Skip to main content

শাহী বাঙ্গালাহ: পর্ব ২


"যে সময়ে দিল্লির সিংহাসনে দুর্বলতা, সেই সময়ে বাংলা নিজের হাতেই তুলে নিয়েছিল শাসনের মশাল।"

ইতিহাসের পাতায় ১৩৪২ সাল—একটি বছর, যেটি বাংলার জন্য মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এই বছরেই দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, একজন বাঙালি মুসলমানের নেতৃত্বে শুরু হয় বাংলার স্বাধীন মুসলিম শাসনের যাত্রা।

তিনি ছিলেন—ইলিয়াস শাহ
একজন সাধারণ সৈন্য থেকে নিজ যোগ্যতায় উঠে আসা এই নেতা, বাংলা একত্রিত করে গড়ে তুলেছিলেন স্বাধীন ইলিয়াস শাহী সালতানাত

উত্তরে গৌড়, দক্ষিণে চট্টগ্রাম, পশ্চিমে রাজমহল থেকে পূর্বে সিলেট—সমগ্র বঙ্গজুড়ে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।
ইলিয়াস শাহ শুধু একজন শাসক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলার ঐক্যের প্রতীক।

তিনি ইসলামি শিক্ষা, সাহিত্য, স্থাপত্য এবং প্রশাসনে এমন এক ধারা তৈরি করেন,
যার ভিত্তির উপর পরবর্তীতে দাঁড়িয়ে যায় পুরো শাহী বাঙ্গালাহ

কী ছিল এই শাসনের বৈশিষ্ট্য?

  • স্বাধীন মুদ্রা: বাংলার নিজস্ব সুলতানি মুদ্রা চালু হয়, যেখানে খচিত ছিল ইসলামি কালেমা।
  • ইসলামী বিচারব্যবস্থা: শরিয়া ভিত্তিক আইন চালু হয় আদালতে।
  • জ্ঞানচর্চা: মাদ্রাসা, লাইব্রেরি, ও আলেমদের প্রতিষ্ঠা শুরু হয় এই সময়েই।
  • সামরিক গৌরব: দিল্লি, অরিসা ও আসাম সীমান্তে বাংলার শক্তিমত্তা প্রতিষ্ঠা পায়।

এই পর্বে যে ইতিহাস তুলে ধরা হল, তা শুধু ইতিহাস নয়—
এটি একটি উম্মাহর আত্মবিশ্বাস, একটি জাতির আত্মমর্যাদা।

বাংলা কেবল সাহিত্য আর কাব্যের জনপদ ছিল না—
এ ছিল সিংহের মত জেগে ওঠা এক মুসলিম শক্তির নাম।

তবে এরপর কী হলো?
ইলিয়াস শাহের পর কে ধরে রাখলেন এই গৌরবের পতাকা?
বাংলা কীভাবে দাঁড়ালো বিশ্বের মানচিত্রে নিজস্ব পরিচয়ে?

এই সব প্রশ্নের উত্তর অপেক্ষা করছে পর্ব ৩-এ...

Publisher: Al-Fatiha Foundation
Platform: Muslim World

Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...