রাগী হামজার পেরেক

 

এক পাহাড়ি গ্রামের ছেলে, নাম ছিল হামজা।


হামজা ছিল দৃঢ়চেতা ও কৌতূহলী। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় দোষ ছিল—সে খুব রাগী ছিল। সামান্য কথাতেই রেগে যেত, অনেককে কষ্ট দিত। তার দাদা একদিন তাকে বললেন, “রাগ একটা আগুন, যা প্রথমে নিজের হৃদয়কেই জ্বালিয়ে দেয়।”


হামজা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “তাহলে আমি কী করব?”

দাদা বললেন, “প্রতিবার যখন রাগ করবি, এই কাঠের দেয়ালে একটি পেরেক ঠুকে দে।”


হামজা শুরু করল। প্রথম দিনে ১০টি পেরেক ঠুকতে হল। দ্বিতীয় দিনে ৭টি। ধীরে ধীরে রাগ কমতে থাকল। এক মাস পর, একটিও পেরেক ঠুকতে হল না।

দাদা বললেন, “দেখেছিস? এখন প্রতিটি পেরেক খুলে ফেল।”


হামজা সব পেরেক খুলে ফেলল, কিন্তু দেয়ালে ছিদ্র থেকে গেল। দাদা বললেন, “রাগ কমিয়ে ফেলেছিস, এটা ভালো। কিন্তু যাদের কষ্ট দিয়েছিস, তাদের মনে যে ছিদ্র তৈরি হয়েছে, সেটাও মনে রেখিস।”


সেইদিন থেকে হামজা হয়ে উঠল গ্রামের সবচেয়ে শান্ত, বিনয়ী ও সহানুভূতিশীল তরুণ। সবাই তাকে ভালোবাসত।


এই গল্পটি আমাদের শেখায়, রাগ এক ক্ষণস্থায়ী আগুন, যা স্থায়ী ক্ষতির জন্ম দেয়। ধৈর্য ও ক্ষমাই একজন মানুষের প্রকৃত শক্তি।


লেখক: মুহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহ্ আমিন


Publisher: Al-Fatiha Foundation

Platform: Muslim World




মন্তব্যসমূহ