Skip to main content

শৈশবের মহাবিস্ময়: গাউসুল আজম (রহঃ) ও জীবন-মৃত্যুর সেই কেরামত


 

✨ শৈশবের মহাবিস্ময়: গাউসুল আজম (রহঃ) ও জীবন-মৃত্যুর সেই কেরামত 🌟


পবিত্র জিলান নগরী। ছোট ছোট শিশুরা যখন খেলাধুলায় মত্ত, তখন ছোট্ট আব্দুল কাদেরের খেলা ছিল সবার চেয়ে আলাদা। তাঁর এই খেলাই ছিল কুদরতের এক জীবন্ত দলিল।


১. মাটির পুতুল ও প্রাণের সঞ্চার

ছোট্ট আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) প্রতিদিন মাটির কিছু পুতুল তৈরি করতেন। তবে তাঁর এই মাটির পুতুলগুলো সাধারণ মাটির খেলনা হয়ে থাকত না। তিনি যখন সেই পুতুলগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলতেন, “কুম বিইজনিল্লাহ!” (অর্থাৎ, আল্লাহর অনুমতিতে উঠে দাঁড়াও!), তখন মহান আল্লাহর কুদরতে মাটির সেই নিথর পুতুলগুলো প্রাণ ফিরে পেত। তারা শিশুদের মতো নড়াচড়া করত, কথা বলত এবং সারা দিন তাঁর সাথে খেলা করত। আবার সন্ধ্যা হলে তিনি আদেশ দিতেন আগের রূপে ফিরে যেতে, অমনি তারা নিস্তেজ মাটির পুতুল হয়ে যেত।


২. মৃত শিশুর অলৌকিক পুনর্জীবন

একই গ্রামের এক দম্পতি তাঁদের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাতুর হয়ে পড়েছিলেন। সন্তান মারা যাওয়ার পর তাঁরা ভাবলেন, “আব্দুল কাদের যদি মাটির পুতুলকে জীবন দিতে পারে, তবে আমাদের সন্তানকেও সে আল্লাহর হুকুমে বাঁচাতে পারবে।” তাঁরা অত্যন্ত বিশ্বাস নিয়ে রাতে মৃত শিশুটিকে সেই মাটির পুতুলগুলোর পাশে রেখে এলেন।


পরদিন সকালে আব্দুল কাদের এসে প্রতিদিনের মতো পুতুলদের জাগার নির্দেশ দিলেন। সব পুতুল জাগলেও মৃত শিশুটি জাগল না। তখন তিনি বললেন, “হে শিশু! আমি জানি তোমাকে আমি মাটি দিয়ে বানাইনি, বরং আল্লাহ নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। তবুও আমি আল্লাহর নামে বলছি—উঠে দাঁড়াও!” সাথে সাথে মৃত শিশুটি আল্লাহর হুকুমে চোখ মেলে তাকাল এবং উঠে দাঁড়াল। সন্তানের জীবন ফিরে পেয়ে বাবা-মায়ের আনন্দের সীমা রইল না।


৩. কবরবাসীদের জাগরণ ও পিতার বিস্ময়

ছেলের এই অভাবনীয় অলৌকিক ক্ষমতার কথা যখন তাঁর বাবা জানতে পারলেন, তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি ভাবলেন, তাঁর ছেলে হয়তো সীমা অতিক্রম করছে। শাসনের উদ্দেশ্যে তিনি লাঠি হাতে ছেলের পিছু নিলেন।


আব্দুল কাদের দৌড়াতে দৌড়াতে গ্রামের এক কবরস্থানে গিয়ে পৌঁছালেন। সেখানে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে চিৎকার করে বললেন, “হে কবরবাসীরা! তোমরা পালাও, না হলে আজ আমার বাবা তোমাদেরও লাঠিপেটা করবেন!”


মুহূর্তের মধ্যে পুরো কবরস্থান যেন কেঁপে উঠল। আল্লাহর নির্দেশে কবরগুলো ফেটে গেল এবং সাদা কাফন পরিহিত মৃত ব্যক্তিরা দলে দলে কবর থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করল! এই অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখে তাঁর পিতা স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। তিনি চিৎকার করে বললেন, “আব্দুল কাদের! থামো! যথেষ্ট হয়েছে!”


বাবার কথায় আব্দুল কাদের কবরের বাসিন্দাদের পুনরায় শান্ত হয়ে ফিরে যেতে বললেন। তিনি পিতাকে বললেন, “আব্বা, ভালো করেছেন থামিয়ে দিয়েছেন। না হলে এরা কেয়ামত পর্যন্ত মাথায় কাফন নিয়ে দৌড়াতে থাকত!”


গল্পের শিক্ষাঃ লেখকঃ ইবনুল বাংগালী

১. আল্লাহর প্রিয় বান্দা: আল্লাহ যাঁকে পছন্দ করেন, তাঁর মাধ্যমে অসম্ভবকেও সম্ভব করে দেখান। এটি আল্লাহর ক্ষমতারই একটি বহিঃপ্রকাশ। ২. বিশ্বাস: আল্লাহর ওলিদের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসা মানুষকে অলৌকিক প্রাপ্তির পথে নিয়ে যায়। ৩. ইখলাস: গাউসুল আজমের প্রতিটি কাজ ছিল আল্লাহর নামে, যা প্রমাণ করে যে তাঁর সব কেরামতই ছিল আল্লাহর দান।  

 


Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...