Skip to main content

মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র !


 

মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র ও ইসলামি নেতৃত্বের উত্তরণ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাষ্ট্রচিন্তা**


মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হয়েছিল, তার অন্যতম ছিল ভেতরের শত্রু — মুনাফিকদের দল। বাহ্যত ইসলাম গ্রহণ করলেও, এদের অন্তর ছিল কুফর, হিংসা ও ষড়যন্ত্রে ভরপুর। এদের নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালূল হিজরতের আগে মদীনার রাজত্ব পাওয়ার স্বপ্ন দেখত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.-এর আগমনে সেই ক্ষমতার সুযোগ হারিয়ে সে ইসলাম গ্রহণ করে মুখে, কিন্তু মনে কুফর লালন করতে থাকে। তারা মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি, গুজব ও অবিশ্বাসের বীজ বপন করত, যা রাষ্ট্রের একতা ও নিরাপত্তার জন্য ছিল হুমকিস্বরূপ।


মুনাফিকরা বিভিন্ন সময়ে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। উহুদের যুদ্ধে তারা ৩০০ সৈন্য ফিরিয়ে এনে মুসলিম বাহিনী দুর্বল করে। খন্দকের যুদ্ধের সময় ইহুদিদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ করে মুসলমানদের পেছন থেকে আঘাত করার চেষ্টা করে। ‘ইফকের ঘটনা’-য় তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.-এর স্ত্রী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়িয়ে মুসলিম সমাজকে চরম মানসিক আঘাত দেয়। এসব ঘটনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম. কোনো তড়িৎ প্রতিশোধ না নিয়ে প্রজ্ঞা, ধৈর্য এবং ওহির নির্দেশ মোতাবেক ধাপে ধাপে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি জানতেন, প্রকাশ্যে তাদের শাস্তি দিলে মুসলিম সমাজে বিভাজন তৈরি হতে পারে। তাই তিনি সময়মতো ও চূড়ান্ত প্রমাণ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেননি।


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাষ্ট্রচিন্তায় একতা, ধৈর্য, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ছিল মুখ্য। তিনি একজন নেতা হিসেবে বুঝতেন, ভেতরের শত্রুর মোকাবিলা বাহ্যিক শত্রুর চেয়েও কঠিন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে ওহির মাধ্যমে মুনাফিকদের আসল চেহারা দেখিয়ে দিতেন (সুরা আত-তাওবা)। আল্লাহর নবীর এই কৌশল আজও আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে পথ দেখায় — কীভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ খুলে ধৈর্যের সঙ্গে সমাজ রক্ষা করতে হয়। একজন আদর্শ নেতা কেবল বাহ্যিক শত্রু নয়, অভ্যন্তরীণ ভণ্ডদের মোকাবিলায়ও সংবেদনশীল ও কৌশলী হন। এই প্রেক্ষাপটই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাষ্ট্রচিন্তাকে আধুনিক সমাজের জন্যও অনুকরণীয় করে তোলে।

Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...