Skip to main content

★খলিফা আব্দুল মালিকঃআরবীয় তথা মুসলিম মুদ্রার জনক।★


 ★খলিফা আব্দুল  মালিকঃআরবীয় তথা মুসলিম  মুদ্রার জনক।★


উমাইয়া খলিফা আব্দুল  মালিকই প্রথম  আরবদের  তথা মুসলমানদের   জন্য  নিজস্ব  মুদ্রার প্রচলন  করেন।এর আগে আরবদের নিজস্ব  বা মুসলমানদের  কোন মুদ্রা বা টাকশাল  ছিল না।তারা রোমান ও পারসিক মুদ্রা  দিয়ে ব্যবসা -বাণিজ্য  চালাতো।রাসূল সাঃ ও হযরত  আবু বকর  রাঃ এর আমলে রোমান ও পারসিক  মুদ্রার পাশাপাশি  পেঁচার অবয়ব  খঁচিত হিমারি মুদ্রাও ব্যবহৃত  হত।হযরত ওমর  রাঃ  এর সময়ে মুসলিম  খিলাফতের সম্প্রসারণ  ঘটে। তখনও  রোমানদের স্বর্ণমুদ্রা ও সাসানিয়দের রৌপ্যমুদ্রা  ব্যবহৃত  হত। তবে এর পাশাপাশি  প্রাদেশিক  গভর্নরগণ নিজস্ব  স্বাধীন টাকশালে প্রাচীন  মুদ্রায় কুরআনের  আয়াত খোদাই  করে মুদ্রা তৈরি  করতেন।মুদ্রার ওজন,ছাপ,মূল্য  ও আকৃতি পুরো  খিলাফত জুড়েই অনির্ধারিত ছিল।মুয়াবিয়া  রাঃ উমাইয়া খিলাফত  প্রতিষ্ঠা  করলেও তিনিও মুদ্রা ব্যবস্থা  সংস্কার  করেননি। তিনিও প্রাচীন  রোমান স্বর্ণমুদ্রা দিনারিয়াস ও সাসানিয় রৌপ্য  মুদ্রা ড্রাচিম ব্যবহার  করেন।তবে কখনো  কখনো কিছু রদবদল আনা  হয়।এরপর খলিফা আব্দুল মালিকই প্রথম আরবি  মূদ্রার  প্রচলন  করেন ও জাতীয়  টাকশাল  নির্মাণ করেন।৬৯৭ সালে দামেস্কে কেন্দ্রীয় টাকশাল  নির্মিত  হয়।সেখান থেকে আরবী অক্ষর‍যুক্ত নির্দিষ্ট এবং সর্বজনস্বীকৃত একক মুদ্রামানের দিনার বা স্বর্ণমুদ্রা,দিরহাম বা রৌপ্য মুদ্রা ও ফালুস বা তাম্র মুদ্রার প্রচলন  করা হয়।কুফা বিজিত হয় হাজ্জাজ বিন  ইউসুফ  সেখান থেকেও দিরহাম  তৈরি করতেন। আরবি  মুদ্রা দিনার এর নাম এসেছে রোমান দিনারিরাস থেকে আর দিরহাম এসেছে সাসানিয় ড্রাকমা শব্দ থেকে।মুসলিম  মুদ্রা প্রচলনে এই দুই সভ্যতার  প্রভাব ছিল স্পষ্ট। প্রতিটি  মুদ্রায় কালেমা,মুদ্রা  অংকনের তারিখ ও টাকশালের নাম অংকিত থাকতো।এর ফলে জাল মুদ্রার প্রচলন  বন্ধ হয়,প্রশাসনে আরবীয়করণ প্রতিষ্ঠা পায়  এবং ব্যবসা -বাণিজ্যের প্রসার ঘটে।আরবি  মুদ্রার প্রচলন  ছিল খলিফা আব্দুল  মালিকের অন্যতম প্রধান কৃতিত্ব।

Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...