Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ইসলামী আন্দোলন

শবে মেরাজের গোপন রহস্য ভেদ

  মি‘রাজ এক অনন্ত রব্বানী ভেদ। এই ভেদের তলদেশের সীমা-পরিসীমা নেই। মি‘রাজের নিবিড় মিলনের নির্জনতায় এমন নিগূঢ় তথ্য ও রহস্য নিহিত রয়েছে, যা প্রকাশ করা চলে না। সকল রহস্যের অন্তরালে তা চিরদিন সংগোপনে রয়েছে ও থাকবে। এই রহস্যময় দ্বার উদ্ঘাটন করা জিন ও ইনসানের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রাসঙ্গিক ভাবনা মি‘রাজ ঘটনার প্রেক্ষিতে কতগুলি প্রশ্ন জাগে। সংক্ষেপে এসব প্রশ্নের কিছু নিম্নে অবতারণা করা হলো :— ১. মি‘রাজের পুরো আলোচনায় স্পষ্টতঃ প্রমাণিত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে বাইতুল্লাহ (কাবা শরীফ) হতে বাইতুল মোকাদ্দাস এবং সেখান হতে সপ্তাকাশ ও তদূর্ধ্ব জগতে ভ্রমণ করেছেন। আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করে যে, কোন রকেট বা মহাকাশযান প্রতি সেকেন্ডে ০৭ (সাত) মাইল অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় পঁচিশ হাজার দুইশত মাইলের অধিক গতি সম্পন্ন না হলে মধ্যাকর্ষণ শক্তি অতিক্রম করতে পারে না। এই পরিমাণ গতি সম্পন্ন হলেও সেই রকেট বা মহাকাশ যানটি মহাশূন্যে পৌঁছাতে দশ দিন সময় অতিবাহিত হয়। এই হিসেব ধরলেও বোরাকের গতি কমপক্ষে ঘণ্টায় দুই লক্ষ বায়ান্ন হাজার মাইলের উপর ছিল। অত্যন্ত অলৌকিক কল্পনাতীত গতিসম্পন্ন ...

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত সূচনা

  তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য একাধিক দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সুইডেন জরুরী ভিত্তিতে খাদ্যের মজুদ বাড়াচ্ছে। ইউক্রে‌ন নিয়ে ইতিমধ্যেই রাশিয়া, বেলারুশ, চীন, উত্তর কোরিয়া জোটের বিরুদ্ধে আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গঠিত পশ্চিমা জোটের একধরণের প্রক্সি বিশ্বযুদ্ধ চলছে।  বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র, সামরিক সহায়তা, সামরিক প্রশিক্ষক ইউক্রেনে যাচ্ছে।  নিজেদের জাতীয় বাজেট ব্যাপক কাটছাঁট করে তারা পানির মতো ইউক্রেনে টাকা ঢালছে। এসব দেশে জীবনযাত্রার খরচ অসহনীয়ভাবে বেড়ে গেছে। গরীব দেশগুলোকে দেয়া উন্নয়ন সহায়তা কমতে কমতে নাই হয়ে যাবার অবস্থা। জার্মানি বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালু করার সিরিয়াস চিন্তাভাবনা করছে। চীনের ঘোষিত ২০২৭ সাল‌ পরবর্তী তাইওয়ান যুদ্ধ শুরু হলে এইসব যুদ্ধের বহুগুন ভয়াবহ বিস্তার ঘটবে। একটা উদাহরণ দেই। চীনের অর্থনীতি রাশিয়ার প্রায় ২০ গুণ বড়।  ফলে ইউক্রেন যুদ্ধে পুরো পৃথিবীতে জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে চীন তাইওয়ানে সামরিক অভিযান শুরু করলে আমেরিকা জাপান দক্ষিণ কোরিয়া ফিলিপাইন এবং পশ্চিমা জোট তার বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে‌...

শৈশবের মহাবিস্ময়: গাউসুল আজম (রহঃ) ও জীবন-মৃত্যুর সেই কেরামত

  ✨ শৈশবের মহাবিস্ময়: গাউসুল আজম (রহঃ) ও জীবন-মৃত্যুর সেই কেরামত 🌟 পবিত্র জিলান নগরী। ছোট ছোট শিশুরা যখন খেলাধুলায় মত্ত, তখন ছোট্ট আব্দুল কাদেরের খেলা ছিল সবার চেয়ে আলাদা। তাঁর এই খেলাই ছিল কুদরতের এক জীবন্ত দলিল। ১. মাটির পুতুল ও প্রাণের সঞ্চার ছোট্ট আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) প্রতিদিন মাটির কিছু পুতুল তৈরি করতেন। তবে তাঁর এই মাটির পুতুলগুলো সাধারণ মাটির খেলনা হয়ে থাকত না। তিনি যখন সেই পুতুলগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলতেন, “কুম বিইজনিল্লাহ!” (অর্থাৎ, আল্লাহর অনুমতিতে উঠে দাঁড়াও!), তখন মহান আল্লাহর কুদরতে মাটির সেই নিথর পুতুলগুলো প্রাণ ফিরে পেত। তারা শিশুদের মতো নড়াচড়া করত, কথা বলত এবং সারা দিন তাঁর সাথে খেলা করত। আবার সন্ধ্যা হলে তিনি আদেশ দিতেন আগের রূপে ফিরে যেতে, অমনি তারা নিস্তেজ মাটির পুতুল হয়ে যেত। ২. মৃত শিশুর অলৌকিক পুনর্জীবন একই গ্রামের এক দম্পতি তাঁদের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাতুর হয়ে পড়েছিলেন। সন্তান মারা যাওয়ার পর তাঁরা ভাবলেন, “আব্দুল কাদের যদি মাটির পুতুলকে জীবন দিতে পারে, তবে আমাদের সন্তানকেও সে আল্লাহর হুকুমে বাঁচাতে পারবে।” তাঁরা অত্যন্ত বিশ্বাস নিয়ে রাত...

চট্টগ্রামে ইসলামের ইতিহাস: মুসলিমদের চট্টগ্রাম বিজয়

১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে দিল্লী সালতানাতের অন্তর্ভুক্ত ত্রিখণ্ডিত বঙ্গভূমির পূর্বাংশের গভর্নর বাহরাম খান মৃত্যুবরণ করলে তাঁর প্রধান সিলাহদার ফখরা সুবর্ণগ্রামের ক্ষমতা দখল করেন এবং  নিজেকে স্বাধীন সুলতান  ঘোষণা করেন। ফখরা 'সুলতান ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ' নাম ধারণ করেন এবং দিল্লীর অধিপতি মুহাম্মাদ ইবনে তুঘলকের আনুগত্য অস্বীকার করেন।  ফখরউদ্দিনের বিদ্রোহের খবর পাওয়ামাত্রই দিল্লীর সুলতান মুহাম্মাদ ইবনে তুঘলক  বঙ্গভূমির অপর দুই অংশ— গৌড় ও সপ্তগ্রামের গভর্নরদের নির্দেশ দেন  বিদ্রোহ দমনের জন্য।  গৌড়ের গভর্নর মালিক বিদার খিলজী ওরফে কদর খান ও  সপ্তগ্রামের গভর্নর আজম-উল-মুলক   ইজাজউদ্দিন ইয়াহিয়া প্রথম দিকে সুলতান ফখরউদ্দিন মুবারক শাহকে পরাজিত করতে সফল হন। তাঁদের সম্মিলিত বাহিনী সুবর্ণগ্রাম (সোনারগাঁও)  দখল করে নেয় এবং ফখরউদ্দিন সপারিষদ নৌকাযোগে দক্ষিণে নোয়াখালী অঞ্চলে  আশ্রয় গ্রহণ করেন। ইজাজউদ্দিন ইয়াহিয়া নিজ বাহিনীসহ  লুণ্ঠিত সম্পদ নিয়ে সপ্তগ্রামে ফিরে গেলেও কদর খান সুবর্ণগ্রামেই অবস্থান করতে থাকেন বিদ্রোহী মুবারক শাহর অপেক্ষায়।  অতঃপর বর্ষা...

দলের নামে বিভেদ—ইসলামে দলবাজির শিকড় কোথায়?

  ইসলামী বিভ্রান্তি ও করণীয় পর্ব ২: দলের নামে বিভেদ—ইসলামে দলবাজির শিকড় কোথায়? ✦ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী ❝তোমাদের মধ্যে দল-উপদল সৃষ্টি করো না❞ — (সূরা আনআম, ৬:১৫৯) দলবাজি—এই শব্দটা এখন এমন একটা বিষে পরিণত হয়েছে, যা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে বিভাজনের বিষবৃক্ষ রোপণ করেছে। “আমি জামাত করি।” “আমি আহলে হাদীস।” “আমি আহলে কুরআন।” “আমি মাযহাব মানি না।” “আমি শুধুই কুরআন অনুসরণ করি।” এতসব পরিচয়ের ভীড়ে ‘আমি মুসলমান’ পরিচয়টা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে! ❌ ইসলাম কি দল তৈরির অনুমতি দিয়েছে? নবী ﷺ নিজে কখনো কোন রাজনৈতিক বা মাজহাবভিত্তিক দলের নাম দেননি। সাহাবাগণ ছিলেন এক উম্মাহ, এক আকীদার অনুসারী। তাদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল, কিন্তু সে মতবিরোধ বিভেদ সৃষ্টি করেনি। আজকের মুসলমানরা কুরআনের এই আহ্বান ভুলে গেছে— "তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে সবাই মিলে দৃঢ়ভাবে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না" — (সূরা আলে ইমরান, ৩:১০৩) ⚠️ দলবাজির পেছনের কারণসমূহ: ১. অহংকার ও ‘আমরাই সঠিক’ মানসিকতা। ২. নেতৃত্বের লোভ—দীনকে রাজনীতির ঢাল বানানো। ৩. আলেমদের একত্রে না চলার সংস্কৃতি। ৪. জনগণের জ্ঞানহীন...

এটা কি শুধু রাজশাহীতে? না, সারা দেশেই ?

  ৫ আগস্টের পর জামায়াত: হৃদয়ের কাছে থাকাদের দূরত্বের গল্প ৫ আগস্টের আগে পর্যন্ত আমি জামায়াতকে একটি মজলুম দল হিসেবে দেখতাম। বিশেষত ছাত্রশিবির থেকে উঠে আসা ভাইদের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ। তাদের সঙ্গে একে অপরের ‘আপন’ ভাবাটাই স্বাভাবিক ছিল। মওদুদিবাদ নিয়ে যে দ্বন্দ্ব ছিল—তা নিয়ে আমি তেমন কিছু বলিনি। বরং একে কেন্দ্র করে জামায়াতের বিরুদ্ধে বিষোদগারকে সবসময় বিরোধিতা করেছি। বহুবার সাধারণ মানুষ জামায়াতের পক্ষে কথা বললে আমিও বলতাম, “ওরা ইসলামি কাজ করে।” এটাই তো মূল কথা, মতবাদের জটিলতায় সাধারণ মানুষ ক্বচিৎই যায়। আমার ওস্তাদদের অনেকেই ছিলেন জামায়াতবিরোধী। তাদের বলা কথাগুলো আমরা তখন মানিনি। বরং তাদের বলেছি— “জামায়াতের ভুল থাকলেও তারা আমাদের ভাই। তারা মজলুম। দয়া করে পাবলিকলি কিছু বলবেন না।” এমনকি বর্তমান জমিয়তের সভাপতি ওবায়দুল্লাহ ফারুক সাহেবের একটি ফেসবুক পোস্টের বিরোধিতাও করেছিলাম, কেবল এই মানসিকতা থেকে যে, ‌"আমরা এক মজলুম আরেক মজলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারি না।" কিন্তু আজ... আজ, দীর্ঘ এক বছর পর, কষ্ট হচ্ছে—আমার এবং আমাদের ওস্তাদদের কথা আজ সত্যি হয়ে...