Skip to main content

Posts

Showing posts from July, 2025

টিকটিকি মারলে সওয়াব হয় এই কথা কি ঠিক ?

   প্রশ্ন:  আসসালামু আলাইকুম! এক চাচার কাছ থেকে শুনলাম টিকটিকি মেরে ফেলা নাকি সওয়াবের কাজ।  এই কথা কি সত্য দলিলসহ জানালে ভালো হয়। উত্তর:  وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمْ وَ رَحْمَةُ اللّٰهِ وَ بَرَكَاتُهْ بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ   حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ. টিকটিকি একটি সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী। এটি ঘরের  বিভিন্ন আসবাবপত্রের উপর চলাফেরা করে। বিশেষ করে খাবার পাতিলে ও খাদ্যদ্রব্যের উপর মলমূত্র ত্যাগ করে। চিকিৎসকদের মতে এটি মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। এর মলমূত্র খাবারের সাথে পেটে গেলে পাতলা পায়খানা, পেট ব্যথা, বমি ইত্যাদি হতে পারে। হাদীসের ভাষ্যমতেও টিকটিকি মানুষের জন্য ক্ষতিকর তাই মেরে ফেলা সওয়াবের কাজ। তবে টিকটিকি মারার বিষয়টি জরুরী নির্দেশ নয়। অতএব এটাকে খুঁজে খুঁজে মারতে হবে বিষয়টি এমন নয়। মূলত ক্ষতিকর হওয়ার কারণে প্রয়োজনবোধে মারা যাবে এবং এতে সওয়াব রয়েছে। عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِقَتْلِ الْوَزَغِ وَسَمَّاهُ فُوَيْسِقًا  ১.অর্থ: আমির ইবনে সা’দ (রহ.) এর পিতা ...

শয়তানের পুরনো এক বাজারের ইতিহাস

  ধোকাবাজার: শয়তানের পুরনো এক বাজারের ইতিহাস লেখা: মুসলিম ওয়ার্ল্ড অফিসিয়াল টিম |  পৃথিবীতে বহু রহস্যময় স্থান আছে। কিছু জায়গা মানব ইতিহাসে এতটাই ছায়াচ্ছন্ন, এতটাই বিভ্রান্তিময় যে, সেখানে প্রবেশ মানেই এক অদৃশ্য কুফরি দুনিয়ার পর্দা ছুঁয়ে ফেলা। এমনই এক রহস্যময় নাম — ধোকাবাজার । এটি কোনো প্রচলিত বাজার নয়, বরং একটি শয়তানী ষড়যন্ত্রের প্রতীক। এটি এমন একটি কল্পনা বা চিত্রকল্প, যা বাস্তবের মতোই গভীরভাবে মুসলিমদের জীবনকে প্রভাবিত করে। এখানে যা বিক্রি হয় তা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু অন্তরকে ধ্বংস করে দেয়। 🔥 ধোকাবাজার বলতে আমরা কী বুঝি? ‘ধোকাবাজার’ শব্দটা এসেছে “ধোঁকা” ও “বাজার” এই দুটি শব্দ মিলিয়ে। এটি এমন একটি অদৃশ্য বাজার, যেখানে শয়তান তার পণ্যের দোকান খুলে বসে— হাসাদ (হিংসা) বিক্রি হয়, গীবত (পরনিন্দা) অফারে থাকে, রিয়া (লোক দেখানো আমল) একপ্রকার লোভনীয় সেল , ফেতনা (বিশৃঙ্খলা) ছাড়ে ছাড়ে। শয়তান এই বাজারে মানুষের ঈমান হরণ করার জন্য আকর্ষণীয় সব প্রলোভন সাজিয়ে রাখে। মানুষকে একবার প্রলুব্ধ করতে পারলেই সে তার লাভে চলে যায়। 📜 ইসলামের দৃষ্টিতে এই 'বাজ...

সুস্থ জীবন যাপনে মহানবী (সা.)‑এর ৯ অভ্যাস

🕋 MUSLIM WORLD 🌍 সুস্থ জীবন যাপনে মহানবী (সা.)‑এর ৯ অভ্যাস on [July 30, 2025] ( https://muslimworld1m.blogspot.com/2025/07/blog-post_50.html ) মনযূরুল হক আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৫, ১২:১২ মহানবী (সা.)‑এর জীবনশৈলী আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও স্বাস্থ্য, মানসিক শান্তি এবং সমাজের কল্যাণের আদর্শ। তাঁর দৈনন্দিন অভ্যাসগুলো আজকের সুস্থ জীবনযাপনের জন্য অনুকরণীয়। ১. ভোরে ওঠা নবীজি (সা.) ভোরবেলা উঠে নিয়মিত নামাজ ও ইবাদাত করতেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ভোরবেলায় ওঠলে মনোযোগ বাড়ে, মানসিক চাপ কমে। দিনের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। ২. কম খাওয়া তিনি পেটের ১/৩ ভর, ১/৩ পানি ও ১/৩ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ফাঁকা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, ওজন নিয়ন্ত্রণ, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও দীর্ঘায়ুর সাথে এটি সম্পর্কিত। ৩. ধীরে খাওয়া তাড়াহুড়ো না করে খাবার চিবিয়ে ধীরে ধীরে খেতে নবীজি (সা.) উৎসাহ দিতেন। এটি হজমশক্তি উন্নত করে ও অতিরিক্ত খাওয়া প্রতিরোধ করে। ৪. একসঙ্গে খাওয়া তিনি বলেছেন, “একসঙ্গে খাও, পৃথকভাবে নয়—কারণ বরকত সঙ্গীদের সঙ্গে থাকে।” এটি সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা গড়ে তোলে। ৫. ধী...

রাগ নিয়ন্ত্রণে হাদিসের ৭ উপদেশ

  রাগ নিয়ন্ত্রণে হাদিসের ৭ উপদেশ রাগ মানুষের সহজাত একটি আবেগ। এটি কখনো উত্তেজনার, কখনো হতাশার, আবার কখনো অন্যায় বা অবিচারের প্রতিক্রিয়ায় আত্মপ্রকাশ করে। তবে রাগ যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা ধ্বংসাত্মক হয়ে দাঁড়াতে পারে—মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, সম্পর্ক নষ্ট করে, এমনকি অপরাধমূলক কাজের দিকে ঠেলে দেয়। ইসলাম রাগকে কীভাবে দেখে? ইসলামে রাগকে নিছক একটি আবেগ হিসেবে দেখা হয় না—বরং এটিকে এমন একটি পরীক্ষাস্বরূপ মনে করা হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করা ইমানদারের গুণ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে রাগ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে বহুবার উপদেশ দেয়া হয়েছে। ইমাম বাকির (আ.) বলেন: “নিশ্চয়ই এই রাগ হলো শয়তানের প্রজ্বলিত একটি স্ফুলিঙ্গ, যা আদম সন্তানের হৃদয়ে জ্বলে ওঠে।” — (আল-কাফি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০৪, হাদিস: ১২) ✅ হাদিস থেকে রাগ নিয়ন্ত্রণের ৭টি উপদেশ: ১. চুপ থাকা (السكوت) রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ রাগান্বিত হবে, তখন যেন সে চুপ থাকে।" — (তিরমিজি) রাগে অনেক সময় মানুষ এমন কিছু বলে ফেলে, যা সে পরবর্তীতে অনুশোচনায় পুড়তে বাধ্য হয়। তাই চুপ থাকাই শ্রেয়। ২. জায়গা পরিবর্তন করা ...

ভক্তিতেও সন্তুষ্ট হলো না দেবতা ট্রাম্প, ক্ষোভে পুড়ছে ভারতের রাজনীতি এবং মিডিয়া অঙ্গন

 **ভক্তিতেও সন্তুষ্ট হলো না দেবতা ট্রাম্প, ক্ষোভে পুড়ছে ভারতের রাজনীতি এবং মিডিয়া অঙ্গন:** ২০২০ সালের ট্রাম্প যখন ভারত সফর করেছিলেন তখন ভারতীয় মিডিয়াতে এই ছবিটি বেশ হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল। ট্রাম্পের সমর্থনে একজন ভারতীয় রীতিমতো ট্রাম্পের মূর্তি বানিয়ে সেটাকে পূজা করছিলেন। বিষয়টি অত্যন্ত হাস্যকর হলেও দেখিয়ে দিয়েছিল ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কত গভীর। অন্যদিকে ট্রাম্পের সাথে মোদির সম্পর্ক কতটা গভীর এটা তারই নমুনা মাত্র। এরপরে জো বাইডেন ক্ষমতায় এলে ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আর আগের মত থাকেনি। রাশিয়ার সাথে ভারতের গভীর সম্পর্ক, চীন এবং ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিদায়ে যুক্তরাষ্ট্র- ভারতের সম্পর্কের চির ধরে। ২০২৪ এর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে ঘিরে ভারতীয় মিডিয়ায় ট্রাম্পের প্রচারণার কমতি ছিল না। আর তাই ট্রাম্পের জয়ের পর ভারতীয় মিডিয়াগুলোতে রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ট্রাম্প ফিরলেন ঠিকই তবে বন্ধু হয়ে নয়, হিসাব নিতে!! প্রথমেই শত শত...

বিভ্রান্তির সূচনা — সাধারণ মুসলমান কেন আজ বিভ্রান্ত? পর্ব ১:

  ইসলামী বিভ্রান্তি ও করণীয় পর্ব ১: বিভ্রান্তির সূচনা — সাধারণ মুসলমান কেন আজ বিভ্রান্ত? ❝তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না❞ — (সূরা আলে ইমরান, ৩:১০৩) এক সময় ছিল, যখন সাধারণ মুসলমানদের প্রশ্ন ছিল—“হুজুর, এটা কীভাবে করবো?” আর এখন প্রশ্নটা বদলে গেছে— “হুজুর, আপনি তো ওর মতো বলেন না, আমি কার কথা শুনবো?” এই পরিবর্তনটা হঠাৎ হয়নি। এর পেছনে লুকিয়ে আছে বহু বছরের বিভ্রান্তি, দলবাজি, এবং ভুল দিশার চর্চা। আজ মুসলিম সমাজে সবচেয়ে বড় সংকট— “কাকে অনুসরণ করবে মানুষ?” সবার হাতে কুরআন, সবার মুখে হাদীস, অথচ একেকজন একেক কিছু বলছে। এই বিপর্যয়ের শুরুটা কিন্তু বাইরে থেকে নয়, আমাদের ভিতর থেকেই। ✅ সাধারণ মুসলমান কেন বিভ্রান্ত? ১. দলীয় পরিচয়ের প্রাধান্য: — মুসলমান আগে, নাকি ‘জামাতি’, ‘সালাফি’, ‘সুন্নি’, ‘শিয়া’ আগে? এই প্রশ্নই প্রমাণ করে বিভ্রান্তির গভীরতা। ২. ইউটিউব ইসলাম: — এখন যে কেউ টাইটেল লাগিয়ে ‘মুফতি’ বা ‘শাইখ’ হয়ে যায়। হাজারো ভিউ, অথচ ভিতরে গোমরাহি—মানুষ বুঝতে পারে না। ৩. আলেমদের প্রতি আস্থা হারানো: — কারণ আলেমরা নিজেদের মধ্যে ঐক্য দেখাতে পারেন...

হারিয়ে যাওয়া এক সাম্রাজ্যের স্মৃতি: ১৯৭০-এর দশকের ইস্তানবুলে বিক্রি হওয়া অটোমান সাম্রাজ্যের একটি মানচিত্র

  🕌 হারিয়ে যাওয়া এক সাম্রাজ্যের স্মৃতি: ১৯৭০-এর দশকের ইস্তানবুলে বিক্রি হওয়া অটোমান সাম্রাজ্যের একটি মানচিত্র 📜  ইতিহাস কখনো শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো সেটা ছাপা হয় পোস্টকার্ডে, কখনো আঁকা হয় কাপড়ের টুকরোয়, আবার কখনো পর্যটকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এক টুকরো স্মৃতিরূপে। ঠিক তেমনি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হল ১৯৭০-এর দশকের ইস্তানবুলে বিক্রি হওয়া হাতে আঁকা অটোমান সাম্রাজ্যের মানচিত্র—যা শুধুমাত্র মানচিত্র নয়, বরং একটি রাজনৈতিক নস্টালজিয়ার রূপ। 🗺️ মানচিত্রের পরিচিতি ও তাৎপর্য: এই মানচিত্রটি ছিল একটি পর্যটন-স্মারক (souvenir) যা তৎকালীন ইস্তানবুলে বিদেশি পর্যটকদের কাছে বিক্রি করা হতো। এর চিত্রকলায় ব্যবহার করা হয়েছে খণ্ডিত অটোমান ভূখণ্ড, প্রাচীন শহরসমূহের নাম, ঐতিহ্যবাহী ক্যালিগ্রাফি, এবং রাজকীয় চিহ্ন—যা সেই সময়কার লোকদের কল্পনার সাম্রাজ্যকে ফিরিয়ে আনে। এই মানচিত্র শুধু ইতিহাস দেখায় না, বরং ইতিহাসকে এক ধরনের আবেগময় গৌরবে রূপ দেয়। তুরস্কে তখন আধুনিকতা আর ধর্মনিরপেক্ষতার উত্থান চলছিল, কিন্তু একইসাথে সাধারণ মানুষ, দোকানদার, শিল্পী—সবাই কেউ না কেউ অটো...

কানের ভিতর টিকটিকি! — এক ভয়াবহ বাস্তবতা

  কানের ভিতর টিকটিকি! — এক ভয়াবহ বাস্তবতা মানুষের কানে টিকটিকি ঢুকতে পারে! শুনতে যতই অবিশ্বাস্য মনে হোক না কেন, এটা বাস্তবে ঘটেছে। আর এমন ঘটনা শুধু গল্পেই নয়—ঘটছে আমাদের চারপাশেই, প্রায়শই। সম্প্রতি এক ব্যক্তির কানের মধ্যে একটি জীবন্ত টিকটিকি প্রবেশ করে। সেই ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে কানে অস্বস্তি অনুভব করছিলেন। শুরুতে তিনি বুঝতে পারেননি কী হয়েছে, কিন্তু ব্যথা বাড়তে থাকলে হাসপাতালে যান। চিকিৎসকরা যখন তার কান পরীক্ষা করেন, তখন তারা হতবাক হয়ে যান—কারণ কানের ভিতর একেবারে ভেতরে জড়িয়ে আছে একটা আস্ত টিকটিকি! অবস্থা এতটাই ভয়ানক ছিল যে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই টিকটিকিকে বের করতে হয়। এই ঘটনা ভিডিও আকারে রেকর্ড করা হয়েছে এবং তা নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শিউরে উঠেছে হাজারো মানুষ। কীভাবে এমনটা সম্ভব? রাতের ঘুম, অজ্ঞান থাকা, বা অবহেলার কারণে কানে এমন ধরনের পোকা-মাকড় কিংবা সরীসৃপ ঢুকে যেতে পারে। বিশেষত যারা গ্রামে, কুঁড়েঘরে বা খোলা জানালার ঘরে ঘুমান, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি। ইসলামের দৃষ্টিতে সতর্কতা ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে—ঘুমানোর আগে দরজা-জানালা বন্ধ করতে, পানি ও খাবার ঢ...

স্বপ্ন দেখতে দেখতে মদিনা থেকে মক্কায় এসেছি।

  __মুহাম্মাদ, আমার আরবের বন্ধু! . সৌদি সরকার গত বছর ইতিকাফের নতুন নিয়ম জারি করেছে। মাসজিদুল হারামে ইতিকাফ করতে হলে অনলাইনে আবেদন করতে হবে একটা নির্দিষ্ট অ্যাপে। যাদের আবেদন গৃহীত হবে কেবল তারাই সুযোগ পাবে হারামের ভেতর ইতিকাফে বসার। এই পরিকল্পনার হেতু কী জানি না, কিন্তু হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া এই নিয়ম ইতিকাফের জন্য মুখিয়ে থাকা অসংখ্য আল্লাহর বান্দাদের জন্য একপ্রকার ‘ভোগান্তি’ হিশেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমি গুনাহগার সেই দলের একজন। কারণ, আমি যখন এই নিয়মের কথা জানতে পারি ততোক্ষণে অ্যাপে নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাসজিদুল হারামে ইতিকাফে বসবো এমন স্বপ্ন দেখতে দেখতে মদিনা থেকে মক্কায় এসেছি। কিন্তু নতুন এই নিয়ম যেনো সমস্ত স্বপ্ন আর আশার মধ্যে পানি ঢেলে দিলো। সৌদি সরকারের নিয়মকানুন মানে তো জানেন—সোয়ার ওপরে সোয়া সের! ঊনিশে রামাদানের বিকেল। ইতিকাফ-প্রত্যাশী সকলে নিজেদের প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড়, জিনিসপত্র সমেত প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে মিশে যাচ্ছে। যদিও আবেদন করতে পারিনি, কিন্তু কী মনে করে হোটেল থেকে আমিও একটা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম। মন বলছিলো যে, কোনো একটা উপায় নিশ্চয় মিলে যাবে, ইন শা আল্লাহ। মাসজি...

আমার মেয়েটাকে ওর স্কুল থেকে নিয়ে ঘরে ফিরেই উত্তরার দুর্ঘটনার সংবাদ শুনলাম

 আমার মেয়েটাকে ওর স্কুল থেকে নিয়ে ঘরে ফিরেই উত্তরার দুর্ঘটনার সংবাদ শুনলাম। যেসকল ছবি আর ভিডিওগুলো পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো স্রেফ দেখার মতো নয়। কী মর্মান্তিক!! সকালবেলা কতো পরিপাটি করে বাবা-মায়েরা বাচ্চাগুলোকে স্কুলে পাঠালেন। কয়েক ঘণ্টা পরেই এমন দুর্ঘটনা! বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা শোকাবহ দিন হয়ে থাকবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আহতদের দ্রুত শিফা দিন৷ নিহতদের জান্নাতের উঁচু মাকাম দিন। ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারকে দিন সবরুন জামিল। কতো সুন্দর শুরু হওয়া দিন কেমন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেল। বাচ্চাগুলোর কথা ভাবতেই মনটা ভারী হয়ে উঠছে। ঠিক আমার বাচ্চার বয়েসী। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। যারা আশেপাশে আছেন, বার্ণ ইউনিটগুলো সহ, যেখানে আহতদের নেওয়া হচ্ছে সেসকল হাসপাতালগুলোর খোঁজখবর রাখবেন দয়া করে। প্রচুর ব্লাড লাগবে অনেকের৷ মানুষের জন্য এগিয়ে আসার সুযোগ সবসময় আসে না৷ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এই শোক এবং এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠার তাউফিক দিন।

★খলিফা আব্দুল মালিকঃআরবীয় তথা মুসলিম মুদ্রার জনক।★

 ★খলিফা আব্দুল  মালিকঃআরবীয় তথা মুসলিম  মুদ্রার জনক।★ উমাইয়া খলিফা আব্দুল  মালিকই প্রথম  আরবদের  তথা মুসলমানদের   জন্য  নিজস্ব  মুদ্রার প্রচলন  করেন।এর আগে আরবদের নিজস্ব  বা মুসলমানদের  কোন মুদ্রা বা টাকশাল  ছিল না।তারা রোমান ও পারসিক মুদ্রা  দিয়ে ব্যবসা -বাণিজ্য  চালাতো।রাসূল সাঃ ও হযরত  আবু বকর  রাঃ এর আমলে রোমান ও পারসিক  মুদ্রার পাশাপাশি  পেঁচার অবয়ব  খঁচিত হিমারি মুদ্রাও ব্যবহৃত  হত।হযরত ওমর  রাঃ  এর সময়ে মুসলিম  খিলাফতের সম্প্রসারণ  ঘটে। তখনও  রোমানদের স্বর্ণমুদ্রা ও সাসানিয়দের রৌপ্যমুদ্রা  ব্যবহৃত  হত। তবে এর পাশাপাশি  প্রাদেশিক  গভর্নরগণ নিজস্ব  স্বাধীন টাকশালে প্রাচীন  মুদ্রায় কুরআনের  আয়াত খোদাই  করে মুদ্রা তৈরি  করতেন।মুদ্রার ওজন,ছাপ,মূল্য  ও আকৃতি পুরো  খিলাফত জুড়েই অনির্ধারিত ছিল।মুয়াবিয়া  রাঃ উমাইয়া খিলাফত  প্রতিষ্ঠা  করলেও তিনিও মুদ্রা ব্যবস্থা  সংস্কার  করেননি...

যে নামটা শুনলেই একজন নারীর নাম ভেসে উঠে।

 বিবি খানম মসজিদ সমরকন্দের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভগুলির মধ্যে একটি। যে নামটা শুনলেই একজন নারীর নাম ভেসে উঠে। ১৩৯৯ থেকে ১৪০৪ সালের মধ্যে আমির তৈমুর কর্তৃক নির্মিত, যিনি তাঁর স্ত্রীর নামে এই পবিত্র স্থাপনাটি নজির রেখে গেছেন। এটি ১৫ শতকে ইসলামী বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে দর্শনীয় মসজিদগুলোর মধ্যে একটি ছিল। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, এর কেবল একটি বিশাল ধ্বংসাবশেষ টিকে ছিল, তবে এখন মসজিদের বেশিরভাগ অংশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। যে নির্মাণকাজে বিমুগ্ধ গোটা মানবকুল। যেখানে নকশায় ফুটে উঠেছে কুরআনের সূরা বাকারার বিশেষ আয়াতখানা। শিল্পকলার সকল উপকরণে সজ্জিত পবিত্র স্থাপনাটি আজও বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আছে। যখন আমাদের মধ্যে মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান ছাড়া আর কিছুই না, নববী যুগের মসজিদের সেই ভিত্তি রক্ষা পায়নি, মসজিদের মূল উদ্দেশ্য থেকে বঞ্চিত, যেখানে আমাদের নিজস্ব মসজিদের মডেল দেখানো যায় না সেখানে অনায়াসেই ওদিকে দেখতে হয়। মসজিদের বয়ান ও মূল ভিত্তি গেড়েছিল যার মাধ্যমে, তিনি হলেন আল্লাহর প্রিয় আবদ, দুনিয়া ও আখেরাতের সম্মানিত নারীদের অন্যতম একজন হযয়ত মারঈয়াম (আ:)। যাঁকে মহান সৃ...

বাদশাহ আওরঙ্গজেব আলামগীর

 ''বাদশাহ আওরঙ্গজেব আলামগীর"  সম্রাট মুহিউদ্দিন মুহাম্মাদ আওরঙ্গজেব আলামগীর বাদশাহ্ গাজী। তিনি ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের ষষ্ঠ সম্রাট এবং ভারতের সবচাইতে শক্তিশালী সম্রাটদের একজন। তিনি ভারতের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মুসলিম শাসক। তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্তৃতি ঘটান এবং তাঁর সময়ে মুঘল সাম্রাজ্য প্রায় সমগ্র ভারত ব্যাপী বিস্তৃত হয়। তিনি ডেকান শিয়া সালতানাতসমূহের চূড়ান্ত পতন ঘটান এবং তাঁর সময়ে মুঘল সাম্রাজ্যের আয়তন দাঁড়ায় ৪০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার বা, ৪ মিলিয়ন। তিনি তাঁর সাম্রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহ আইনের প্রবর্তন করেন এবং গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। তিনি বাদশাহ আকবর কর্তৃক রহিতকৃত অমুসলিমদের উপর জিজিয়া কর পুনরায় চালু করেন। তিনি ''ফতোয়া-ই আলামগীরী" নামে সাম্রাজ্যের আইন সংস্কার করেন । আওরঙ্গজেব মদ্যপানের উপর  নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তিনি বিদ্রোহাত্মক হুমকিদায়ক কার্যকলাপ ও বিশৃঙ্খলার অবতারণাকারী শিখ গুরু তেগ বাহাদুর কে মৃত্যুদণ্ড দেন। আওরঙ্গজেব (রহ.) ছিলেন যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান। তাঁর পিতা সম্রাট শাহাব উদ্দিন মুহাম্মাদ শাহ জাহান উরফে মুহাম্মাদ খ...

ভ্লাদ ড্রাকুলা দ্য থার্ড : দ্য ইম্পেলার,দ্য ডেভিল এন্ড দ্য লেজেন্ড

 ভ্লাদ ড্রাকুলা দ্য থার্ড : দ্য ইম্পেলার,দ্য ডেভিল এন্ড দ্য লেজেন্ড  পর্ব-১  প্রসঙ্গকথা:  ১৪০২ সালে এশিয়ার সর্বশেষ দিগ্বিজয়ী আমির তাইমুরের হাতে বিধ্বস্ত হলো উসমানি সাম্রাজ্য। ইওরোপ জুড়ে তখন বইছে খুশির হাওয়া।খন্ড-বিখন্ড উসমানি সালতানাতের দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী হতে লাগলো পূর্ব ইওরোপের রাষ্ট্রগুলো। তেমনি পিছিয়ে ছিলো না দক্ষিণ-পূর্ব ইওরোপের একটি রাষ্ট্র,ওয়ালাচিয়া।ওয়ালাচিয়ার তৎকালীন গভর্নর প্রিন্স মার্সিয়া দ্য এল্ডার নিজেকে শক্তিশালী করলেন বটে,উপরন্তু গৃহযুদ্ধের অন্যতম প্রতিপক্ষ মুসা বে'কে সর্বপ্রকার সাহায্য-সহযোগিতা করলেন। মার্সিয়া দ্য এল্ডারের মৃত্যুর ঠিক ২৮ বছর পর ওয়ালাচিয়ার সিংহাসনে আগমন হলো এমন এক যুবরাজের,যে ওয়ালাচিয়া তো বটেই,বরং তাবৎ পৃথিবীতে স্মরণীয় হয়ে আছে।কোথাও প্রতিরোধ যুদ্ধের নায়ক হিশেবে, আর কোথাও দ্য ডেভিল হিশেবে।তুর্কিদের কাছে তিনি পরিচিত  দ্য ইম্পেলার ডাকনামে। কে ছিলো সেই প্রিন্স! চলুন,আপনাদের নিয়ে যাই ১৫'শ শতাব্দীর ওয়ালাচিয়ার রাজদরবারে।  ১- ওয়ালাচিয়ান ভূখন্ডে- পূর্ব ও পূর্ব-দক্ষিণ ইওরোপের সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ নদী দানিয়ুব। বর্তমানে দানি...

বন্দি ৫ হাজার মুসলমানকেও জবাই করব

 সালাহুদ্দীন আইয়ুবী রাহ.-এর আলকুদস জয় ১৫ রজব ৫৮৩ হিজরীতে সালাহুদ্দীন আইয়ুবী আলকুদস অবরোধ করেন। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে শহর হস্তান্তরের প্রস্তাব দেন। কিন্তু শহরের পাদ্রী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। সালাহুদ্দীন আইয়ুবী টানা ১২ দিন মিনজানিক দিয়ে অব্যাহত আক্রমণ করে যান। হামলার ভয়াবহতা দেখে ক্রুসেডাররা শান্তি প্রস্তাব করে। সালাহুদ্দীন আইয়ুবী প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তোমরা দীর্ঘ ৯২ বছর মুসলমানদের সাথে যে আচরণ করেছ, আমি তোমাদের সাথে সে আচরণই করব। ক্রুসেডাররা জবাবে বলে, আমরা আমাদের সন্তান, নারী ও পশুদের হত্যা করব। তারপর বাইতুল মাকদিস জ্বালিয়ে দেব। আমাদের হাতে বন্দি ৫ হাজার মুসলমানকেও জবাই করব। তারপর মরণপণ লড়াই করব। এ জবাব শুনে সালাহুদ্দীন আইয়ুবী দ্বিধায় পড়ে যান। পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, বাইতুল মাকদিস হস্তান্তরের পর জিযিয়ার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। ২৭ হিজরী রজব মাসে আলকুদস শহর মুসলমানদের হাতে আসে। ক্রুসেডাররা মসজিদে আকসাকে এতটাই অপরিচ্ছন্ন করেছিল যে, তা পরিষ্কার করতে এক সপ্তাহ লেগে যায়। সালাহুদ্দীন আইয়ুবী এ বছর ঈদুল আযহা আল-কুদসে উদ্যাপন করেন। ৫৮৫ হিজরীর রজব মাসের মাঝামাঝিতে ক্রুসেডাররা গা...

মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র !

  মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র ও ইসলামি নেতৃত্বের উত্তরণ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাষ্ট্রচিন্তা** মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হয়েছিল, তার অন্যতম ছিল ভেতরের শত্রু — মুনাফিকদের দল। বাহ্যত ইসলাম গ্রহণ করলেও, এদের অন্তর ছিল কুফর, হিংসা ও ষড়যন্ত্রে ভরপুর। এদের নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালূল হিজরতের আগে মদীনার রাজত্ব পাওয়ার স্বপ্ন দেখত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.-এর আগমনে সেই ক্ষমতার সুযোগ হারিয়ে সে ইসলাম গ্রহণ করে মুখে, কিন্তু মনে কুফর লালন করতে থাকে। তারা মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি, গুজব ও অবিশ্বাসের বীজ বপন করত, যা রাষ্ট্রের একতা ও নিরাপত্তার জন্য ছিল হুমকিস্বরূপ। মুনাফিকরা বিভিন্ন সময়ে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। উহুদের যুদ্ধে তারা ৩০০ সৈন্য ফিরিয়ে এনে মুসলিম বাহিনী দুর্বল করে। খন্দকের যুদ্ধের সময় ইহুদিদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ করে মুসলমানদের পেছন থেকে আঘাত করার চেষ্টা করে। ‘ইফকের ঘটনা’-য় তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.-এর স্ত্রী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়িয়ে মুসলি...

বাংলায় হিন্দু জমিদারদের উত্থান যেভাবে _

  বাংলায় হিন্দু জমিদারদের উত্থান যেভাবে- সম্রাট আওরঙ্গজেব আলমগীর। দিল্লির প্রতাপশালী শাসক,জ্ঞান-গরিমায় তিনি ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন তার পূর্বসূরি সব সুলতানকে। প্রতাপ আর শক্তিতে ছুঁয়ে ফেলেছিলেন তার দাদা আকবর দ্য গ্রেটকে।  কিন্তু,আওরঙ্গজেব শীঘ্রই ভুল করলেন। উত্তর ভারত ছেড়ে তিনি গেলেন দক্ষিনে। উদ্দেশ্য, এবার দক্ষিণের রাজ্যগুলো পদানত করবেন। বাস্তবে তিনি পা দিয়েছিলেন এক চোরাবালিতে৷পাহাড়,নদীতে ঘেরা দক্ষিণ ভারত চিরকালই দূর্ভেদ্য ছিলো। আওরঙ্গজেব সেটা বুঝতে ভুল করেছিলেন।  যাই হোক,যুদ্ধ চালাতে প্রয়োজন হয় কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ। রাজ্যগুলোকে এই অতিরিক্ত অর্থের যোগান দিতে হতো। একসময় উত্তর ভারতের রাজ্যগুলো অর্থের যোগান দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলো। সম্রাটের চোখ গেলো বাংলার দিকে।  উপমহাদেশের তৎকালীন সবচেয়ে ধনী রাজ্যের দিকে।  বাংলা যে নিয়মিত অর্থ পাঠাতো না, এমন নয়। কিন্তু,সম্রাটের তো নগদ অর্থের দরকার পড়ছিলো।৷স্বাভাবিক নিয়মে দিল্লিতে অর্থ পাঠানো হতো মুহাররমের শুরুতে। ততদিন অপেক্ষা করা তো সম্ভব না। সম্রাটের নগদ অর্থ চাইই।  সম্রাট তার বিশ্বস্ত সেবক মুর্শিদকুলী খানকে পাঠালেন বাংলায়। নির্দেশনা ...

প্রাচীন গ্রীসের গৌরবময় স্থাপত্য কেমন ছিল ?

         পার্থেনন: প্রাচীন গ্রীসের গৌরবময় স্থাপত্য পার্থেনন (Parthenon) হলো প্রাচীন গ্রীসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি এবং অ্যাথেন্স শহরের প্রতীক। এটি অ্যাথেন্সের এক্রোপলিসে অবস্থিত, যা একটি উঁচু পাথুরে প্রাচীন দুর্গ। পার্থেনন শুধু একটি মন্দির নয়; এটি ছিল দেবী অ্যাথেনার জন্য নিবেদিত এক পবিত্র স্থান, যিনি ছিলেন শহরের রক্ষাকর্ত্রী ও বুদ্ধিমত্তার দেবী। নির্মাণ ও ইতিহাস পার্থেনন নির্মাণ শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪৪৭ সালে এবং শেষ হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪৩২ সালের মধ্যে। এটি নির্মাণ করেছিলেন অ্যাথেন্সের নেতা পেরিক্লিস (Pericles), যিনি এক্রোপলিস পুনর্গঠনের নেতৃত্ব দেন। মূল স্থপতি ছিলেন ইক্টিনোস (Ictinus) ও কাল্লিক্রেটিস (Callicrates), এবং ভাস্কর্য পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিলেন বিখ্যাত শিল্পী ফিদিয়াস (Phidias)। এই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল পারস্য যুদ্ধের পর, যখন অ্যাথেন্স সামরিক ও সাংস্কৃতিকভাবে উত্থানশীল ছিল। এটি অ্যাথেন্সের গৌরব, শক্তি এবং শিল্পকলার উৎকর্ষকে প্রতিফলিত করে। স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য পার্থেনন একটি ডোরিক শৈলীতে নির্মিত মন্দির, যা গ্রীক স্থাপত্যের অন্যতম প্রধান ধারা।...