Skip to main content

হযরত উসমান (রাঃ)-এর কবর, ইতিহাস ও ব্যথার স্মৃতি


 🕋 কারবালার আগেও এক শহীদ খলীফা — হযরত উসমান (রাঃ)-এর কবর, ইতিহাস ও ব্যথার স্মৃতি

লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী


❝ কোরআন পাঠরত অবস্থায় রক্তে রঞ্জিত হলেন তৃতীয় খলীফা… ❞

ইতিহাসে এমন এক শাহাদাত,

যেখানে আল্লাহর কিতাব হাতে থাকা অবস্থায়

মুসলিম উম্মাহর সর্বোচ্চ নেতা শহীদ হন নিজের ঘরে, পিপাসায় কাতর, অথচ যুদ্ধ নয়—উম্মতের ফিতনার ছুরিতেই।


তিনি হলেন—

> ✦ হযরত উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু

✦ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জামাতা, "যার জন্য ফেরেশতারা লজ্জিত" সেই মহান সাহাবি

✦ ইসলামি ইতিহাসের তৃতীয় খলীফা, কুরআনের Mushaf (একত্রিত সংস্করণ) প্রচারের প্রথম পথপ্রদর্শক


📍 কোথায় রয়েছে হযরত উসমান (রাঃ)-এর পবিত্র কবর?


➤ স্থান:

জান্নাতুল বাকি (البقیع) — মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত প্রধান ইসলামি কবরস্থান


➤ একটি আলাদা অংশে

হযরত উসমান (রাঃ)-এর শাহাদাত হয় এমন এক সময়,

যখন মদিনার কিছু বিদ্রোহী মুসলিমদের মধ্যেই বিভ্রান্তি ও ফিতনা ছড়িয়ে দেয়।

এই বিদ্রোহীদের কারণে জান্নাতুল বাকি'তে প্রথমে তাঁকে সমাধিস্থ হতে দেওয়া হয়নি।

তাই তাঁকে জান্নাতুল বাকি’র সীমানার এক পাশে (একটি ইহুদি কবরস্থানের পাশে) দাফন করা হয়,

যা পরবর্তীতে জান্নাতুল বাকির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।


➤ আজও সেই স্থান রয়েছে —

সেই পবিত্র কবর এখনো চিহ্নবিহীন, সৌদি সরকারের নীতির কারণে কোনো গম্বুজ, দেয়াল বা কবরচিহ্ন রাখা হয়নি।

তবে ইসলামি ঐতিহাসিক দলিল ও উলামাগণের বর্ণনায় এটি নির্বিভ্রান্তভাবে নিশ্চিত।


🩸 শাহাদাতের মর্মন্তুদ ঘটনা


> ১৮ই জিলহজ, ৩৫ হিজরি (৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ)

স্থান: মদিনা, তাঁর নিজের ঘরে


বিদ্রোহীরা প্রায় ৪০ দিন ঘেরাও করে রাখে তাঁর বাড়ি।

তাঁর উপর খানা ও পানি পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়।


যেদিন তিনি শাহাদাত বরণ করেন— তিনি তখন কুরআন শরীফ হাতে নিয়েই পড়ছিলেন।

এক বিদ্রোহী দরজা ভেঙে ঢুকে তাঁকে ছুরিকাঘাত করে।

রক্ত ঝরে পড়ে সেই Mushaf-এর পাতার উপর,

যেখানে লেখা ছিল:


> فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

“তাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”

— সূরা আল-বাকারা: ১৩৭


🕌 জান্নাতুল বাকি: মুসলিম ইতিহাসের নীরব স্মৃতিস্তম্ভ


জান্নাতুল বাকি'তে শুধু হযরত উসমান (রাঃ) নন,

চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন:

নবীজির বহু সাহাবি

তাঁর পরিবারবর্গ (আহলে বাইত)

অগণিত শহীদ, তাবেঈন, অলী ও সালেহীন

আজও সেই মাটিতে রয়েছে এক পবিত্র নীরবতা,

যেখানে ইতিহাসের ঘুমন্ত পৃষ্ঠা জেগে ওঠে।


📜 ইতিহাস বলছে...

হযরত উসমান (রাঃ) ছিলেন দুই হিজরতকারী একজন (মক্কা → হাবশা → মদিনা)

রাসূল ﷺ তাঁকে “জান্নাতের সুসংবাদ” দেন


ইসলামি খিলাফত তাঁর আমলে ছড়িয়ে পড়ে উত্তর আফ্রিকা থেকে ইরান পর্যন্ত

কুরআনের Mushaf একরূপে সংরক্ষণের জন্য তিনি গঠন করেন একটি বিশেষ কমিটি


📢 মুসলিম উম্মাহর জন্য বার্তা

আমরা আজ রাজনীতি, বিভক্তি ও ক্ষমতার দম্ভে হারিয়ে ফেলি সত্যিকার নেতৃত্বের মাহাত্ম্য।

হযরত উসমান (রাঃ)-এর শাহাদাত মনে করিয়ে দেয়:


> "যে উম্মাহ নিজের রত্নকে চিনতে ব্যর্থ হয়,

সে ফিতনার অন্ধকারেই হারিয়ে যায়…"


🤲 দোয়া করি…


> اللَّهُمَّ اجزِ عَنّا عثمانَ بنَ عفّان خيرَ ما جازيتَ خليفَةً عن أُمّتِه، وارضَ عنه، وارفع درجتَه، واغفِر لنا تقصيرَنا في حقّه

“হে আল্লাহ! হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)-এর প্রতি উত্তম প্রতিদান দিন,

তাঁর উপর সন্তুষ্ট হোন, তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন—

আর আমাদের তাঁর প্রতি অবহেলার জন্য ক্ষমা করুন।”


সহকারী লেখক: মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ আমিন





Publisher: Al-Fatiha Foundation

Platform: Muslim World


Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...