Skip to main content

যে নামটা শুনলেই একজন নারীর নাম ভেসে উঠে।


 বিবি খানম মসজিদ সমরকন্দের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভগুলির মধ্যে একটি। যে নামটা শুনলেই একজন নারীর নাম ভেসে উঠে।


১৩৯৯ থেকে ১৪০৪ সালের মধ্যে আমির তৈমুর কর্তৃক নির্মিত, যিনি তাঁর স্ত্রীর নামে এই পবিত্র স্থাপনাটি নজির রেখে গেছেন। এটি ১৫ শতকে ইসলামী বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে দর্শনীয় মসজিদগুলোর মধ্যে একটি ছিল। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, এর কেবল একটি বিশাল ধ্বংসাবশেষ টিকে ছিল, তবে এখন মসজিদের বেশিরভাগ অংশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। যে নির্মাণকাজে বিমুগ্ধ গোটা মানবকুল। যেখানে নকশায় ফুটে উঠেছে কুরআনের সূরা বাকারার বিশেষ আয়াতখানা। শিল্পকলার সকল উপকরণে সজ্জিত পবিত্র স্থাপনাটি আজও বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আছে।


যখন আমাদের মধ্যে মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান ছাড়া আর কিছুই না, নববী যুগের মসজিদের সেই ভিত্তি রক্ষা পায়নি, মসজিদের মূল উদ্দেশ্য থেকে বঞ্চিত, যেখানে আমাদের নিজস্ব মসজিদের মডেল দেখানো যায় না সেখানে অনায়াসেই ওদিকে দেখতে হয়। মসজিদের বয়ান ও মূল ভিত্তি গেড়েছিল যার মাধ্যমে, তিনি হলেন আল্লাহর প্রিয় আবদ, দুনিয়া ও আখেরাতের সম্মানিত নারীদের অন্যতম একজন হযয়ত মারঈয়াম (আ:)। যাঁকে মহান সৃষ্টিকর্তা মসজিদের রক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন এবং সে মসজিদের বিস্তার যুগ যুগ ধরে মুসলমানদের ইবাদতগাহ ও মক্তবের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। এমন একজন সম্মানিত নারী, শুধু যাকে কেন্দ্র করেই মহান আল্লাহ তাঁর কালামে পাকে তিনটি সূরা নির্বাচন করে দিয়েছেন। 


আজ আমরা সে মসজিদের কাঠগড়া থেকে বঞ্চিত, যে মসজিদ ছিল সকল মানুষদের মিলনায়তনের কেন্দ্রস্থল। যে স্থাপত্য কর্মের নিদর্শন কেবল মুসলমানদের হাত ধরেই সম্ভব, পৃথিবীর আর কারো পক্ষে এ শিল্পের মানদণ্ড দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি, আজ আমরা সে মসজিদের মূল ভিত্তি কে অস্বীকার করছি, সেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দিয়েছি। মসজিদের রুহানিয়্যাতকে হারিয়ে ফেলেছি। সুতরাং, আমরা যেনো ভুলে না যাই মসজিদের বয়ান যেখান থেকে যার মাধ্যমে এসেছিল সে মাধ্যমকে। আমরা যেনো পৃথিবীতে নজির হয়ে থাকা সমরকন্দের বিবি খানম মসজিদের দিকে তাকিয়ে আত্মসমালোচনা করি নারীদের জন্য মুছে দেয়া ইবাদতগাহের স্মৃতিচিহ্ন কে। আমরা যেনো সমরকন্দের মতো নিজেদের উপমহাদেশের ঐতিহ্য ও গৌরবকে স্মরণে রেখে নিজেদের নির্মিত সেই পবিত্র স্থাপনা গেড়ে দিতে পারি। সে তাওফীক দান করুন, আমীন।


মসজিদের সুমহান বার্তা ছড়িয়ে যাক বিশ্বব্যাপী।

Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...