শুক্রবার (২৭ জুন) এই ভয়াবহ তথ্য ফাঁস করেছে। 🔫 কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েল? ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে একটি তথাকথিত ‘crowd control by fire’ নামক পদ্ধতি চালু রয়েছে—যেখানে অস্ত্র ব্যবহার করে নিরস্ত্র মানুষের ভিড় ছত্রভঙ্গ করা হয় । সাংবাদিক নীর হাসন বলেন: "তারা জানে এই মানুষগুলো নিরস্ত্র। তবুও তারা গুলি করে। তারা জানে মানুষগুলো খাদ্য চাইছে, বাঁচতে চাইছে। কিন্তু সেনারা গুলি ছোড়ে যাতে লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।" এই বক্তব্য ইসরায়েলের মাটিতেই দাঁড়িয়ে বলা , আন্তর্জাতিক সংবাদজগতের এক ঐতিহাসিক স্বীকারোক্তি! 🧨 প্রতিদিন চলে গণহত্যা শুধুমাত্র মে ও জুন মাসেই ৫০০+ মানুষ গুলিতে নিহত হয়েছে যখন তারা ত্রাণ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। আল জাজিরা...

“বাংলাদেশে ২০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পরিকল্পনা: ২০৩০ সালের লক্ষ্য”

  ⚡ নবায়নযোগ্য শক্তির অভিযাত্রা: বাংলাদেশের “দুপুরের রোদের আশা” 🟢 🎯 মহাকর পরিকল্পনা: লক্ষ্যমাত্রা ও চাহিদা । । 🏦 এত টাকা কোথা থেকে আসবে? । । । । 🛠️ সমস্যা সমাধানের পথ । । । । । । 🌱 বর্তমান অফার ও বাস্তবতা । । । 🔎 পরিমাণ ও সিদ্ধান্ত ২০৪০ সালের রূপকল্পে ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ না হলে, বাংলাদেশের ২০–৩০% নবায়নযোগ্য শক্তির লক্ষ্যমাত্রা শুধু স্বপ্নেই সীমাবদ্ধ , ফসল্য বিদ্যুৎ নির্ভরতা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির বিপদ—সবাই অব্যাহত থাকবে। সুতরাং: এখনই প্রয়োজন নীতি স্থিতিশীলতা , বাজারে বিশ্বাস , বৃহৎ বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আর গ্রিড তথা ইনফ্রা উন্নয়ন । ✍️ চূড়ান্ত কথা বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তিতে দ্রুত রূপান্তর সম্ভব । কিন্তু সেটা হবে যদি আমরা: নীতিতে নির্ভরযোগ্যতা আনব বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিটা কমাব সরকার–বেসরকারি–আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে বাজি ধরব তাহলে ২০৩০–৪০ যে নবায়নযোগ্য রূপকারের রোদের ছবি কিন্তু সেটা থাকবে না শুধু বাতাসে; বাস্তবে প্রতিদিনের ঘরে ঘরে পৌঁছাবে! 📌  AL FATIHA FOUND...

একটা জীবন শেষ

🚲 আরেকজন সাইকেলিস্ট হারিয়ে গেলো… আমাদের ভাই ছিল সে। একটা ছেলে… বয়স মাত্র ১৫ থেকে ১৭। সে দিনটিতে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল খুব স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু হঠাৎ— এক বখে যাওয়া, ধনী পরিবারের ছেলে, যার বয়স হয়তো নবম শ্রেণির ছাত্র মাত্র, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে তার উপর দিয়ে তুলে দিলো। এক মুহূর্ত। একটা জীবন শেষ। একটা মা-র বুক খালি। একটা বাবার ভরসা চিরতরে শেষ। একটা ভাই আর ঘরে ফিরবে না। আমি নিজেও একজন সাইকেলিস্ট… এই ঘটনা বুকটা কাঁপিয়ে দেয় আমরা যারা সাইকেল চালাই, আমরা জানি এই রাস্তাগুলো কেমন। আমরা নিয়ম মেনে চলি, হেলমেট পরি, সতর্ক থাকি। কিন্তু পেছন থেকে আসা এক গাড়ির অন্ধ গতিতে সব শেষ হয়ে যায়। আজ সে মারা গেছে। কাল হয়তো আমি… কাল হয়তো আপনি… আমাদের হৃদয় থেকে একটি অনুরোধ 🙏 যারা গাড়ি চালান—আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ: একটু ধৈর্য ধরুন। একটু মানবতা দেখান। আপনার রাগ, গতি, মুঠোফোনের স্ক্রল—সবকিছুর চেয়ে একটি জীবনের দাম অনেক বেশি। এই ছেলে মারা গেছে, কিন্তু এ দায় আমাদের সমাজের। আমরা চুপ থাকলে, এই মৃত্যু আবারও ঘটবে। আমরা তাকে ভাই বলতাম আমরা যারা সাইকেল চালাই, তারা একে অন্যকে ভাই ভাবি। আ...

শাহী বাঙ্গালাহ: পর্ব ৩

"যে বাংলার ধ্বনি শোনা যেত আরব, পারস্য ও চীনের দরবারেও…" ইলিয়াস শাহের হাত ধরে গড়ে উঠেছিল শাহী বাঙ্গালার ভিত্তি। কিন্তু সেই ভিত্তিকে পরিণত করেছিলেন তাঁর বংশধরেরা—বিশেষ করে তাঁর প্রপৌত্র জালালুদ্দীন ফতেহ শাহ , যার শাসনে বাংলার সালতানাত পৌঁছায় গৌরবের এক অনন্য শিখরে। সে সময় বাংলা শুধু স্বাধীন ছিল না—ছিল আত্মবিশ্বাসী, প্রতাপশালী ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। ▣ বাংলার মুদ্রায় লেখা হতো কুরআনের আয়াত স্বাধীনতার স্বাক্ষর হিসেবে বাংলার সুলতানরা চালু করেছিলেন নিজস্ব মুদ্রা। সে মুদ্রায় কেবল সুলতানের নাম নয়, খচিত থাকত "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" । এই ছিল বাংলার আত্মপরিচয়। এই ছিল শাহী বাঙ্গালাহ—যার অর্থনীতি, শিক্ষা, ও সংস্কৃতিতে ছিল দীপ্ত ইসলামি চেতনার স্পষ্ট ছাপ। ▣ বাংলার বন্দর ছিল আন্তর্জাতিক সংযোগস্থল চট্টগ্রাম, সাতগাঁও ও হুগলি বন্দরে ভিড় করত আরব, ফারসি ও চীনা জাহাজ। শিল্প, সূতিবস্ত্র, গন্ধদ্রব্য, ও মশলার জন্য বাংলার নাম ছড়িয়ে পড়ে দূর প্রাচ্যে। এমনকি চীনের মিং সাম্রাজ্য বাংলার সুলতানের কাছে উপহার পাঠাত—এটিই প্রমাণ, যে বাংলা তখন বিশ্বমঞ্চে ...

শাহী বাঙ্গালাহ: পর্ব ২

"যে সময়ে দিল্লির সিংহাসনে দুর্বলতা, সেই সময়ে বাংলা নিজের হাতেই তুলে নিয়েছিল শাসনের মশাল।" ইতিহাসের পাতায় ১৩৪২ সাল—একটি বছর, যেটি বাংলার জন্য মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই বছরেই দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, একজন বাঙালি মুসলমানের নেতৃত্বে শুরু হয় বাংলার স্বাধীন মুসলিম শাসনের যাত্রা। তিনি ছিলেন— ইলিয়াস শাহ । একজন সাধারণ সৈন্য থেকে নিজ যোগ্যতায় উঠে আসা এই নেতা, বাংলা একত্রিত করে গড়ে তুলেছিলেন স্বাধীন ইলিয়াস শাহী সালতানাত । উত্তরে গৌড়, দক্ষিণে চট্টগ্রাম, পশ্চিমে রাজমহল থেকে পূর্বে সিলেট—সমগ্র বঙ্গজুড়ে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। ইলিয়াস শাহ শুধু একজন শাসক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলার ঐক্যের প্রতীক। তিনি ইসলামি শিক্ষা, সাহিত্য, স্থাপত্য এবং প্রশাসনে এমন এক ধারা তৈরি করেন, যার ভিত্তির উপর পরবর্তীতে দাঁড়িয়ে যায় পুরো শাহী বাঙ্গালাহ । কী ছিল এই শাসনের বৈশিষ্ট্য? স্বাধীন মুদ্রা: বাংলার নিজস্ব সুলতানি মুদ্রা চালু হয়, যেখানে খচিত ছিল ইসলামি কালেমা। ইসলামী বিচারব্যবস্থা: শরিয়া ভিত্তিক আইন চালু হয় আদালতে। জ্ঞানচর্চা: মাদ্রাসা, লাইব্রেরি, ও আলেমদের প্রতিষ্ঠা শুরু হ...

শাহী বাঙ্গালাহ: পর্ব ১

  "যখন সারা দুনিয়ার চোখ ইউরোপে, তখন এশিয়ার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল একটি নাম—বাঙ্গালাহ সালতানাত।" ১৪১৫ ঈসাব্দ। ইউরোপ তখন অন্ধকার যুগ পেরিয়ে ধীরে ধীরে জ্ঞানের আলোয় পা দিচ্ছে। আর এশিয়ার মানচিত্রে—সেই সময়ে এক গর্বিত, স্বাধীন, ও শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রের নাম উঠে এসেছে–"Bangala", অর্থাৎ বাঙ্গালাহ সালতানাত। তখন ভারতবর্ষের বহু অঞ্চল মুঘল কিংবা দিল্লি সালতানাতের অধীনে, আর দূরে পশ্চিমে অটোমানরা জমিনে খিলাফতের ভিত রচনায় ব্যস্ত। ঠিক এমন এক যুগে, বঙ্গোপসাগরের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের এই ভূখণ্ড ছিল স্বাধীন, সমৃদ্ধ এবং ইসলামী শাসনের গৌরবে দীপ্ত। তুর্কি, আরবি ও ফারসি মানচিত্রে এই নামটি উঠে এসেছে মর্যাদার সাথে। বিদেশিরা যাকে বলেছে "The Kingdom of Bangala", আমরা তাকে বলি "শাহী বাঙ্গালাহ"—একটি জাতির ইতিহাস, এক উম্মাহর সম্মান। তোমরা জানো কি, ঐতিহাসিক মানচিত্রে এই নাম কীভাবে উঠে এসেছিল? এই ভূখণ্ড কতখানি বিস্তৃত ছিল? কে ছিলেন সে সময়ের শাসক? কীভাবে এই বাংলায় গড়ে উঠেছিল ইসলামি সভ্যতা, স্থাপত্য, বিচারব্যবস্থা, ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি? এই প্রশ্নগুলোর উত্...

ঈদুল আযহা ও গাজা

🌙 ঈদুল আযহা ও গাজা: কুরবানির পশুর রক্ত নয়, এটি শহীদদের রক্ত! 💔 📖 Al-Fatiha Muslim World থেকে এক হৃদয়বিদারক প্রতিবেদন --- 🕋 “ঈদ” মানেই আনন্দ। “কুরবানী” মানেই ত্যাগ। কিন্তু ২০২৫ সালের এই ঈদুল আযহা একেবারেই ভিন্ন। মুসলিম বিশ্ব যখন ত্যাগের মহিমা স্মরণ করে পশু কুরবানিতে ব্যস্ত, 📍 তখন গাজার রাস্তায় গড়িয়ে পড়ছে আরেক কুরবানির রক্ত— শহীদ ভাইদের রক্ত। --- 🩸 ঈদের দিনে ৫০+ শহীদ! এই বছর ঈদের ঠিক আগের দিন, ঈদের দিনে এবং ঈদের পরদিন, ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় গাজায় শহীদ হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনি। তাদের মধ্যে শিশুও আছে, নারীও আছে, বৃদ্ধও আছে। অনেকে নামাজরত অবস্থায়, কেউ পরিবার নিয়ে ঘুমাচ্ছিল। কুরবানির ছুরি চালানো হয়নি গরুর গলায়— চালানো হয়েছে নিষ্পাপ শিশুদের বুকে। --- 🎯 কোথায় মানবতা? ⚖️ বিশ্বের মিডিয়া চুপ। 🧊 মানবাধিকার সংস্থারা নিঃশব্দ। 📵 মুসলিম রাষ্ট্রগুলো নিস্তব্ধ। আর আমরা… ঈদের সেলফি আর নতুন জামার গল্পে ব্যস্ত। --- 🕋 ঈদ মানে কি শুধু গরু? ঈদের অর্থ তো শুধু পশু জবাই নয়, 🎗️ ঈদ মানে সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি আল্লাহর রাহে উৎসর্গ করা। 🎗️ ঈদ মানে—ইবরাহিম (আ.) এর মতো আত্মত্যাগ। তবে আজ ফি...

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শরীর ঝাঁকুনি কেন হয়?

💤 ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শরীর ঝাঁকুনি কেন হয়? – রহস্য, ব্যাখ্যা ও ইসলামী বিশ্লেষণ 📖 Al-Fatiha Muslim World থেকে বিশেষ প্রতিবেদন --- 🌙 আমরা প্রায় সবাই একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি—ঘুমাতে যাবার সময় হঠাৎ মনে হয় শরীর নিচে পড়ে যাচ্ছে, আর সঙ্গে সঙ্গে পুরো শরীর এক ধাক্কায় কেঁপে উঠে যায়। এটা কি জিন-ভূতের প্রভাব? নাকি কোনো রোগের উপসর্গ? অথবা এটা স্রেফ শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া? চলুন এই বিষয়টি গভীরভাবে বুঝে নিই— বিজ্ঞানের আলো, ইসলামের ব্যাখ্যা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে। --- 🔬 বৈজ্ঞানিক ভাষায় একে কী বলে? এই ঘটনাকে বলা হয়: ➡️ Hypnic Jerk বা Sleep Start 🧠 ঘুমের প্রাথমিক স্তরে (Stage 1 NREM Sleep) আমাদের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে রিল্যাক্স হতে থাকে। কিন্তু কিছু কিছু সময় মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে যায়— ভাবে আপনি পড়ে যাচ্ছেন! তখন শরীর সতর্কতা পাঠিয়ে দেয় এবং দ্রুত একটি রিফ্লেক্স জাগে— যা ঝাঁকুনির মতো মনে হয়। --- 📌 সাধারণ কারণসমূহ: 1. ☕ অতিরিক্ত ক্যাফেইন 2. 😰 মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা 3. 😴 অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঘুমের ঘাটতি 4. 💡 রাত জাগা বা ঘুমের সময় এলোমেলো হওয়া 5. 📱 ঘুমের আগে মোবাইল/স্ক্রিন ব্যবহার...

হজ ও কুরবানীর মাসআলা

 হজ ও কুরবানীর মাসআলা: বিস্তারিত গাইড (২০২৫) > বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম হজ এবং কুরবানী—দুইটি মহান ইবাদত যা ত্যাগ, আনুগত্য এবং আত্মশুদ্ধির প্রতীক। এই পোস্টে হজ ও কুরবানীর বিস্তারিত মাসআলা আলোচনা করা হলো, যেন মুসলিম ভাই-বোনেরা সঠিকভাবে তা আদায় করতে পারেন। --- 🕋 হজের মাসআলা ১. হজ ফর হওয়ার শর্ত ইসলাম গ্রহণকারী প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ও আর্থিকভাবে সক্ষম মহরাম সঙ্গী (মহিলাদের জন্য) হজ করার পথ নিরাপদ হওয়া ২. হজের তিন প্রকার ইফরাদ: শুধু হজ কিরান: উমরা ও হজ একত্রে তামাত্তু: উমরা করে ইহরাম খুলে হজ করা ৩. হজের ফরজ ইহরাম আরাফায় অবস্থান তাওয়াফে জিয়ারত ৪. ওয়াজিবসমূহ সাফা-মারওয়া সাঈ মুযদালিফায় রাত যাপন জামারাতে কংকর নিক্ষেপ পশু কুরবানী (তামাত্তু বা কিরানের জন্য) তাওয়াফে বিদা ৫. নিষিদ্ধ কাজ (ইহরাম অবস্থায়) চুল/নখ কাটা সুগন্ধি ব্যবহার শিকার করা বিবাহ সংক্রান্ত কিছু 🐄 কুরবানীর মাসআলা ১. কুরবানী ফরজ না, কিন্তু ওয়াজিব (হানাফি মতে) নেসাব পরিমাণ মালিক হলে ঈদুল আযহার দিন তিন দিনের মধ্যে করা ২. কুরবানীর পশু নির্বাচনের শর্ত ছাগল, ভেড়া – ১ বছর গরু, মহিষ – ২ বছর উট – ৫ বছর ত্রুটিমুক্ত ও সুস্থ...