Skip to main content

Posts

Showing posts from August, 2025

শায়খ আহমাদু বাম্বা (রহ.)—নির্বাসনের পথ ও আধ্যাত্মিক বিজয়

  বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম শায়খ আহমাদু বাম্বা (রহ.)—নির্বাসনের পথ ও আধ্যাত্মিক বিজয় শায়খ আহমাদু বাম্বা (রহ.), যিনি সেরিন তুবা নামে বেশি পরিচিত, তিনি পশ্চিম আফ্রিকার ইতিহাসে ইসলামী চেতনা, সুফি আধ্যাত্মিকতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের উজ্জ্বল প্রতীক। সেনেগালের এই মহাপুরুষ উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এমন সময়ে আবির্ভূত হন, যখন ফরাসি ঔপনিবেশিক শক্তি মুসলিম সমাজকে ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেরিন তুবা কলম, কবিতা, শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে ইসলামকে জীবন্ত করে তোলেন। তাঁর জীবন আমাদের শিখিয়ে দেয়, ঈমান ও জ্ঞান দিয়ে কিভাবে দুনিয়ার যেকোনো শত্রুর মোকাবিলা করা যায়। নির্বাসনের শুরু ১৮৯৫ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর, ফরাসি সেনারা শায়খ আহমাদু বাম্বাকে ডাকারে নিয়ে আসে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে নির্বাসনে পাঠানো। তিনি প্রথমে সেনেগাল থেকে গ্যাবনের দিকে রওনা হন। ফরাসিরা ভেবেছিল, তাঁকে দূরবর্তী জঙ্গলে পাঠালে তিনি হারিয়ে যাবেন, কিংবা তাঁর মৃত্যু হবে। কারণ, আগে যারা সেনেগাল থেকে গ্যাবনে নির্বাসিত হয়েছিল, তারা আর কখনো ফিরে আসেনি। গ্যাবনের জঙ্গল ছিল ভয়ংকর জন্তু-জানোয়ারে ভরা এ...

সুরা আদ-দোহাকে আপনি কীভাবে পড়েন?

সুরা আদ-দোহাকে আপনি কীভাবে পড়েন?                       Arif azad  কুরআনের এই বিশেষ সুরাটিকে নানানভাবে বুঝবার সুযোগ রয়েছে। তাফসির বিশারদগণ নানান বৈচিত্রময় দিক থেকে সুরাটিকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন। অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়, আলোকোজ্জ্বল ভোর নিকটবর্তী। দুঃখ চিরস্থায়ী নয়, সুখ অত্যাসন্ন। কষ্টের পরেই আসে সুখ। দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, আখিরাতের জীবনের আনন্দই সত্যিকারের সফলতা—এমনসব সুখকর, অনুপ্রেরণাদায়ী কথামালায় সাজানো সেইসব ব্যাখ্যা। হতাশায় নিমজ্জিত অন্তরকে জাগিয়ে তুলতে এই সুরা যেন এক মহৌষধের মতো কাজ করে আমাদের জীবনে। সমস্ত আশা হারিয়ে ফেলে যে হৃদয় হাঁবুডুবু খাচ্ছে অন্ধকারের অতল গহ্বরে, সেই হৃদয়কে আনন্দের মোহনায় টেনে আনতে সুরা আদ-দোহা যেন বিকল্পহীন।   আরেকটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকেও সুরা আদ-দোহাকে বোঝার সুযোগ রয়েছে বলে আমার ধারণা। আমার এই ধারণা পূর্বের ব্যাখ্যাগুলোর সাথে কোনোভাবে সাংঘর্ষিক নয়, বরং সেগুলোর পরিপূরক। সুরা আদ-দোহা থেকে আমরা অনুপ্রেরণাটুকু কেবল নিয়ে থাকি, কিন্তু কোনো কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করি না। আমার ধারণা—এই সুরার মধ্যে আল্লা...

১৪০০ বছর আগে লেখা কুরআনুল কারীম

  কুরআন মজিদ  অথবা  কুরআ-ন মাজী-দ  বা  কোরআন  ( আরবি :  القرآن   আল্-কুর্'আ-ন্ [টী১] )  ইসলাম ধর্মের  পবিত্র  ধর্মগ্রন্থ , যা  আল্লাহর  বাণী । [ ১ ]  এটিকে  আরবি  শাস্ত্রীয় সাহিত্যের সর্বোৎকৃষ্ট রচনা বলে মনে করা হয়। [ ২ ] [ ৩ ] [ ৪ ] [ ৫ ]  কুরআনকে প্রথমে অধ্যায়ে (আরবিতে  সূরা ) ভাগ করা হয় এবং  অধ্যায়গুলো  ( সূরা )  আয়াতে  বিভক্ত করা হয়েছে। ব্যুৎপত্তি ও অর্থ এই কিতাব আল্লাহর  ফেরেশতা   জিবরাঈল  এর মাধ্যমে ইসলামিক নবি  মুহাম্মাদ  এর কাছে মৌখিকভাবে ভাষণ আকারে কুরআনের আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেন, [ ৬ ] [ ৭ ]  দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে সম্পূর্ণ কুরআন অবতীর্ণ হয়। কুরআনের প্রথম আয়াত অবতীর্ণ হয় ৬০৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর যখন মুহাম্মাদের বয়স ৪০ বছর [ ৮ ]  এবং অবতরণ শেষ হয় মুহাম্মাদের তিরোধানের বছর অর্থাৎ ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে। [ ১ ] [ ৯ ] [ ১০ ]  মুসলমানরা বিশ্বাস করে থাকেন কুরআন হচ্ছে মুহাম্মদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ  অলৌকিক ঘটনা  যা তার...

দানে বাড়ে ধন ||

  দানে বাড়ে ধন ছাদিক আতফাল সে অনেক আগের কথা। আজ থেকে এক-দুই যুগ ?  না। এক-দুই শতাব্দী ?  তা-ও না! প্রায় দু ’ হাজার বছর আগের গল্প। সুদূর আরবের ইয়েমেন রাজ্যের রাজধানী  ‘ ছানআ ’ । তার থেকেও ছয় মাইল দূরে অবস্থিত  ‘ যারওয়ান ’ । সেথায় থাকতেন এক জমিদার। ধনেজনে তার কোনো কমতি ছিল না। অঢেল সম্পদের পাশাপাশি মনটাও ছিল তার বেশ উদার। ন্যায়পরায়ণ ও নিষ্ঠাবান এ জমিদার অত্যন্ত নেককার আল্লাহওয়ালা ছিলেন। আল্লাহর বান্দাদের মুখে হাসি ফোটানোর মাঝেই যেন জীবনের সার্থকতা খুঁজে পেতেন। বাড়ীর অদূরেই ছিল জমিদারের বিশাল খামার। মাঠভরা ফসল আর গাছভরা ফল- সকলের দৃষ্টি কেড়ে নিত। মনোরম বাগানের পাতানো মাচাগুলো যেন টসটসে আঙ্গুরের থোকায় নুইয়ে পড়ত। মাঠঘিরে খর্জুর বৃক্ষের সুবিশাল সারি গোটা ময়দানটাকে পাহারা দিত। আর মৌ-ভোমরের গুঞ্জরণ ও পাখ-পাখালির কলকাকলি যেন শেষই হতে চাইত না। জমিদারের মনে এতে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যেত। লোকেরাও খুশি হত ঢের। কারণ সে এবার তাদেরকে খুব দিতে পারবে। কোঁচড় ভরে দিতে পারবে। আর তারাও তার জন্য দুআ করবে। একেবারে প্রাণখুলে। এভাবে সৃষ্টির সেবায় স্রষ্টা খুশি হয়ে পরের বছর আরো দেবেন। আর জম...