বাংলায় হিন্দু জমিদারদের উত্থান যেভাবে-
সম্রাট আওরঙ্গজেব আলমগীর। দিল্লির প্রতাপশালী শাসক,জ্ঞান-গরিমায় তিনি ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন তার পূর্বসূরি সব সুলতানকে। প্রতাপ আর শক্তিতে ছুঁয়ে ফেলেছিলেন তার দাদা আকবর দ্য গ্রেটকে।
কিন্তু,আওরঙ্গজেব শীঘ্রই ভুল করলেন। উত্তর ভারত ছেড়ে তিনি গেলেন দক্ষিনে। উদ্দেশ্য, এবার দক্ষিণের রাজ্যগুলো পদানত করবেন। বাস্তবে তিনি পা দিয়েছিলেন এক চোরাবালিতে৷পাহাড়,নদীতে ঘেরা দক্ষিণ ভারত চিরকালই দূর্ভেদ্য ছিলো। আওরঙ্গজেব সেটা বুঝতে ভুল করেছিলেন।
যাই হোক,যুদ্ধ চালাতে প্রয়োজন হয় কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ। রাজ্যগুলোকে এই অতিরিক্ত অর্থের যোগান দিতে হতো। একসময় উত্তর ভারতের রাজ্যগুলো অর্থের যোগান দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলো। সম্রাটের চোখ গেলো বাংলার দিকে। উপমহাদেশের তৎকালীন সবচেয়ে ধনী রাজ্যের দিকে।
বাংলা যে নিয়মিত অর্থ পাঠাতো না, এমন নয়। কিন্তু,সম্রাটের তো নগদ অর্থের দরকার পড়ছিলো।৷স্বাভাবিক নিয়মে দিল্লিতে অর্থ পাঠানো হতো মুহাররমের শুরুতে। ততদিন অপেক্ষা করা তো সম্ভব না। সম্রাটের নগদ অর্থ চাইই।
সম্রাট তার বিশ্বস্ত সেবক মুর্শিদকুলী খানকে পাঠালেন বাংলায়। নির্দেশনা দিলেন,যেভাবে পারো নগদ অর্থ পাঠাও আমার কাছে। মুর্শিদকুলী খান বাংলায় বসে ভাবতে লাগলেন,কি করা যায়!
কিছুদিনের মধ্যে তিনি আবিস্কার করলেন,হিন্দুদের হাতে অর্থ আছে ভালোই। হিন্দুরা সম্পদ জমা করতে উস্তাদ,সে আর নতুন কি। কিন্তু,এই অর্থ মুর্শিদকুলী খান নিজের হাতে নিবেন,কিভাবে? ওরা তো এমনিতে অর্থ দিবে না। তখন মুর্শিদকুলী ঘোষনা দিলেন, আমাকে নগদ অর্থ দাও। আমি তোমাকে অমুক অঞ্চলের জমিদারী দিয়ে দিবো। তোমরা সেখান থেকে পুরো বৎসর মিলে আরো বেশি করে ট্যাক্স তুলতে পারবা।
ব্যস,কিছুদিনের মধ্যে দেখা গেলো বাংলার অধিকাংশ অঞ্চলের জমিদারি হিন্দুদের হাতে। জগৎশেঠ পরিবার,রামমোহন রয়ের পরিবার সহ এমন বহু পরিবার এভাবেই নতুন নতুন অঞ্চলের জমিদারি পেয়ে গেলেন মুর্শিদকুলী খানের ইচ্ছায়। মুর্শিদকুলী খান পেলেন নগদ অর্থ,যেগুলো সম্রাট আওরঙ্গজেব ব্যয় করেছিলেন এক অর্থহীন যুদ্ধে।
দাক্ষিণাত্যের যুদ্ধ গ্রাস করেছিলো সবাইকেই। আওরঙ্গজেব সেই দাক্ষিণাত্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ১৭০৭ সালে। মুঘল সাম্রাজ্যের সূর্যের অস্তযাত্রাও শুরু হলো তখনই। অন্যদিকে মুসলমানদের হাত থেকে বাংলা চলে গেলো হিন্দুদের হাতে। যার সর্বশেষ ফলাফল ছিলো ব্রিটিশদের হাতে বাংলার পরাজয়।
ছবিতে 'সৈয়দ জামালুদ্দিন মসজিদ,হুগলি,পশ্চিমবঙ্গ
এ ধরনের আরো ইসলামিক বিষয়ে জানতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন এবং আমাদের ওয়েবসাইটে সাইনআপ করে নিন তাহলে আরো অনেক বিষয় জানতে পারবেন ইনশাআল্লাহ
(আল ফাতিহা ফাউন্ডেশন _ মুসলিম ওয়ার্ল্ড)

Comments