Skip to main content

স্বপ্ন দেখতে দেখতে মদিনা থেকে মক্কায় এসেছি।


 

__মুহাম্মাদ, আমার আরবের বন্ধু!


.

সৌদি সরকার গত বছর ইতিকাফের নতুন নিয়ম জারি করেছে। মাসজিদুল হারামে ইতিকাফ করতে হলে অনলাইনে আবেদন করতে হবে একটা নির্দিষ্ট অ্যাপে। যাদের আবেদন গৃহীত হবে কেবল তারাই সুযোগ পাবে হারামের ভেতর ইতিকাফে বসার। এই পরিকল্পনার হেতু কী জানি না, কিন্তু হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া এই নিয়ম ইতিকাফের জন্য মুখিয়ে থাকা অসংখ্য আল্লাহর বান্দাদের জন্য একপ্রকার ‘ভোগান্তি’ হিশেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমি গুনাহগার সেই দলের একজন। কারণ, আমি যখন এই নিয়মের কথা জানতে পারি ততোক্ষণে অ্যাপে নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


মাসজিদুল হারামে ইতিকাফে বসবো এমন স্বপ্ন দেখতে দেখতে মদিনা থেকে মক্কায় এসেছি। কিন্তু নতুন এই নিয়ম যেনো সমস্ত স্বপ্ন আর আশার মধ্যে পানি ঢেলে দিলো। সৌদি সরকারের নিয়মকানুন মানে তো জানেন—সোয়ার ওপরে সোয়া সের!


ঊনিশে রামাদানের বিকেল। ইতিকাফ-প্রত্যাশী সকলে নিজেদের প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড়, জিনিসপত্র সমেত প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে মিশে যাচ্ছে। যদিও আবেদন করতে পারিনি, কিন্তু কী মনে করে হোটেল থেকে আমিও একটা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম। মন বলছিলো যে, কোনো একটা উপায় নিশ্চয় মিলে যাবে, ইন শা আল্লাহ।


মাসজিদুল হারামের এরিয়াতে এসে মিশরের একটা দলের দেখা পেলাম যারাও আমার মতো ইতিকাফ-প্রত্যাশী, কিন্তু ভাগ্যে অ্যাপের ছাড়পত্র জোটেনি। তারাও বলাবলি করছিলো ইতিকাফ বিষয়ে এবং আবেদন করা ছাড়া কীভাবে মসজিদের ভেতরে ইতিকাফ করা যাবে সেসব নিয়েও। মনে হলো তাদের সঙ্গে থাকলে একটা বন্দোবস্ত হয়তো হয়েও যেতে পারে, তাই সেই দলটার মধ্যে নিজেকে যুক্ত করে ফেললাম।


মাসজিদুল হারাম আর মাসজিদ আন নববীতে যারা গার্ডের দায়িত্বে থাকেন তাদের একটা বিষয় মা শা আল্লাহ অনেক চমৎকার! নিয়ম মানে নিয়ম—এর ব্যত্যয় করার একবিন্দু সুযোগ জ্ঞাতসারে ওরা সচরাচর কাউকে দেয় না। কারো হাতে কোনো লাঠি নেই, কোনো বাঁশি নেই, কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষকে তারা নিয়ন্ত্রণ করছে অনায়াসে—ব্যাপারটা অন্যরকম সুন্দর বৈ কি!


আমরা ঠিক করলাম—ভিড়ের স্রোতে মিশে গিয়ে আমরা মাসজিদুল হারামের ভেতরে ঢুকে পড়বো এবং সুবিধেমতো জায়গা দেখে ইতিকাফের নিয়তে বসে পড়বো। পরে কেউ যদি তদারকিতে আসে এবং ছাড়পত্র নেই বলে তুলে দেয় তো ভিন্ন বিষয়। যে-ই ভাবা সেই কাজ। প্রচণ্ড পানির স্রোতের মতো চারদিকে মানুষ, আর একটু বাদেই শুরু হবে রামাদানের বিশতম রাত—ইতিকাফেরও শুরু। হাজার হাজার মানুষ হুড়মুড় করে ঢুকছে মাসজিদুল হারামের মধ্যে। সেরকম একটা ভিড়ের মধ্যে একীভূত হয়ে আমরাও ঢুকে পড়লাম হারামের এক্সটেনশান বিল্ডিংয়ের একটা ফ্লোরে।


ভেতরে এসে যে জায়গাটা পেয়েছি সেটা পছন্দ করার মতোই বটে! একেবারে শেষের সারি। আমার ঠিক পেছনে দেয়াল। হেলান দিয়ে বিশ্রাম করা, ঠেস দিয়ে ব্যাগপত্র রাখা সহ নানাবিধ কাজের জন্য একেবারে উপযুক্ত জায়গা। ওখানে বসে নিজেকে খানিকটা গুছিয়ে নেওয়ার পর এর-ওর আলাপচারিতায় যা বুঝলাম তা হলো—এই ফ্লোরের সকলেই আমার মতো—ছাড়পত্রহীন।


মনে খানিকটা সাহসও পেলাম। এতোগুলো মানুষকে একসাথে উঠিয়ে দেওয়ার মতো নির্দয় নিশ্চয় ওরা হবে না। আর অনেকবেশি দুয়া করতে লাগলাম যেন এখানে নিযুক্ত গার্ডদের মনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের প্রতি দয়ার সঞ্চার করে দেন এবং যেন ওরা আমাদেরকে উঠে চলে যেতে না বলে।


আলহামদুলিল্লাহ, দুয়া কবুল হয়েছে এবং নিশ্চিত হতে পেরেছি যে—এই ফ্লোরে কেবল ছাড়পত্রহীন ইতিকাফ পালনকারীরাই অবস্থান করবে। যাদের ছাড়পত্র আছে তারা আমাদের পেছনে, অন্য সারিতে। এমন সংবাদে হৃদয়-মন আনন্দে নেচে উঠলো যেন!


অবস্থান পাকাপোক্ত হওয়ার পর যখন ব্যাগপত্রগুলোকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিচ্ছি, ঠিক তখন আরবের ঐতিহ্যবাহী শাদা জুব্বা আর মাথায় শেমাক পরিহিত একজন ভদ্রলোক এসে আমাকে আরবিতে কিছু একটা বললেন। যেহেতু লোকাল আরবি সবিশেষ বুঝি না, নিষ্পলক তার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু বলিনি। আমার ভাষাগত অপারগতা বুঝতে পেরে তিনি জিগ্যেশ করলেন, ‘Indian?’


আমি বললাম, ‘No. Bangladeshi’.


স্মিত হেসে ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে বললেন, ‘আচ্ছা, আচ্ছা। আমি কি তোমার পাশে বসতে পারি?’


যেহেতু ফ্লোরের একেবারে শেষে, দেয়াল-ঘেঁষে বসেছি, আমার পাশে খানিকটা জায়গা অবশিষ্ট ছিলোই। কিন্তু আমার ব্যাগপত্র রাখাতে সেটা বোঝা যাচ্ছিলো না। ব্যাগগুলোকে নিজের পেছনে এনে আমি তাকে সেখানে বসতে বললাম। আমার উদারতায় তিনি বেশ খুশি হলেন এবং প্রায় একমিনিট সময় নিয়ে আমার জন্য দুয়া করলেন। তারপর নিজের ব্যাগপত্র রাখতে রাখতে ইতিকাফের নতুন এই নিয়মের ব্যাপারে হাপিত্যেশ প্রকাশ করলেন খানিকটা।কথাবার্তায় জানলাম তার নাম মুহাম্মাদ। সৌদি আরবের নাগরিক। বাসা জেদ্দায়। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার।


মুহাম্মাদ নামের এই আরব লোকটার সাথে কাটানো ইতিকাফের সেই ক’টা দিন আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কিছু সময়।একজন মানুষ এতো গোছানো হতে পারে তাকে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। একটা নির্দিষ্ট জায়গায় এতোগুলো লোক আমরা থাকছি, খাচ্ছি, ইবাদাত করছি, ঘুমোচ্ছি—একটু এলোমেলো থাকা, কয়েকটা জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু পুরো ফ্লোরের দৃশ্য একরকম, মুহাম্মাদ যেখানে বসেন সেই জায়গাটা একেবারে অন্যরকম। তার জায়গাটা তিনি এতো সুন্দর, এতো পরিপাটি করে রাখেন যে মনে হয় প্রচণ্ড কালবোশেখি ঝড়ে চারপাশ তছনছ হয়ে আছে, কিন্তু উনার ঘরে ঝড়ের একফোঁটা আঁচড়ও লাগেনি। একদম ঝকঝকে, তকতকে।


শুধু যে খুব পরিপাটি থাকেন তা নয়, অত্যন্ত সুন্দর তার ইবাদাতের ধরণও। ইফতারের সময়টাতে সকলে ইফতারি খাওয়ায় ব্যস্ত, কিন্তু তাকে দেখতাম এক গ্লাস যমযমের পানি খেয়ে বাদবাকি ইফতার একপাশে রেখে দিতেন। হাতের আঙুলে গুনে গুনে তাসবিহগুলো শেষ করতেন। তাসবিহ শেষ করে দু’হাত উত্তোলন করে মোনাজাত করতেন। সালাতের ইকামাত হওয়া অবধি দীর্ঘ হতো সেই মোনাজাত।


সালাতের আগের এবং পরের যাবতীয় আমল শেষ করার পর তিনি তার ইফতারির প্যাকেট খুলে বসতেন। বসেই আমাকে বলতেন, ‘Arif, come. Share with me’. ইফতারি খেতে খেতে আমরা ডুবে যেতাম গল্পে।আলাপচারিতায় জেনেছিলাম তার চার সন্তান। বাবা আছেন, কিন্তু মা’কে হারিয়েছেন ছোটবেলায়। যতোবার তিনি আমার কাছে দুয়া চাইতেন, ঠিক ততোবারই বলতেন, ‘আমার আম্মার জন্যে দুয়া করো। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যেন আম্মাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন’।


একেবারে প্রথমদিন থেকে খেয়াল করলাম—ফযর সালাত শেষ করে তিনি কোথাও যেন চলে যান। ফিরেন দশটা সাড়ে দশটার দিকে। ফিরতেন হাত-বোঝাই করা উপহার নিয়ে। ইতিকাফের প্রথম দিন সকালে আমার জন্য উপহার নিয়ে আসলেন খুব সুন্দর একটা জায়নামায—মাসজিদুন নববীর কার্পেটের আদলে তৈরি। আমার এতো পছন্দ হয়েছিলো সেটা!


আমাদের সারি এবং আমাদের সামনের সারির প্রায় প্রত্যেকেই সম্ভবত উনার কাছ থেকে উপহার পেয়েছে। একবার নয়, কয়েকবার করে। আমাদের সারিতে একটা ছোট্ট ছেলে ছিলো। ওর বাবার সাথে ইয়েমেন থেকে উমরাহ করতে এসেছে। তার জন্য জুব্বা, পায়জামা, শেমাগ সহ নানানকিছু নিয়ে এসেছিলেন তিনি। ইয়েমেনি ওই ছেলের বাবা চোখের সমস্যার কারণে কুরআন পড়তে অসুবিধে হতো। একদিন তার জন্য কিনে নিয়ে আসলেন একটা চোখে পরার গ্লাস যা দিয়ে কুরআন পড়তে তার জন্য সহজ হবে। মিশরের এক আঙ্কেলের জন্য এনেছিলেন এমন একটা কুরআন যেটাতে যেকোনো আয়াতে স্পর্শ করা মাত্রই সেটার অডিও তিলাওয়াত শোনা যেতো।


আমার ইচ্ছা হলো তাকেও কিছু একটা দিতে। যেহেতু রাতে খাওয়ার জন্য আমাদেরকে বাইরে যেতে হয়, ভাবলাম ওখান থেকে যদি কিছু একটা উপহার নিয়ে আসা যায়। এমন চিন্তা থেকে তার জন্য একদিন সৌদির ‘Al-Fazr’ ব্র্যাণ্ডের একটা টেবিল-ঘড়ি কিনে আনালাম। সেটা পেয়ে তিনি যারপরনাই খুশি হলেন এবং বললেন—‘এটা আমি সর্বদা আমার টেবিলেই রাখবো, যাতে এটা দেখামাত্র তোমার কথা মনে পড়ে। জাযাকুমুল্লাহ খাইর, আরিফ’।


দেখতে দেখতে আমাদের বিদায়বেলা ঘনিয়ে এলো। মাগরিবের আযানের সাথে সাথে শেষ হবে রামাদান মাস। সকল ইতিকাফ-পালনকারীদের মাঝে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি। মুহাম্মাদ ইতিকাফ করেননি ঠিক, কিন্তু ইতিকাফকারীদের সাথে মাসজিদে থেকেছেন ইবাদাতের নিয়তে। যেহেতু জেদ্দা চলে যাবেন, তাই আসর সালাত পড়েই বের হওয়ার বন্দোবস্ত করতে লাগলেন।


একে একে সকলের কাছ থেকে বিদেয় নিলেন।আমরা যেমন সাক্ষাৎ আর বিদায়বেলায় কোলাকুলি করি, আরবরা ঠিক এরকম করে না। ওরা সাধারণত গালের সাথে গাল স্পর্শ করায়। মুহাম্মাদ সকলের সাথে সেটাই করলেন। সবার শেষে যখন আমার কাছে আসলেন, কী মনে করে যেনো আমার গালের সাথে গাল না লাগিয়ে, আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করলেন। বুকের সাথে বুক লাগিয়ে কতো কী যে দুয়া করে দিলেন তার অন্ত নেই! কোলাকুলি শেষে আমাকে বললেন, ‘আরিফ, যখনই সৌদি আসবে, হজ্ব, উমরাহ বা যেকোনো কাজে, জেদ্দায় আমার সাথে দেখা না করে দেশে ফিরবে না কিন্তু’।


এটা যে স্রেফ মুখের কথা নয় তার প্রমাণ তিনি বরাবরই রেখেছেন। প্রায় সময়ই তিনি হোয়্যাটস অ্যাপে ম্যাসেজ করে আমার খোঁজখবর নেন। আমার মেয়েদের কুশলাদি জানতে চান। একটা ম্যাসেজে একদিন তিনি বলেছেন—‘Arif, you are my brother & one of the best friend of mine. I Love You for the sake of Allah. May Allah re-unite us in Jannah. Ammen Raab’al Alaameen’.


মুহাম্মাদকে ভুলে না যাওয়ার একশ’টা কারণ আমার কাছে মজুদ আছে। তার মতো বিনয়ী, নিরহঙ্কার, উদার, ইবাদাতগুজার এবং নরমদিল মানুষ একজীবনে খুব বেশি কাউকে পাইনি। কিন্তু শত অযোগ্যতা সত্ত্বেও ভালোবেসে তিনিও যে আমাকে মনে রেখেছেন, সেটাই আমার জন্য বড় সৌভাগ্যের, আলহামদুলিল্লাহ! মুমিনদের হৃদয়গুলো বুঝি এমনই হয়—পরস্পর পরস্পরের জন্য ভালোবাসায় পূর্ণ।ফালিল্লাহিল হামদ!

.

. ©Arif azad

‘আমার উমরাহ সফরের ডায়েরি’-11

©muslim world official



Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...