Skip to main content

ভক্তিতেও সন্তুষ্ট হলো না দেবতা ট্রাম্প, ক্ষোভে পুড়ছে ভারতের রাজনীতি এবং মিডিয়া অঙ্গন


 **ভক্তিতেও সন্তুষ্ট হলো না দেবতা ট্রাম্প, ক্ষোভে পুড়ছে ভারতের রাজনীতি এবং মিডিয়া অঙ্গন:**


২০২০ সালের ট্রাম্প যখন ভারত সফর করেছিলেন তখন ভারতীয় মিডিয়াতে এই ছবিটি বেশ হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল। ট্রাম্পের সমর্থনে একজন ভারতীয় রীতিমতো ট্রাম্পের মূর্তি বানিয়ে সেটাকে পূজা করছিলেন। বিষয়টি অত্যন্ত হাস্যকর হলেও দেখিয়ে দিয়েছিল ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কত গভীর। অন্যদিকে ট্রাম্পের সাথে মোদির সম্পর্ক কতটা গভীর এটা তারই নমুনা মাত্র। এরপরে জো বাইডেন ক্ষমতায় এলে ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আর আগের মত থাকেনি। রাশিয়ার সাথে ভারতের গভীর সম্পর্ক, চীন এবং ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিদায়ে যুক্তরাষ্ট্র- ভারতের সম্পর্কের চির ধরে। ২০২৪ এর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে ঘিরে ভারতীয় মিডিয়ায় ট্রাম্পের প্রচারণার কমতি ছিল না। আর তাই ট্রাম্পের জয়ের পর ভারতীয় মিডিয়াগুলোতে রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ট্রাম্প ফিরলেন ঠিকই তবে বন্ধু হয়ে নয়, হিসাব নিতে!!


প্রথমেই শত শত ভারতীয় অবৈধ অভিবাসীদের পায়ে শেকোল বেঁধে দেশে পাঠানো হলো। এরপর ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা দিয়ে সম্পূর্ণ ক্রেডিট নিজের দিকে নিয়ে নিলেন। এবার চলুন দেখা যাক আজকে ট্রাম্প ভারতের বিরুদ্ধে কি কি পদক্ষেপ নিলেন-



**১. ২৫% শুল্ক আরোপ: **মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ১লা আগস্ট থেকে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ২৫% শুল্ক আরোপ করা হবে। এই শুল্ক ভারতের প্রায় ৮৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানির উপর প্রভাব ফেলবে, যার মধ্যে পোশাক, ঔষধ, রত্ন ও গহনা, এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সহ শ্রম-নিবিড় খাতগুলি রয়েছে।


**২. রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য ও সামরিক সরঞ্জামের জন্য অতিরিক্ত জরিমানা**: 


ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল এবং সামরিক সরঞ্জাম কিনছে, বিশেষ করে S-400 ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ট্রাম্প এটিকে রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধকে পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখছেন। ফলে তিনি ঘোষণা করেছেন, ভারতকে এই লেনদেনের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক জরিমানা দিতে হবে। তার ভাষায়, “বন্ধুত্ব একতরফা হলে সেটা আর বন্ধুত্ব থাকে না, হয়ে যায় ব্যবসায়িক লেন-দেন।”


**৩. ইরানের সাথে তেল বাণিজ্যের জন্য নিষেধাজ্ঞা: **ইরানের পেট্রোলিয়াম এবং পেট্রো কেমিক্যাল পণ্যের বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭টি ভারতীয় কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোকরেছেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দেয় যে মার্কিন নীতিতে কৌশলগত ধৈর্য থেকে লেনদেনমূলক চাপের দিকে পরিবর্তন এসেছে।



ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির পুনরাবির্ভাব মানেই বাকি সবাইকে নিজের মতো নাচানো। তিনি ভারতের উপর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—তোমরা যদি চীনের সাথে ব্যবসা করো, রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনো, আর ইরানের কাছ থেকে তেল নাও, তাহলে তোমরা আর আমাদের ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার’ নও—তোমরা প্রতিদ্বন্দ্বী। ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ভারতের জন্য একটি বড় ধাক্কা, বিশেষ করে যেহেতু ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল, যা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা এই শুল্কের প্রভাব বিশ্লেষণ করছে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।


# **🟥🟥দেবতা ট্রাম্পের পূজা করেও রক্ষা পেলো না ভারত—**


ভারতের জনগণ ভেবেছিল ট্রাম্পের ফিরে আসা মানেই ভারতের জন্য আশীর্বাদ। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, আশীর্বাদের জায়গায় এসেছে শুল্ক, জরিমানা আর নিষেধাজ্ঞার ‘খড়গ’। যাঁরা আগে ট্রাম্পের ছবি মন্দিরে রেখে প্রণাম করতেন, তারা এখন খুঁজছেন সেই মূর্তিগুলো কোথায় ফেলা যায়। মিডিয়া যারা “নমস্তে ট্রাম্প” বলে হাওয়ায় উড়েছিল, তারা এখন ‘ট্রেড ওয়ার’ রিপোর্ট করতে ব্যস্ত। মোদির অন্ধ ভক্তদের বোঝা উচিত ভক্তি দিয়ে যদি কূটনীতি চলতো, তবে তো মন্দির হতো জাতিসংঘের সদর দপ্তর। কিন্তু দুঃখের বিষয়—ট্রাম্পের আমলে এখন ভারত বুঝতে পারছে, ট্রাম্পের প্রেমে পড়ে যতই মাথায় দুধ ঢেলে পূজা করো, তার একমাত্র উদ্দেশ্য পকেট কেটে ডলার নিয়ে চম্পট মারা (**অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ**)

Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...