Skip to main content

ভণ্ডরা কারা?

 🔎 ভণ্ডরা কারা?

লেখক মুফতি গাজী আমিনুল ইসলাম কাসেমী

ভণ্ড বা মুনাফিক হলো সেইসব মানুষ যারা মুখে মুসলমান দাবি করে, কিন্তু অন্তরে কুফর, অবিশ্বাস ও শত্রুতা লুকিয়ে রাখে। তারা কখনও প্রকাশ্যে মুসলিমদের মতো চলে, আবার গোপনে শত্রুদের সঙ্গে মিলে মুসলমানদের ক্ষতি করে।


🌐 ভণ্ডদের প্রকাশ্য বৈশিষ্ট্য

  1. মুসলমানদের সামনে নামাজ, রোজা, কোরআন পাঠ করে ধার্মিক সাজে।
  2. মানুষকে উপদেশ দেয়, অথচ নিজেরা তা মানে না।
  3. ইসলামি দাওয়াত বা আলেমের পরিচয়ে নিজেদের সম্মানিত করে তোলে।
  4. সমাজে মুসলমানদের বন্ধু সাজে, কিন্তু আড়ালে অন্যদের সঙ্গে মুসলমানদের বিরুদ্ধে চুক্তি করে।
  5. প্রতিটি কাজে দ্বিমুখী আচরণ—একজনের সামনে একরকম, আরেকজনের সামনে আরেকরকম।

📖 কোরআনে:
“তারা যখন মু’মিনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি।’ আর যখন নিজেদের শয়তানদের সঙ্গে একান্তে থাকে, বলে, ‘আমরা তো তোমাদের সঙ্গেই আছি; আমরা তো শুধু ঠাট্টা-বিদ্রূপ করি।’” (সূরা বাকারা: ১৪)


🕋 ভণ্ডদের গোপন নীতি ও কাজ

  1. ইসলামের শত্রুদের খবর দেয়া – মুসলিমদের গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়।
  2. অভ্যন্তরীণ বিভেদ সৃষ্টি – মুসলিম সমাজকে টুকরো করার জন্য কাজ করে।
  3. কোরআন-হাদিসকে বিকৃত ব্যাখ্যা করা – নিজেদের স্বার্থে আয়াত বা হাদিস ব্যবহার করে।
  4. ইসলামের নামে ব্যবসা – মানুষের সরল বিশ্বাসকে টাকার বা প্রভাবের হাতিয়ার বানায়।
  5. ভয় ও কাপুরুষতা – বিপদে পড়লে মুসলমানদের ছেড়ে দেয়, শত্রুর দলে যোগ দেয়।

📖 আল্লাহ বলেন:
“তুমি যদি তাদের দেখ, তবে তাদের দেহাবয়ব তোমাকে বিস্মিত করবে, আর যদি তারা কথা বলে তবে তুমি তাদের কথা শুনবে। তারা যেন দেয়ালে ঠেস দেয়া কাঠের গুঁড়ি…” (সূরা মুনাফিকুন: ৪)


⚖️ ভণ্ডদের অন্তরের রোগ

  • তাদের অন্তরে বিশ্বাস নেই, শুধু সন্দেহ আর শয়তানের ফিসফিসানি আছে।
  • ঈমানের আলো নিভে গেছে, তাই তারা সবকিছু দুনিয়ার স্বার্থে মাপে।
  • দুনিয়ার সম্মান, পদ-পদবি, টাকা-পয়সাই তাদের মূল লক্ষ্য।

🔥 আখিরাতে ভণ্ডদের পরিণতি

ভণ্ডদের শাস্তি সবচেয়ে কঠিন হবে।

📖 আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয়ই ভণ্ডরা জাহান্নামের সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকবে, আর তুমি কখনো তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে না।” (সূরা নিসা: ১৪৫)

রাসূল ﷺ বলেছেন:
ভণ্ডের তিন নিদর্শন:
১. কথা বললে মিথ্যা বলে।
২. অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে।
৩. আমানত পেলে খিয়ানত করে। (বুখারি, মুসলিম)


🕌 শেষকথা

ভণ্ডরা প্রকাশ্যে ধার্মিক সাজে, গোপনে কুফর ও শত্রুতা লুকিয়ে রাখে। তারা মুসলিম সমাজে বিভেদ ছড়ায়, ইসলামের নামে ব্যবসা করে, আর আল্লাহর দ্বীনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে।

👉 তাই মুসলমানদের উচিত তাদের চেহারা দেখে প্রতারিত না হওয়া, বরং কোরআন-হাদিসে বর্ণিত লক্ষণ দ্বারা তাদের চিনে দূরে থাকা।


সরকারি লেখক মুহাম্মাদ মুহিবুল্লাহ 

Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...