Skip to main content

দলের নামে বিভেদ—ইসলামে দলবাজির শিকড় কোথায়?


 



ইসলামী বিভ্রান্তি ও করণীয়

পর্ব ২: দলের নামে বিভেদ—ইসলামে দলবাজির শিকড় কোথায়?

✦ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী


❝তোমাদের মধ্যে দল-উপদল সৃষ্টি করো না❞

— (সূরা আনআম, ৬:১৫৯)

দলবাজি—এই শব্দটা এখন এমন একটা বিষে পরিণত হয়েছে, যা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে বিভাজনের বিষবৃক্ষ রোপণ করেছে।

“আমি জামাত করি।”
“আমি আহলে হাদীস।”
“আমি আহলে কুরআন।”
“আমি মাযহাব মানি না।”
“আমি শুধুই কুরআন অনুসরণ করি।”
এতসব পরিচয়ের ভীড়ে ‘আমি মুসলমান’ পরিচয়টা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে!


❌ ইসলাম কি দল তৈরির অনুমতি দিয়েছে?

নবী ﷺ নিজে কখনো কোন রাজনৈতিক বা মাজহাবভিত্তিক দলের নাম দেননি। সাহাবাগণ ছিলেন এক উম্মাহ, এক আকীদার অনুসারী। তাদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল, কিন্তু সে মতবিরোধ বিভেদ সৃষ্টি করেনি।

আজকের মুসলমানরা কুরআনের এই আহ্বান ভুলে গেছে—

"তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে সবাই মিলে দৃঢ়ভাবে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না"
— (সূরা আলে ইমরান, ৩:১০৩)


⚠️ দলবাজির পেছনের কারণসমূহ:

১. অহংকার ও ‘আমরাই সঠিক’ মানসিকতা।
২. নেতৃত্বের লোভ—দীনকে রাজনীতির ঢাল বানানো।
৩. আলেমদের একত্রে না চলার সংস্কৃতি।
৪. জনগণের জ্ঞানহীনতা, যা একচোখা অনুসরণে রূপ নেয়।


💥 দলবাজির ভয়াবহ ফলাফল:

  • মুসলমান মুসলমানকে কাফির বলছে।
  • ভাইয়ে ভাইয়ে সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে।
  • মসজিদ, মাদরাসা, মাহফিল পর্যন্ত দলভিত্তিক হয়ে গেছে।
  • ইসলাম সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম ধোঁয়াশায় পড়ে যাচ্ছে।

🔄 করণীয় কী?

১. নিজেকে ‘মুসলমান’ হিসেবে পরিচয় দিন—দলের নামে নয়।
২. আল-কুরআন ও সহীহ হাদীসই হোক একমাত্র মাপকাঠি।
৩. যেসব আলেম মানুষকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দেন, তাদের এড়িয়ে চলুন।
৪. সবার সাথে ভদ্রভাবে দ্বিমত করলেও, মুসলমান ভাই হিসেবে ভালোবাসুন।


📖 আগের পর্ব পড়ুন:
ইসলামী বিভ্রান্তি ও করণীয় - পর্ব ১

🔗 সত্য ও ঐক্যের দাওয়াহ প্রচারে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

➡️ আমাদের মুসলিম ওয়ার্ল্ড ফেসবুক প্রোফাইল
➡️ আল-ফাতিহা ফেসবুক পেজ
➡️ মুসলিম ওয়ার্ল্ড ইউটিউব চ্যানেল


সহকারী লেখক: মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ বিন আমিন

📍 পরবর্তী পর্বে থাকছে:
“আহলে কুরআন, আহলে হাদীস, আহলে বিভ্রান্তি—আসল ও নকল চিনব কীভাবে?”



Comments