Skip to main content

Posts

Showing posts with the label নিখোঁজ

কবরের পাশে বসে আছে যে মেয়েটি।

 কবরের পাশে বসে আছে যে মেয়েটি। এটি অন্য কোনো মেয়ে নয়",এটি আমার একমাত্র বোন খাদিজা আক্তার (হুমায়রা) গত ৪ তারিখ আমার বোনের স্বামী রোড এক্সিডেন্টে ইন্তেকাল করেছেন। আমার বোনের হাজবেন্ড ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর একটি থানার সেক্রেটারি; তিনি নিজ থানার একজন রুকন ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মূলত নিজে প্রাণ হারালেন। আর এরাই হলো ইসলামী আন্দোলনের কর্মী।  আমার বোন এ মৃ-ত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেনা🥲🥲 স্বামীর মৃ-ত্যুর খবর শুনে হুঁশ হারিয়ে প্রায় ৮ ঘন্টা বেহুঁশ ছিলেন। দাপন সম্পন্ন করলাম। দাপনের পরের দিন কাউকে না জানিয়ে গোপনে আমার বোন সন্ধ্যার সময় স্বামীর কবরে গিয়ে স্বামীর কবরের সব মাটি নিজে সরিয়ে কবর থেকে স্বামীকে উঠিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে রাখেন। পথিমধ্যে কয়েকজন পরিচিত ও এলাকাবাসী কান্নার আওয়াজ শুনে দৌড়ে যান। গিয়ে দেখতে পায় আমার বোন তার স্বামীকে কবর থেকে উঠিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছেন। সাথে সাথে আমাদের কল দেয় সবাই দৌড়ে গেলাম। বোনকে শান্তনা দিয়ে জোর করে তুললাম। আবার মসজিদের ইমাম সাহেবকে এনে দাপনের ব্যবস্থা করলাম। দাপন করে বোনকে বাসায় আনার পর থেকে কড়া নিরাপত্তায় রাখলাম। অলটাইম বোনকে চোখে চোখে রাখি। প্রতি...

গায়েব আজান ও নিখোঁজ মানুষ জ্বীন: পর্ব ৫

  🕯️ জ্বীন: পর্ব ৫ — গায়েব আজান ও নিখোঁজ মানুষ ✍️ লেখক: মুহিব্বুল্লাহ আমিন গাজী "আল্লাহু আকবার... আল্লাহু আকবার..." রাত ২টা ৩৭ মিনিট। ফাইয়াজ সজাগ হয়ে উঠল। কারণ এই আজানের শব্দ সে নিজের কানে শুনেছে— কিন্তু আশেপাশে কোনও মসজিদেই তো তখন আজান দেয় না! সে জানালার কাছে গেল। গ্রামের পশ্চিম প্রান্তে একটি পুরনো ভেঙে পড়া মসজিদের দিক থেকে এই আওয়াজ আসছিল। 🕌 ওই মসজিদটির ইতিহাস? লোকজন বলে, বছর দশেক আগে ওই মসজিদের মোয়াজ্জিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। তারপর থেকেই নাকি মাঝেমধ্যে গভীর রাতে “আজানের মতো কিছু” শোনা যায়— কিন্তু কেউ ধারে কাছে গেলে কিছুই পায় না। 🌑 ফাইয়াজ প্রস্তুতি নিল। কুরআন শরিফ হাতে নিয়ে সে রওনা দিল সেই পরিত্যক্ত মসজিদের দিকে। চাঁদের আলো আর নামাজের শক্তি ছিল তার একমাত্র ভরসা। ⚠️ মসজিদের কাছে গিয়ে সে থমকে দাঁড়ায়। আজান বন্ধ, বাতাস নিস্তব্ধ। কিন্তু হঠাৎ, দেয়ালের পেছন থেকে শোনা গেল— “আমাকে শেষবারের মতো নামাজের ডাক দিতে দাও…” একটা ছায়া যেন নীচু হয়ে বসে আছে, আর ফাইয়াজ তাকিয়ে রইল—সেই ছায়া আজান দিচ্ছে। 📿 সে সামনে গিয়ে সূরা জিন পড়তে শুরু করল। তার সা...

সুরা বাকারার প্রতিশোধ - জ্বীন: পর্ব ৪

  জ্বীন: পর্ব ৪ — সুরা বাকারার প্রতিশোধ সম্পাদক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী রাত গভীর, পুরো গ্রামে অদ্ভুত এক অস্থিরতা। গবাদিপশু চিৎকার করছে, ঘরে ঘরে বাচ্চারা আতঙ্কে ঘুম থেকে উঠছে। 📿 ফাইয়াজ এশার নামাজ শেষ করে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়ছিল। হঠাৎ খেয়াল করল, তার ঘরের জানালার পর্দা হঠাৎ টান মেরে খুলে পড়ল মেঝেতে। একটি শব্দ কানে এল — যেন কেউ বলছে, "এই আয়াত আবার পড়ো..." 📖 সে জোরে জোরে পড়ে যেতে লাগল: "آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ..." সে যতই পড়ে, ঘরের হাওয়া বদলে যেতে থাকে — যেন ভারি এক অদৃশ্য উপস্থিতি হালকা হয়ে যাচ্ছে। তারপর, বাড়ির পেছনে থাকা শুকনো পুকুর থেকে এক গলা চিৎকার: "তুই যাকে ডাকছিস, সে তো শুধু মানুষদের জন্য পাঠানো হয়নি!" 🌙 ফাইয়াজ বুঝে গেল — সূরা বাকারা শুধু রক্ষা নয়, এই আয়াতগুলো জ্বীনদের মাঝে ভয় তৈরি করে। 📖 শিক্ষা: ▪️ সূরা বাকারা, বিশেষ করে শেষ দুই আয়াত — ঘরকে জ্বীন-শয়তান থেকে হেফাজত করে ▪️ জ্বীনরাও জানে কুরআনের শক্তি, তাই তারা তা এড়াতে চায় ▪️ একজন মুমিনের অন্তরের সাহস, তার মুখের কুরআনের সুর — সবচেয়ে বড় ঢাল Publ...

“বাংলাদেশে ২০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পরিকল্পনা: ২০৩০ সালের লক্ষ্য”

  ⚡ নবায়নযোগ্য শক্তির অভিযাত্রা: বাংলাদেশের “দুপুরের রোদের আশা” 🟢 🎯 মহাকর পরিকল্পনা: লক্ষ্যমাত্রা ও চাহিদা । । 🏦 এত টাকা কোথা থেকে আসবে? । । । । 🛠️ সমস্যা সমাধানের পথ । । । । । । 🌱 বর্তমান অফার ও বাস্তবতা । । । 🔎 পরিমাণ ও সিদ্ধান্ত ২০৪০ সালের রূপকল্পে ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ না হলে, বাংলাদেশের ২০–৩০% নবায়নযোগ্য শক্তির লক্ষ্যমাত্রা শুধু স্বপ্নেই সীমাবদ্ধ , ফসল্য বিদ্যুৎ নির্ভরতা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির বিপদ—সবাই অব্যাহত থাকবে। সুতরাং: এখনই প্রয়োজন নীতি স্থিতিশীলতা , বাজারে বিশ্বাস , বৃহৎ বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আর গ্রিড তথা ইনফ্রা উন্নয়ন । ✍️ চূড়ান্ত কথা বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তিতে দ্রুত রূপান্তর সম্ভব । কিন্তু সেটা হবে যদি আমরা: নীতিতে নির্ভরযোগ্যতা আনব বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিটা কমাব সরকার–বেসরকারি–আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে বাজি ধরব তাহলে ২০৩০–৪০ যে নবায়নযোগ্য রূপকারের রোদের ছবি কিন্তু সেটা থাকবে না শুধু বাতাসে; বাস্তবে প্রতিদিনের ঘরে ঘরে পৌঁছাবে! 📌  AL FATIHA FOUND...

একটা জীবন শেষ

🚲 আরেকজন সাইকেলিস্ট হারিয়ে গেলো… আমাদের ভাই ছিল সে। একটা ছেলে… বয়স মাত্র ১৫ থেকে ১৭। সে দিনটিতে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল খুব স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু হঠাৎ— এক বখে যাওয়া, ধনী পরিবারের ছেলে, যার বয়স হয়তো নবম শ্রেণির ছাত্র মাত্র, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে তার উপর দিয়ে তুলে দিলো। এক মুহূর্ত। একটা জীবন শেষ। একটা মা-র বুক খালি। একটা বাবার ভরসা চিরতরে শেষ। একটা ভাই আর ঘরে ফিরবে না। আমি নিজেও একজন সাইকেলিস্ট… এই ঘটনা বুকটা কাঁপিয়ে দেয় আমরা যারা সাইকেল চালাই, আমরা জানি এই রাস্তাগুলো কেমন। আমরা নিয়ম মেনে চলি, হেলমেট পরি, সতর্ক থাকি। কিন্তু পেছন থেকে আসা এক গাড়ির অন্ধ গতিতে সব শেষ হয়ে যায়। আজ সে মারা গেছে। কাল হয়তো আমি… কাল হয়তো আপনি… আমাদের হৃদয় থেকে একটি অনুরোধ 🙏 যারা গাড়ি চালান—আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ: একটু ধৈর্য ধরুন। একটু মানবতা দেখান। আপনার রাগ, গতি, মুঠোফোনের স্ক্রল—সবকিছুর চেয়ে একটি জীবনের দাম অনেক বেশি। এই ছেলে মারা গেছে, কিন্তু এ দায় আমাদের সমাজের। আমরা চুপ থাকলে, এই মৃত্যু আবারও ঘটবে। আমরা তাকে ভাই বলতাম আমরা যারা সাইকেল চালাই, তারা একে অন্যকে ভাই ভাবি। আ...

শাহী বাঙ্গালাহ: পর্ব ৩

"যে বাংলার ধ্বনি শোনা যেত আরব, পারস্য ও চীনের দরবারেও…" ইলিয়াস শাহের হাত ধরে গড়ে উঠেছিল শাহী বাঙ্গালার ভিত্তি। কিন্তু সেই ভিত্তিকে পরিণত করেছিলেন তাঁর বংশধরেরা—বিশেষ করে তাঁর প্রপৌত্র জালালুদ্দীন ফতেহ শাহ , যার শাসনে বাংলার সালতানাত পৌঁছায় গৌরবের এক অনন্য শিখরে। সে সময় বাংলা শুধু স্বাধীন ছিল না—ছিল আত্মবিশ্বাসী, প্রতাপশালী ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। ▣ বাংলার মুদ্রায় লেখা হতো কুরআনের আয়াত স্বাধীনতার স্বাক্ষর হিসেবে বাংলার সুলতানরা চালু করেছিলেন নিজস্ব মুদ্রা। সে মুদ্রায় কেবল সুলতানের নাম নয়, খচিত থাকত "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" । এই ছিল বাংলার আত্মপরিচয়। এই ছিল শাহী বাঙ্গালাহ—যার অর্থনীতি, শিক্ষা, ও সংস্কৃতিতে ছিল দীপ্ত ইসলামি চেতনার স্পষ্ট ছাপ। ▣ বাংলার বন্দর ছিল আন্তর্জাতিক সংযোগস্থল চট্টগ্রাম, সাতগাঁও ও হুগলি বন্দরে ভিড় করত আরব, ফারসি ও চীনা জাহাজ। শিল্প, সূতিবস্ত্র, গন্ধদ্রব্য, ও মশলার জন্য বাংলার নাম ছড়িয়ে পড়ে দূর প্রাচ্যে। এমনকি চীনের মিং সাম্রাজ্য বাংলার সুলতানের কাছে উপহার পাঠাত—এটিই প্রমাণ, যে বাংলা তখন বিশ্বমঞ্চে ...

ঈদুল আযহা ও গাজা

🌙 ঈদুল আযহা ও গাজা: কুরবানির পশুর রক্ত নয়, এটি শহীদদের রক্ত! 💔 📖 Al-Fatiha Muslim World থেকে এক হৃদয়বিদারক প্রতিবেদন --- 🕋 “ঈদ” মানেই আনন্দ। “কুরবানী” মানেই ত্যাগ। কিন্তু ২০২৫ সালের এই ঈদুল আযহা একেবারেই ভিন্ন। মুসলিম বিশ্ব যখন ত্যাগের মহিমা স্মরণ করে পশু কুরবানিতে ব্যস্ত, 📍 তখন গাজার রাস্তায় গড়িয়ে পড়ছে আরেক কুরবানির রক্ত— শহীদ ভাইদের রক্ত। --- 🩸 ঈদের দিনে ৫০+ শহীদ! এই বছর ঈদের ঠিক আগের দিন, ঈদের দিনে এবং ঈদের পরদিন, ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় গাজায় শহীদ হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনি। তাদের মধ্যে শিশুও আছে, নারীও আছে, বৃদ্ধও আছে। অনেকে নামাজরত অবস্থায়, কেউ পরিবার নিয়ে ঘুমাচ্ছিল। কুরবানির ছুরি চালানো হয়নি গরুর গলায়— চালানো হয়েছে নিষ্পাপ শিশুদের বুকে। --- 🎯 কোথায় মানবতা? ⚖️ বিশ্বের মিডিয়া চুপ। 🧊 মানবাধিকার সংস্থারা নিঃশব্দ। 📵 মুসলিম রাষ্ট্রগুলো নিস্তব্ধ। আর আমরা… ঈদের সেলফি আর নতুন জামার গল্পে ব্যস্ত। --- 🕋 ঈদ মানে কি শুধু গরু? ঈদের অর্থ তো শুধু পশু জবাই নয়, 🎗️ ঈদ মানে সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি আল্লাহর রাহে উৎসর্গ করা। 🎗️ ঈদ মানে—ইবরাহিম (আ.) এর মতো আত্মত্যাগ। তবে আজ ফি...

হজ ও কুরবানীর মাসআলা

 হজ ও কুরবানীর মাসআলা: বিস্তারিত গাইড (২০২৫) > বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম হজ এবং কুরবানী—দুইটি মহান ইবাদত যা ত্যাগ, আনুগত্য এবং আত্মশুদ্ধির প্রতীক। এই পোস্টে হজ ও কুরবানীর বিস্তারিত মাসআলা আলোচনা করা হলো, যেন মুসলিম ভাই-বোনেরা সঠিকভাবে তা আদায় করতে পারেন। --- 🕋 হজের মাসআলা ১. হজ ফর হওয়ার শর্ত ইসলাম গ্রহণকারী প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ও আর্থিকভাবে সক্ষম মহরাম সঙ্গী (মহিলাদের জন্য) হজ করার পথ নিরাপদ হওয়া ২. হজের তিন প্রকার ইফরাদ: শুধু হজ কিরান: উমরা ও হজ একত্রে তামাত্তু: উমরা করে ইহরাম খুলে হজ করা ৩. হজের ফরজ ইহরাম আরাফায় অবস্থান তাওয়াফে জিয়ারত ৪. ওয়াজিবসমূহ সাফা-মারওয়া সাঈ মুযদালিফায় রাত যাপন জামারাতে কংকর নিক্ষেপ পশু কুরবানী (তামাত্তু বা কিরানের জন্য) তাওয়াফে বিদা ৫. নিষিদ্ধ কাজ (ইহরাম অবস্থায়) চুল/নখ কাটা সুগন্ধি ব্যবহার শিকার করা বিবাহ সংক্রান্ত কিছু 🐄 কুরবানীর মাসআলা ১. কুরবানী ফরজ না, কিন্তু ওয়াজিব (হানাফি মতে) নেসাব পরিমাণ মালিক হলে ঈদুল আযহার দিন তিন দিনের মধ্যে করা ২. কুরবানীর পশু নির্বাচনের শর্ত ছাগল, ভেড়া – ১ বছর গরু, মহিষ – ২ বছর উট – ৫ বছর ত্রুটিমুক্ত ও সুস্থ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

ফিলিস্তিনের রক্তমাখা অশ্রু

তোমরা ভাইরাল হলে মনে পড়ে, তারপর আবার ভুলে যাও — অথচ গাজার শিশুরা কখনো থামে না কাঁদা থেকে... তুমি যখন একটা ভাইরাল ভিডিওতে চোখ আটকে রাখো, তখন গাজার কোনো একটি বাচ্চা নিজের চোখ হারিয়ে ফেলে… তুমি যখন স্ট্যাটাসে রংচঙে ফ্রেম দাও, তখন সেখানে কোনো মা কবর খোঁজে নিজের শিশুর জন্য। তুমি একদিন কাঁদলে, তারা রোজ কাঁদে— তুমি একদিন শেয়ার দিলে, তারা রোজ রক্ত দেয়। তোমরা ভাইরাল হওয়ার পর গাজা মনে রাখো, তারপর আবার ভুলে যাও। তোমরা হ্যাশট্যাগ দাও “#SaveGaza” — তারপর Netflix এ ঢুকে পড়ো! তোমরা প্রতিবাদ করো Story-তে, কিন্তু বাজারে যাও গিয়ে তুলে নাও সেই পণ্যই যেটা দিয়ে বোমা বানায় তাদের মাথার উপর ফেলতে! আর গাজার শিশুরা? তারা ঠিকই জানে, এই পৃথিবীতে তাদের কান্না ততদিনই শোনা যায় যতদিন সেটা ট্রেন্ডিং-এ থাকে। কিন্তু তাদের কবর কখনো ট্রেন্ডিং হয় না... তাদের রক্তে লেখা হয় এমন একটি ইতিহাস, যার শিরোনামে লেখা থাকবে: “তারা কাঁদছিল, আর আমরা স্ক্রল করছিলাম।” তারা ভুলে গেছে? না, ভুলে যাওয়া হচ্ছে না—আমরা ভুলে গেছি। এখনো সময় আছে, ফিরে এসো। তোমার স্ট্যাটাসের স্টাইল না, তোমার অন্তরই বদলাও। তাদের রক্তের ঋণ একটুখান...

শিশুটির কান্না

🕊️ একটি হাড়সর্বস্ব শরীর… একটি চুপচাপ কান্না… সে একটি শিশু। নাম নেই, পরিচয় নেই—শুধু আছে ক্ষীণ নিঃশ্বাস, হাড়ের গায়ে চাপা পড়া কান্না। দেখলে মনে হবে, এ যেন কঙ্কালের মতো কোনো জীবন্ত অবয়ব। গায়ে চামড়া থাকলেও তার নিচে নেই কোনো শক্ত মাংসপেশি— শুধুই হাড়। হাত, পা, মুখ—সবকিছু যেন মৃত্যুর ছায়ায় ঢাকা। এই শিশুর শরীরের ভাষা একটাই বলে: "আমি ক্ষুধার্ত… আমি অসুস্থ… আর আমি একা।" --- এই অবস্থার পেছনে কী আছে? দীর্ঘদিনের অনাহার কোনো রোগ যার চিকিৎসা হয়নি সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ উদাসীনতা আমাদের সকলের নিরবতা… --- এই শিশু কি শুধু একজন? না, এমন হাজারো শিশু আছে—যাদের কথা আমরা শুনি না, দেখিও না, ভাবিও না। তাদের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে, তারা এখন আর সাহায্য চায় না— তারা এখন শুধু চুপচাপ অপেক্ষা করে মৃত্যুর। --- আমাদের কী করণীয়? শিশুদের জন্য সুস্থতা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা অভিভাবকহীন বা দরিদ্র পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো নিজের পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের প্রতি সচেতন হওয়া আল্লাহর দরবারে দোআ করা—এই শিশুদের রক্ষা করার জন্য --- 🕋 এই শিশুর হাড়সর্বস্ব শরীর যেন আমাদের হৃদয়কে কাপিয়ে তোলে, আর জাগিয়ে তোলে আমাদের ঘুমিয়ে ...

ইসরাইলি পণ্য কেন বয়কট ?

  📛 কেন বয়কট? ইসরাইলি পণ্যের পেছনের রক্তভেজা গল্প "তোমরা যদি কোনো জুলুম দেখতে পাও, তাহলে তা হাত দিয়ে প্রতিরোধ করো, না পারলে মুখ দিয়ে বলো, আর না পারলে অন্তরে ঘৃণা করো—এটাই ইমানের দুর্বলতম স্তর।" — সহীহ মুসলিম প্যালেস্টাইনে প্রতিদিন যে শিশুগুলোর নিথর দেহ পড়ে থাকে, যে ঘরগুলো ধ্বংস হয়, যে মাতার কান্না আকাশ বিদীর্ণ করে—তার পেছনে দায়ী শুধু গোলাবারুদ নয়, তোমার-আমার ব্যবহৃত অর্থও। আমরা প্রতিদিন যে পণ্য ব্যবহার করি, সেই টাকায় সরাসরি শক্তি পাচ্ছে ইসরাইলি রাষ্ট্র—এক গণহত্যাকারী রাষ্ট্র। --- 📦 কোন পণ্য বর্জন করবো? নীচে উল্লেখ করা হলো কিছু বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড, যাদের পেছনে রয়েছে ইসরাইলি অর্থায়ন, মালিকানার সম্পর্ক, অথবা ইসরাইলের সেনাবাহিনীতে সরাসরি সহায়তা: ✅ প্রতিবাদযোগ্য ব্র্যান্ডসমূহ: McDonald's – ইসরাইলি সেনাদের ফ্রি খাবার সরবরাহ করে। Starbucks – CEO প্রকাশ্যে ইসরাইল সমর্থন করেছেন। Nestlé – ইসরাইলে বিশাল বিনিয়োগ ও ব্যবসা। PepsiCo – ইসরাইলি কোম্পানি SodaStream অধিগ্রহণ করেছে। Coca-Cola – ইসরাইলের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিনের অবদান। KFC, Pizza Hut – ইসরাইলে ব্যাপক কার্যক্রম ও সামরিক ...

কুরআনুল কারীম এর মর্যাদা

কুরআনুল কারীম: আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার “এটি এমন এক কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি—যাতে মানুষ চিন্তা করে।” — সূরা ছাদ, আয়াত ২৯ কুরআন শুধুমাত্র একটি কিতাব নয়, এটি হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য প্রেরিত প্রেম, হেদায়াত এবং মুক্তির বার্তা। পৃথিবীর সব আলো নিভে গেলেও কুরআনুল কারীম এমন এক নূর, যা মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে তোলে। --- 🕊️ ছোট ছোট কুরআনুল কারীম: সৌন্দর্যের পাশাপাশি বহনের সুবিধা বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় ছোট আকৃতির কুরআনুল কারীম—যা পকেটে রাখা যায়, ব্যাগে সহজে বহনযোগ্য এবং দেখতে অসাধারণ সুন্দর। স্বর্ণে মোড়ানো নকশা, আরবি ক্যালিগ্রাফির অপরূপ ছাঁদ এবং কাভারে আল্লাহর নামের জ্যোতি সত্যিই অন্তর ছুঁয়ে যায়। এই কুরআন ছোট হলেও, তার মর্যাদা অসীম। কারণ এটি সেই ঐশী বাণী, যা আল্লাহ তায়ালা নিজে অবতীর্ণ করেছেন। --- 🌙 আমাদের করণীয়: 1. প্রতিদিন কিছু আয়াত পাঠ করুন। সময় কম থাকলেও প্রতিদিন অন্তত ৫ আয়াত কুরআনুল কারীম থেকে পড়ুন। 2. সহজে বহনযোগ্য কুরআন কিনুন ও ব্যবহার করুন। যেকোনো স্থানেই হোক, সফরে, অফিসে, রাস্তায়—একটু সময় পেলেই পড়া শুরু করুন। 3. কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ...

রাগী হামজার পেরেক

  এক পাহাড়ি গ্রামের ছেলে, নাম ছিল হামজা। হামজা ছিল দৃঢ়চেতা ও কৌতূহলী। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় দোষ ছিল—সে খুব রাগী ছিল। সামান্য কথাতেই রেগে যেত, অনেককে কষ্ট দিত। তার দাদা একদিন তাকে বললেন, “রাগ একটা আগুন, যা প্রথমে নিজের হৃদয়কেই জ্বালিয়ে দেয়।” হামজা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “তাহলে আমি কী করব?” দাদা বললেন, “প্রতিবার যখন রাগ করবি, এই কাঠের দেয়ালে একটি পেরেক ঠুকে দে।” হামজা শুরু করল। প্রথম দিনে ১০টি পেরেক ঠুকতে হল। দ্বিতীয় দিনে ৭টি। ধীরে ধীরে রাগ কমতে থাকল। এক মাস পর, একটিও পেরেক ঠুকতে হল না। দাদা বললেন, “দেখেছিস? এখন প্রতিটি পেরেক খুলে ফেল।” হামজা সব পেরেক খুলে ফেলল, কিন্তু দেয়ালে ছিদ্র থেকে গেল। দাদা বললেন, “রাগ কমিয়ে ফেলেছিস, এটা ভালো। কিন্তু যাদের কষ্ট দিয়েছিস, তাদের মনে যে ছিদ্র তৈরি হয়েছে, সেটাও মনে রেখিস।” সেইদিন থেকে হামজা হয়ে উঠল গ্রামের সবচেয়ে শান্ত, বিনয়ী ও সহানুভূতিশীল তরুণ। সবাই তাকে ভালোবাসত। এই গল্পটি আমাদের শেখায়, রাগ এক ক্ষণস্থায়ী আগুন, যা স্থায়ী ক্ষতির জন্ম দেয়। ধৈর্য ও ক্ষমাই একজন মানুষের প্রকৃত শক্তি। লেখক: মুহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহ্ আমিন Publisher: Al-...

রহস্যময়ী আংটি?

 ২০০৪ সাল, কানাডার এক শান্ত ছোট্ট খামারে মাটি খুঁড়ছিলেন ম্যারি গ্রামস। বাগানে কাজ করার সময় হঠাৎ করেই হারিয়ে ফেলেন তার বিয়ের হীরার আংটি, যেটি তিনি পরে ছিলেন কয়েক দশক ধরে। অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়েছিল, কিন্তু আংটির আর হদিস মেলেনি। দীর্ঘশ্বাস নিয়ে সেই হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে চলে যায় সময়... ঠিক ১৩ বছর। ২০১৭ সালে তার পুত্রবধূ বাগানে সবজি তুলছিলেন, হঠাৎই এক গাজরের গায়ে চোখ আটকে যায়। গাজরটির মাঝখানে কী যেন চকচক করছে। খুব যত্ন করে তোলা হলে দেখা গেল, একটি গাজর বড় হয়েছে একটি আংটির ফাঁক দিয়ে, যেন সেটি নিজেই পরেছে আংটি! এটি ছিল সেই হারানো হীরার বিয়ের আংটি, যা ১৩ বছর আগে মাটির নিচে হারিয়ে গিয়েছিল।  এই ঘটনা শুধু ম্যারির পরিবারেই নয়, বরং গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এক অনন্য গল্প হয়ে; ভালোবাসা, ধৈর্য আর প্রকৃতির অলৌকিক ব্যবস্থার এক জীবন্ত উদাহরণ। . . মুহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহ্ বিন আমিন