ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কিত বর্তমান অবস্থার গবেষণা ও আলোচনা।
(গবেষণা মুলক আলোচনা যারা এসব বিষয় চিন্তা গবেষনা করতে চান শুধু তাদের জন্য।).
১. হাদিস:
ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কিত বর্তমান অবস্থার গবেষণা ও আলোচনা।
একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়তে পড়তে তাঁর গৃহে প্রবেশ করলেন এবং বলতে লাগলেন, শীঘ্রই একটি দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি হবে। এতে আরবের ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী। ইয়াজুজ ও মাজুজের দেয়ালে এতটুকু পরিমাণ ছিদ্র হয়ে গিয়েছে, এ কথা বলে দু’টি আঙ্গুল গোলাকার করে দেখালেন।
যাইনাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ, আমরা কি (ইয়াজুজ মাজুজের আক্রমণ দাঁড়া) ধ্বংস হয়ে যাবো, অথচ আমাদের মাঝে অনেক সৎ ব্যক্তি আছেন?” জবাবে তিনি বলেন: “হ্যাঁ, যখন মন্দ লোকের সংখ্যা বেড়ে যাবে।”[সহীহ ইবনু হিব্বান হা/৩২৭, সনদ সহীহ; সহীহ বুখারী: ৩৩৪৬] যখন অশ্লীলতা বেড়ে যাবে।[সহীহ বুখারী হা/৩৫৯৮, সনদ সহীহ] যখন পাপাচার বেড়ে যাবে।[সহীহ বুখারী হা/৭০৫৯, সনদ সহীহ]
উক্ত হাদিসের নিদর্শন বুঝায় ইয়াজুজ-মাজুজ আল্লাহর রাসুলুল্লাহ সাঃ এর পরেই বেড়িয়ে গেছে তবে মুসলমানদের শক্তির সামনে তাদের ক্ষমতা আজকের মতো ছিলো না। শেষ জমানায় তাদের ক্ষমতার উত্থান হবে এবং বিশ্ব ব্যপী ফেতনা ও ধংশ যোগ্য চালাবে, বিশেষ করে আরবে। এখনই সেই শেষ জমানা। আসুন আজ ভালো করে আরবের দিকে তাকিয়ে দেখুন
লিবিয়া, ইরার, সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবানন, ফিলিস্তিন ও আশে পাশে দেখুন, এদের দিকে লক্ষ করুন এদের ধংশের সাথে কারা জরিত। ইতিপূর্বে করে ছিলো খাজার ও মংগল তাতাররা এখন সেকুলার গনতন্ত্রবাদী ও সমাজতন্ত্রবাদীরা।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইয়াজুজ-মাজুজ এর জাতির স্থানের বিবরন দিতে বলেন:
حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ مَطۡلِعَ الشَّمۡسِ وَجَدَہَا تَطۡلُعُ عَلٰی قَوۡمٍ لَّمۡ نَجۡعَلۡ لَّہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہَا سِتۡرًا ﴿ۙ۹۰﴾
"চলতে চলতে যখন সে(যুলকার নাইন) সূর্যোদয় স্থলে পৌঁছল তখন সে দেখলো - ওটা এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্য সূর্য তাপ হতে আত্মরক্ষার কোন অন্তরাল আমি সৃষ্টি করিনি।" সুরা কাহাফ: ৯০
আপনি যদি খাজার সাম্রাজ্য ও মংগলীয়দের ভোউগলিক অবস্থার দিকে লক্ষ করেন সেখানে আপনি বিশাল পর্বতমালা দেখতে পাবেন যার অপর পাশের অঞ্চল সমানতরাল বিস্তৃত এলাকায় কোনো বড় বৃক্ষ দেখা যায় না মানে সূর্যের আলো থেকে সেখানে খুব একটা ছায়া বা অন্তরালের স্থান খুবই কম। সূর্য তাপের অন্তরাল বলতে বড় বৃক্ষরাজি বনভুমীকেই বুঝানো হয়েছে যা কর্ককাশ পর্বতমালার পাশের তার্কিক খাজার ও মংগলীয়দের স্থানের সাথে যথেষ্ট মিল রয়েছে।
২. প্রতিটি উচুস্থান থেকে তাদের তেরে আসা ও অবস্থান
وَهُمْ مِّنْ كُلِّ حَدَبٍ يَّنْسِلُوْنَ
ইয়াজুজ মাজুজ প্রত্যেক উচ্চভুমি বা উচুস্থান 🚀🚁✈️ থেকে দ্রুত ছুটে আসবে বা তেরে আসবে।[সূরা আম্বিয়া ৯৫-৯৬]
আজ দুই পরাশক্তি সেকুলার গনতন্ত্রবাদ ও সমাজতন্ত্রবাদ উত্থান ও বিশ্বে প্রতিষ্ঠার পরে বিশ্বের প্রতিটি রাস্ট্র ও সমাজের প্রতিটি উচু স্থানেই দেখুন তাদের প্রতিনিধিরা বসে আছে, যারা ধর্মের নামে কোনো কিছু হতে দেখলেই ইমানদার ব্যক্তি ও গোস্টিদের উপর তেরে আসে, তারা জোট বেধে মুসলিম দেশ গুলোর উপর তেরে এসে ভুমি ও আকাশ থেকে আক্রমণ করে।
অন্যভাবে ইতিহাসে খাজার আর মংগলিয়ানদের স্থান গুলো দেখুন পুরো অঞ্চল বৃক্ষহীন পাহাড়ি অঞ্চল যেখান থেকে তারা এসে বহুজাতির উপর আক্রমণ করেছিলো এবং পরে তারা ইউরোপ এশীয়ার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পরে।
৩. ইয়াজুজ-মাজুজ দুনিয়ায় এসেই কি জন্তু জানোয়ার মতো সবকিছু খেয়ে ফেলবে?
সব কিছুই মাত্র কয়েকদিনেই ধংশ করে ফেলবে?
সব মানুষ লুকিয়ে থাকবে?
ইয়াজুজ-মাজুজ আসা মানেই বিশ্ব থেকে অন্যান্য সবাই ধংস হয়ে যাবে, আমরা সবাই একসাথে লুকিয়ে পরবো, সবকিছু তারা খেয়ে ফেলবে(কোনো দৈত্য দানব) ব্যপারটা এমন নয় বরং এমন ভাবেই আলিফ লায়লার গল্পের মতো আমরা ভেবে নিয়েছি যা কোনো জ্ঞানী জাতির নিদর্শন নয়, যেখানে হাদিসে স্পষ্ট তারা আদম সন্তান।
রাসূলুল্লাহ ﷺ আরো বলেন যে, ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাবের পরও বায়তুল্লাহর হজ্ব ও উমরাহ অব্যাহত থাকবে। [সহীহ বুখারী হা/১৪৯০]
এই থেকে বুঝা যায় ইয়াজুজ-মাজুজ দুনিয়ার বুকে থাকা অবস্থায় মানুষ মুসলিমরা সারা বিশ্ব থেকে হজ্ব ও উমরা পালন করতে আসবে বাইতুল্লায় বা মক্কা-মদিনায়, মানে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলিমরা থাকবে এবং চলাচল করবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যাওয়া করবে এবং হজ্জ্ব উমরাহ অব্যাহত থাকবে বা চলবে।
হতে পারে ইয়াজুজ মাজুজ মুক্তি পাওয়ার পরে আজ শত শত বছর পার হয়েছে। রসূলুল্লাহ ﷺ এর মৃত্যুর কিছু সময় পরেই হাদিস অনুযায়ী ইয়াজুজ মাজুজ ছাড়া পেয়েছে তবে ইসলামের শাসন ব্যবস্থার কারণে তারা বিশ্বে তাদের সর্বত্র নিয়ন্ত্রন নিতে পারেনি, কোনো জাতি শক্তি অর্জন না করে, হামলা, ধংশযোগ্য ফিতনা ছড়াতে পারে না।
ইতিহাস অনুযায়ী খাজার, হুন ও পশ্চিম ইউরোপ ও মংগল তাতারদের বিরুদ্ধে আমাদের মুসলিম ও অন্যান্য জাতির বহু যুদ্ধ হয়েছে, বহুবার তবে তারা মুসলমানদের খিলাফত শাসন ব্যবস্থার শক্তির কারনে আমাদের সাথে পুরোপুরি পেরে উঠেনি বা সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রন নিতে পারেনি।
(চাইলে খাজার ও মংগলদের ইতিহাস দেখে নিন এবং আস্কনাজি ইহুদিদের ইতিহাস একটু ঘেটে নিতে পারেন).
পরে তারা যখন বিশ্বে ইউরোপ ও এশিয়ায় ছরিয়ে পরে, বিভিন্ন সময় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল দখল করে ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নিয়ন্ত্রন নেয়, এর পরে দুনিয়ায় বুকে দুইটা বিশ্ব হত্যাকাণ্ড বা বিশ্বযুদ্ধ ঘটে যা ইতিপূর্বে বিশ্বে কখনো ঘটেনি, এর পরে ১৯২৪ সালে তুর্কি খিলাফত ধংশ করে পুরো বিশ্বের মানুষের উপর নিয়ন্ত্রন নেয়। এর আগে বিশ্বে মুসলমানদের নিয়ন্ত্রন ছিলো যেমন ইউরোপ, ভারত, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য প্রায় সব অঞ্চলে।
এর পরেই এই সেকুলার ধর্মহীন গনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক পরাশক্তিদের বিশ্বে নিয়ন্ত্রন ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। লক্ষ করে দেখবেন দুইটা আলাদা ক্ষমতাশীল জোট বিশ্বে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পরেই উভয় দল বিশ্বের দুই পরাশক্তি জোট এই বিশ্ব নিয়ন্ত্রনকে কেন্দ্র করেই নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে ও প্রমান করতে আকাশের নিয়ন্ত্রন নেওয়ার জন্য (রকেট)তীর নিক্ষেপ শুরু করে।
৪. হাদিস:
"তারা বলবে, দুনিয়াতে যারা ছিল সব শেষ করেছি (তাদের উপর প্রতিষ্ঠিত বা বিজয় অর্জন করেছি বা নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করেছি), এখন আসমানে যারা আছে তাদের উপর নিয়ন্ত্রন নিবো বা বিজয় অর্জন করবো।
এই বলে তারা আকাশে তীর ছুঁড়তে থাকবে। আল্লাহ তাদের তীরে রক্ত মাখিয়ে ফেরত পাঠাবেন। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৪৭৫)।
হাদিস বলা হয়েছে এরা আকাশে তীর নিক্ষেপ করবে। আপনি বর্তমান দুনিয়ায় কাদেরকে আকাশে তীর(রকেট) নিক্ষেপ করতে দেখছেন।
আপনি দেখবেন এরা সেকুলার গনতন্ত্রবাদী অথবা সমাজতন্ত্রবাদী যারা কোল্ড ওয়ার বা শীতল স্নায়ুযুদ্ধ যুদ্ধের বিজয় অর্জন করতে আকাশে তীর নিক্ষেপ শুরু করেছে আকাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই।
৫. ইয়াজুজ মাজুজ কি শুধু ইসা: আ: এর সময় বের হয়ে আসবে এবং সবাই এক সাথে মারা যাবে?
তারা কি জন্তু জানোয়ার মতো ?
তাহলে এই বিশ্বের কিছুই জানে না?
কি আশ্চর্য চিন্তা?
ইয়াজূজ-মাজূজ মানব থেকে পৃথক কোন সম্প্রদায় নয়, বরং তারা আদম (আঃ)-এর বংশধর সাধারণ মানুষ (বুখারী হা/৪৭৪১ মুসলিম হা/২২২)।
তাহলে আর একটা ভাববার বিষয় , ইয়াজুজ-মাজুজ এর মতো এতো বড় একটা মানব গোষ্ঠীকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সর্বশেষ নবী বিশ্বমানবতার দুত মুহাম্মদ সা এর দ্বীন ও কুরআনের বানীর শুনার সুজোগ না দিয়েই ধংশ করে দিবেন ব্যাপার টা সহজ নয়!!!
৫. আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন একজন সতর্ককারী প্রেরন না করে বা দ্বীনের বানী না পৌছানো পর্যন্ত আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়কে শান্তি দেন না।
"এমন কোন জনপদ ধ্বংস করিনি, যার জন্য সতর্ককারী ছিল না"। [সূরা আশ-শূ'আরা: ২০৮]
কুরানে বর্নিত বাদশা জুলকারনাইন আ: তাদেরকে দেওয়াল নির্মাণ করে আটকে দিয়েছিলেন আর সেই বিষয়টি আল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাঃ এর আসার বহু আগের। সুতরাং আল্লাহর রাসুলুল্লাহ সাঃ এর দ্বীন ইসলামের দাওয়াত তারা পায়নি এবং এই দ্বীনের দাওয়াত অবশ্যই পাওয়া উচিৎ যেহেতু আমাদের নবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ব মানবতার জন্য চুরান্ত ও সর্বশেষ নবী।
ভেবে দেখুন, শেষ সময় ইসা: এর সময় দেওয়াল বেংগে বের হয়ে এসে ধংশ হয়ে যাওয়া মানে, বিশ্ব নবী সা: এর বানী তারা শুনার আগেই কয়েক দিনের জন্য বেরিয়ে এসে সব মরে শেষ হয়ে গেলো আবার হাসরের দিন তারাই সবচেয়ে বেশী জাহান্নামী হবে তাহলে মানে কি হলো ?
এতো বড় একটা মানবগোষ্ঠী আদমের সন্তান ইসলামের দাওয়াত ও সবকিছু থেকে বঞ্চিত হলো আবার তারাই সবচেয়ে বেশী জাহান্নামে যাবে!!!
তাহলে তারা তো আল্লাহকে বলতেও পারে যে হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, আমরা ইসলামের বাণী কুরআনের বানী যা আপনি এই বিশ্ব মানবতার জন্য নাজিল করেছেন আমরা তা শুনতেই পাইনি, আমরা তা থেকে বঞ্চিত হয়েছি,
ইয়া আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমরা তো কিছুই জানতাম না।
অন্যদিক দিয়ে চিন্তা করুন, যে মারিয়াম তনয় ইসা আ: এর সাথে তাদের কি শত্রুতা যিনি আকাশ থেকে ফিরে আসবেন, তাকে হামলা করতে তারা মুক্তি পেয়েই এসে পরবে ঠিক তাবারিয়া হ্রদ পার হয়ে জেরুজালেমে(ইস্রাইলে). কারন ইসা: আ: তাদের প্রভু দাজ্জালকে হত্যা করে ফেলবেন একারণেই তারা ইসা: আ: ও তার বাহিনীকে শেষ করে দিতে একত্রিত হয়ে সর্বশক্তি নিয়ে আক্রমণ করতে আসবে। সেকুলার গনতন্ত্রবাদী ও সমাজতন্ত্রবাদী জোট ও অনুসারীরা দুইটি দলই হচ্ছে ইয়াজুজ-মাজুজ। আর ইসা: আ: আক্রমণ করতে এসেই এই দুইটা দলের অনুসারী ইয়াজুজ-মাজুজরা সব শেষ হয়ে যাবে।
তাই এটাই সত্য যে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর হাদিস অনুযায়ী সেই দিন বা এর কিছুকাল পরেই তারা দেওয়াল বেংগে বেরিয়ে গিয়েছিলো, ঠিক যেই দিন আল্লাহর রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন আজ ইয়াজুজ-মাজুজ তাদের প্রাচীর এতোটুকু ছিদ্র করে ফেলেছে। কারন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদেরকে ইসলামের বানী কুরআনের বানী না শুনিয়ে জাহান্নামে প্রেরণ করবেন না। তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদেরকে ইসলামের সুজোগ বঞ্চিত করেন নি।
সুতরাং এই দুনিয়ার জমিনে প্রাচীর ভেংহে বেড়িয়ে তারা ইসলামের দাওয়াত পেয়েছে, যখন থেকে তারা ফাসাদ সৃষ্টি করছে ,
যখন তারা বিশ্বে নিয়ন্ত্রন নিয়েছে,
যখন আঁকাস নিয়ন্ত্রন নেওয়ার জন্য তীর (রকেট) নিক্ষেপ করছে,
নিশ্চিত ভাবেই মুসলিমদের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হয়েছে,
বিভিন্ন জাতি ও মুসলমানদের সাথে তাদের যুদ্ধ হয়েছে এবং হচ্ছে ও হতে থাকবে এবং আল্লাহর দ্বীনের বানী তাদের প্রত্যেকের কাছে পৌছে গেছে, যাবে এবং যেতে থাকবে,
রাসুলুল্লাহ সাঃ এর হাদিস অনুযায়ী ইয়াজুজ-মাজুজ এর আবির্ভাবের পরে হজ্ব ও উমরাহ অব্যাহত চলবে মানে হচ্ছে বিশ্বের সব স্থানের মুসলিমরা থাকবে এবং বাইতুল্লায় আসা যাওয়া থাকবে এবং আল্লাহর বানী তাদের কাছে পৌছে যাবে সর্ব যুগেই যার সর্বশেষ ফয়সালা হবে শেষ জমানায় ইমাম মাহাদির ও ইসা: আ: এর সময় জেরুজালেমের শাসন ব্যবস্থা খিলাফত ও শক্তি প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে।
পুরো ইয়াজুজ-মাজুজ এই সেকুলার গনতন্ত্রবাদী ও সমাজতন্ত্রবাদী পরাশক্তি ধংশ হয়ে জাহান্নামে যাওয়ার পূর্বে এগুলোই এখন শেষ জমানায় ঘটছে।
খেয়াল করুন আজ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বিশ্বে যোগাযোগ ব্যবস্থার দার খুলে দিয়েছে এবং বর্তমান সেকুলার গনতন্ত্রবাদী ও সমাজতন্ত্রবাদীদের প্রত্যেকের কাছে আল্লাহর দ্বীনের বাণী পোউছে যাচ্ছে অতপর তারাও তাদের ফেতনা গুলো মাদুরের আকৃতিতে প্রদর্শন করছে এবং এই ফেতনায় সবাই যুক্ত হয়ে যাচ্ছে বিশ্বের প্রতিটি মানুষ ইসলাম ঈমান ও কুফরির সেকুলার তন্ত্রবাদের দাওয়াত পেয়ে গেছে এভাবেই কাফের সেকুলাররা বিভ্রান্ত সবজাতি ও ইসলাম আলাদা দুটি পথ একটা ইমানের অন্যদিকে ইয়াজুজ-মাজুজ ও তাদের অনুসারী কাফের সসম্প্রদায়ের । তবে তারাও চক্রান্ত করে আর আমাদের রব আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের সাথে পরিকল্পনা করেন নিশ্চয় আল্লাহর পরিকল্পনাই শ্রেষ্ঠ। আজ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সেকুলার দুটি পরাশক্তির বিশ্ব নিয়ন্ত্রনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দন্দ স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
৬. হাদিস: আল্লাহর রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেন দুটি বড় দলের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হবে তাদের উভয়ের দাবী(বিশ্ব নিয়ন্ত্রন ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রন) একই থাকবে।
আজ দেখতে পাচ্ছেন সেকুলার গনতান্ত্রিক পরাশক্তি জোট ও সমাজতান্ত্রিক পরাশক্তির জোটের মধ্যে বিবাদ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও নির্জাতিত মুসলিমদের কিছু অংশ ইয়াজুজ-মাজুজ এর উভয় পক্ষের সাথেই যুক্ত তবে এই দুই পরাশক্তির লড়াই বিশ্বমানবতাকে ধংশের মুখোমুখি করেদিবে এবং নিজেরাও দুর্বল হয়ে যাবে।
৬. কিভাবে ইয়াজুজ-মাজুজ জাহান্নামের ১০০০ এর মধ্যে ৯৯৯ জন এতো সংখ্যা কিভাবে হবে?
আমরাও কি ইয়াজুজ-মাজুজ হতে পারি?
“যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ, অনুসরণ ও সামঞ্জস্য বিধান করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে”।
ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ: ২/৫০; আবু দাউদ রহ. বর্ণনা করেছে উৎকৃষ্ট সনদে, হাদীস নং-৪০৩১; আর আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, ‘সহীহ আল-জামে‘ আস-সাগীর’, হাদীস নং-৬০২৫।
উক্ত হাদিস অনুযায়ী যদি আমি আপনি ইয়াজুজ-মাজুজ এই সেকুলার গনতন্ত্রবাদী ও সমাজতন্ত্রবাদী পরাশক্তির অনুকরণ, অনুসরণ ও সামঞ্জস্য বিধান করি তাহলে আমরা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত
আলোচনা চলবে...

Comments