ইউক্রেন নিয়ে ইতিমধ্যেই রাশিয়া, বেলারুশ, চীন, উত্তর কোরিয়া জোটের বিরুদ্ধে আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গঠিত পশ্চিমা জোটের একধরণের প্রক্সি বিশ্বযুদ্ধ চলছে।
বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র, সামরিক সহায়তা, সামরিক প্রশিক্ষক ইউক্রেনে যাচ্ছে।
নিজেদের জাতীয় বাজেট ব্যাপক কাটছাঁট করে তারা পানির মতো ইউক্রেনে টাকা ঢালছে। এসব দেশে জীবনযাত্রার খরচ অসহনীয়ভাবে বেড়ে গেছে। গরীব দেশগুলোকে দেয়া উন্নয়ন সহায়তা কমতে কমতে নাই হয়ে যাবার অবস্থা।
জার্মানি বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালু করার সিরিয়াস চিন্তাভাবনা করছে।
চীনের ঘোষিত ২০২৭ সাল পরবর্তী তাইওয়ান যুদ্ধ শুরু হলে এইসব যুদ্ধের বহুগুন ভয়াবহ বিস্তার ঘটবে।
একটা উদাহরণ দেই।
চীনের অর্থনীতি রাশিয়ার প্রায় ২০ গুণ বড়।
ফলে ইউক্রেন যুদ্ধে পুরো পৃথিবীতে জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে চীন তাইওয়ানে সামরিক অভিযান শুরু করলে আমেরিকা জাপান দক্ষিণ কোরিয়া ফিলিপাইন এবং পশ্চিমা জোট তার বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে যাবার পর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সব জিনিসপত্রের দাম ভয়াবহ রকম বেড়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার মতো দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি দেখা দেবে।
ঐ অবস্থায় টিকে থাকার জন্য এখন থেকেই ব্যয় সংকোচন করে, জরুরী খরচ বাদে বাকি ব্যয় বন্ধ করে দুর্দিনের জন্য অর্থ বা স্বর্ণ সঞ্চয় করা উচিত, কারণ মুদ্রাস্ফীতি ঘটে দেশীয় কাগজের টাকা আরো মারাত্মক দুর্বল হয়ে যাবে।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ বা বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার আগে সেগুলোর আভাস অলস কল্পনাবিলাস বলে মনে হয়।
কোভিড মহামারীর একদম শুরুর কথা চিন্তা করেন।
অথবা আমাদের দেশের জুলাই গণ অভ্যুত্থান শুরুর এক সপ্তাহ আগের লৌহ কঠিন সেন্সরশীপ আর সরকারের চিরস্থায়ীত্বের মনোভাবের কথা চিন্তা করেন।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধ বা বিশাল দুর্যোগের আগে পৃথিবীতে সবসময় সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে।
এখনো তাই হচ্ছে। বিশেষ করে চীন, ইউরোপ এবং আরো বিভিন্ন দেশ ও দূরদর্শী লোকজন সোনার দাম কম থাকতেই সেগুলোর বিশাল মজুদ গড়ে আসন্ন আন্তর্জাতিক দূর্যোগ ও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে।
ফলে সোনার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ভয়ঙ্কর রকম বেড়ে গেছে।
অথচ বাংলাদেশ সরকার সোনা আমদানির উপর অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা, কঠোর নিয়ম কানুন ও মারাত্মক চড়া শুল্ক আরোপ করে জাতীয় পর্যায়ে সোনার দাম আন্তর্জাতিক বাজারের চাইতেও আরো বেশী বাড়িয়ে ফেলেছে।
আগে প্রবাসীরা যে পরিমাণ সোনা, মোবাইল ও জিনিসপত্র বিদেশ থেকে ফেরার সময় বৈধভাবে সঙ্গে আনতে পারতো এখন তা আর পারছেনা। তার উপর নির্মমভাবে বেড়েছে আমদানি শুল্ক।
যোগান কমে যাবার ফলে বাংলাদেশে সোনার দাম আন্তর্জাতিক বাজারের চাইতেও আকাশছোঁয়া।
বিয়েশাদী করার জন্য সোনা কিনতে গিয়ে নিম্নবিত্ত এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারের গলায় এখন ফাঁস চেপে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
সরকারের ভেতরে আর এনবিআরে কানেকশন রাখা চোরাচালান সিন্ডিকেট লালে লাল হয়ে যাচ্ছে।
আবার অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ ডলার রেমিটেন্স আসার পরেও সরকার বাজার থেকে বেশী করে ডলার কিনে কৃত্রিমভাবে ডলারের দাম বাড়িয়ে টাকার মান দুর্বল করে রেখেছে।
আমদানি নির্ভর দেশ হবার কারণে এই সিদ্ধান্তে আমাদের লাভের চাইতে ক্ষতি বহুগুন বেশী হচ্ছে।
চড়া দামে গার্মেন্টসের তুলা আর কাপড় কিনতে হচ্ছে।
ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, ইলেকট্রনিক্স ও বিভিন্ন কম্পিউটার অ্যাক্সেসরিজের দাম শুনলে হার্ট অ্যাটাক করার মতো অবস্থা হয়।
যাদের পক্ষে সম্ভব তাদের জটিল ব্যবসা বা বিনিয়োগে সব টাকা খরচ না করে গ্রামে অন্তত পরিবারের টিকে থাকার মতো যথেষ্ট খাবার উৎপাদনকারী জমি কিনে রাখা উচিত।
সম্ভব হলে বাসায় সোলার প্যানেল লাগানোর ব্যবস্থা করা উচিত।
যেসব জরুরী বিদেশী জিনিস ভবিষ্যতে আমদানি ব্যাহত হয়ে বা মারাত্মক রকম মুদ্রাস্ফীতি ঘটে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে সেগুলো সম্ভব হলে আগেই কিনে রাখা উচিত।
২০২৪ এর আগস্ট মাসে বা করোনার আন্তর্জাতিক দূর্যোগের লকডাউনে ওষুধ খাবার অনেককিছুরই কেনাকাটায় সমস্যা দেখা দিয়েছিলো।
এই দেশে ভবিষ্যতে আর কখনো মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয় বা সামরিক অভ্যুত্থান বা দেশজুড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হবেনা সেটা কেউ সুস্থ মস্তিষ্কে বলতে পারবেনা।
অতীতের মতো ভবিষ্যতেও টিভি ও ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেলে জরুরী খবর পাওয়ার জন্য কয়েকশো টাকা দিয়ে আন্তর্জাতিক রেডিও স্টেশনের খবর শোনার মতো শক্তিশালী শর্ট ওয়েভ রেডিও কিনে রাখা উচিত।
আন্তর্জাতিক কোনো যুদ্ধে বিশেষত চীন ও রাশিয়ার হামলায় স্যাটেলাইটগুলো লেসার ওয়েপন দিয়ে অচল করে দেয়া হতে পারে।
এতে করে বন্ধ হয়ে যাবে স্যাটেলাইট টিভি ও ইন্টারনেট যোগাযোগ।
পাশাপাশি সাগরের তলদেশের আন্ত মহাদেশীয় ইন্টারনেট ক্যাবল লাইন কেটে দেয়া হলে পৃথিবীর বিশাল এলাকা জুড়ে বন্ধ হয়ে যাবে ইন্টারনেট।
এরকম হবার আশঙ্কায় জরুরি সংবাদ পাওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের রেডিও সংগ্রহ করে রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন সেখানকার সরকার ও কতৃপক্ষগুলো।
অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে চীন ও রাশিয়ার কাছে হাইপারসনিক মিসাইল আছে।
সেই প্রযুক্তি তারা ইরান, ইয়েমেন ও উত্তর কোরিয়াকে দিয়েছে,
অথচ আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, ইসরা ইল কারো কাছেই হাইপারসনিক মিসাইল নেই!!!!!!
ইউক্রেন যুদ্ধে দেখা গেছে আমেরিকার প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম এসব হাইপারসনিক মিসাইলের মাত্র ছয় শতাংশ ঠেকাতে পারে।
চীনের সাধারণ মানের যুদ্ধবিমানে লাগানো মিসাইল পাক-ভারত যুদ্ধে ইউরোপের সবচেয়ে আধুনিক জঙ্গী বিমানগুলো কয়েক মিনিটে ধ্বংস করে দিলে ইউরোপ আমেরিকা নড়েচড়ে বসে।
অথচ তাদের অনেকেই চীনের মিসাইলের দুর্দান্ত সুপিরিয়রিটির দাবিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছিলো।
বুদ্ধিমানরা যেমন কথা কম বলে লো প্রোফাইলে থেকে অতি গোপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে দরকারের সময় ধুমকেতুর মতো
উঠে আসে। চীনও ঠিক সেটাই করেছে।
আকাশে চীনা স্যাটেলাইটের সংখ্যা আমেরিকার স্যাটেলাইটের সংখ্যা অতিক্রম করেছে ২০১১ সালে।
পৃথিবীর সবচাইতে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার চীনের।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নৌবাহিনীও এখন চীনের।
চীনের জাহাজ বিধ্বংসী হাইপারসনিক মিসাইলের কারণে আমেরিকার এয়ার ক্রাফট ক্যারিয়ারের দাপট মলিন হয়ে গেছে।
চীনের বিমান বাহিনী সব হিসাব নিকাশ উল্টে দিয়ে আমেরিকার বিমান বাহিনীর B2 Spirit ছাড়া অধিকাংশ বিমানের শ্রেষ্ঠত্বকে অতিক্রম করে গেছে।
এমনকি ঐটাও তারা তৈরির খুব কাছাকাছি আছে।
এর উপর চীনের মিত্র রাশিয়া সম্প্রতি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুইটা ইউনিক অস্ত্র তৈরি করেছে।
পারমাণবিক শক্তিচালিত আন্ত মহাদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র বুরেভেসতনিক (Burevestnik) যেটি পুরো পৃথিবী অগণিতবার প্রদক্ষিণ করতে বা আকাশে মাসের পর মাস ভেসে থাকতে সক্ষম।
এবং
পাশাপাশি পসাইডন নিউক্লিয়ার সুপার টর্পেডোর (Poseidon Nuclear Super Torpedo) পরীক্ষাও চালিয়েছে যা সমুদ্রে নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভয়ঙ্কর বিষাক্ত রেডিওঅ্যাকটিভ সুনামি সৃষ্টি করে।
কোন দেশের পক্ষে এই সুনামি আঘাত হানার পর প্রতিরক্ষার কোন সুযোগ নেই।
১০০ মেগাটনের নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ প্রায় ১৬০০ ফুট উচু সুনামি সৃষ্টি করতে পারে।
এই টর্পেডো সমুদ্রে টার্গেটের ১১৫ কিমি দুরে থেকেই টোটাল ডেসট্রাকশন নিশ্চিত করতে পারবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়।
কিছু বোঝার আগেই মুহূর্তে ছাই হয়ে গিয়েছিলো লাখ লাখ নারী পুরুষ শিশু আর সমগ্র হিরোশিমা শহর।
তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে আবারো কয়েকদিন পর নাগাসাকিতে একইভাবে পারমাণবিক হামলা করে ছাই বানিয়ে দেয়া হয় অগণিত মানুষকে।
এসবের আগে পারমাণবিক অস্ত্র ছিলো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী মাত্র।
আগামী বিশ্বযুদ্ধেও সেইসব অস্ত্র ব্যবহার হবে যা এখন সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী মাত্র।
ইতিমধ্যেই অনেক ঘটনা আমাদের ধারণার চাইতেও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
আমেরিকার আসন্ন আগ্রাসনের মোকাবেলা করার জন্য ভেনিজুয়েলা, কিউবা, কলম্বিয়া, গ্রীণল্যান্ড আর ইয়েমেনের মতো বিভিন্ন দেশে দীর্ঘমেয়াদি গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে।
গ্রেটার ইসরা ইল এর বিশাল মানচিত্র আর প্রকাশ্য ঘোষণা মনে রেখে ভবিষ্যত সামরিক আগ্রাসনের হুমকি এখন মাথায় ঢুকছে লেবানন, জর্ডান, মিশর, সিরিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক সহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেকগুলো দেশের।
ইউক্রেন বিপজ্জনক দ্রুতগতিতে রাশিয়ার কাছে মাইলের পর মাইল এলাকা হারাচ্ছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমান বন্দরগুলোতে হাইটেক সব ড্রোন নিষিদ্ধ এলাকায় ঢুকে পড়বার ঘটনায় জার্মানি, ডেনমার্ক , বেলজিয়াম, স্পেন, পোল্যান্ডে একের পর এক বিমান বন্দর সময় সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার হামলা আর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মাদুরোর গ্রেফতার ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর
ইরানে চলছে সর্বাত্মক যুদ্ধের মরণপণ প্রস্তুতি।
উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরী শেষ করে অস্ত্র ও মিসাইল উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
কিম জং উনকে আর সম্ভবত এতো বেশী মানুষের কাছে আগের মতো হাস্যকর বা পাগল মনে হচ্ছে না।
ইরান, গাজা আর উত্তর কোরিয়া আক্ষরিক অর্থেই ঘাস খেয়ে হলেও অস্ত্র বানিয়েছে।
চীন সারাদেশে মাটির নিচে ৫০০০ কিলোমিটার টানেল ও বাংকার তৈরী করে পারমাণবিক হামলা থেকে রক্ষা, মিসাইল সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণের ব্যবস্থা করেছে।
বেইজিং এর কাছে পেন্টাগনের চাইতেও ১০ গুণ বড় পারমাণবিক বাংকার তৈরী করে পারমাণবিক হামলা থেকে কেন্দ্রীয় সামরিক ও বেসামরিক নেতৃবৃন্দকে জরুরী আশ্রয় দেবার ব্যবস্থাও নিয়েছে।
শি জিনপিং সামরিক বাহিনীর মিসাইল পরিদর্শনের সময় চরম জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলার অনুভূতি সবসময় মাথায় রেখে বিশেষ প্রস্তুতি নেবার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
"Things fall apart;
the centre cannot hold;
Mere anarchy is loosed upon the world,
The blood-dimmed tide is loosed,
and everywhere
The ceremony of innocence is drowned;
The best lack all conviction,
while the worst
Are full of passionate intensity.
Surely some revelation is at hand;
Surely the Second Coming is at hand."
(The Second Coming - William Butler Yeats)
----------------------------------
Muslim World Official tm







Comments