কোরআন ঐশীবাণী না হলে, ১৪০০+ বছর আগে একজন মানুষ কিভাবে ইঙ্গিত দিতে পারেন ?
পৃথিবির ঘুর্ণন বন্ধ হলে দিন ও রাত স্থায়ী হবে এবং পৃথিবি বসবাসের উপযোগী থাকবেনা, যা নিয়ে আজকের বিজ্ঞানের বিস্ময়ের সীমা নেই ?
আল্লাহ্ বলেনঃ
قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَٰهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِضِيَاءٍ ۖ أَفَلَا تَسْمَعُونَ
"বলুন, ভেবে দেখ তো, আল্লাহ যদি রাত্রিকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, তবে আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে, যে তোমাদেরকে আলোক দান করতে পারে? তোমরা কি তবুও কর্ণপাত করবে না?"
[Say: See ye? If Allah were to make the night perpetual over you to the Day of Judgment, what god is there other than Allah, who can give you enlightenment? Will ye not then hearken?]
قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ النَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَٰهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِلَيْلٍ تَسْكُنُونَ فِيهِ ۖ أَفَلَا تُبْصِرُونَ
"বলুন, ভেবে দেখ তো, আল্লাহ যদি দিনকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, তবে আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে যে, তোমাদেরকে রাত্রি দান করতে পারে, যাতে তোমরা বিশ্রাম করবে ? তোমরা কি তবুও ভেবে দেখবে না ?"
[Say: See ye? If Allah were to make the day perpetual over you to the Day of Judgment, what god is there other than Allah, who can give you a night in which ye can rest? Will ye not then see?]
وَمِنْ رَحْمَتِهِ جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لِتَسْكُنُوا فِيهِ وَلِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
"তিনিই স্বীয় রহমতে তোমাদের জন্যে রাত ও দিন করেছেন, যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম গ্রহণ কর ও তাঁর অনুগ্রহ অন্বেষণ কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।"
[It is out of His Mercy that He has made for you Night and Day,- that ye may rest therein, and that ye may seek of his Grace;- and in order that ye may be grateful.]
(সুরা আল কাসাস : ৭১, ৭২, ৭৩)
প্রথম দুটি আয়াতে ১৪০০+ বছর আগে বোঝানো হয়েছে, চিরস্থায়ী দিন ও রাত্রির কথা, যেটা কেবল আমাদের পৃথিবির ঘুর্ণন বন্ধ করলেই সম্ভব, যা স্রষ্টা ছাড়া আর কেউ বলতে পারেনা। বিজ্ঞান এ নিয়ে প্রচুর গবেষনা করেছে এবং এখনো করছে।
পৃথিবির ঘুর্ণন বন্ধ হলে কি হবে বিজ্ঞান কি বলে দেখি। আস্তে আস্তে গতি কমলে যা ঘটবেঃ
পৃথিবী তার নিজ অক্ষে ঘণ্টায় ১৪৭০.২৩ কি.মি. বেগে ঘুরতে থাকে। যদি পৃথিবী হঠাৎ করে ঘোরা বন্ধ করে দেয়, তবুও আমাদের পরিবেশের সবকিছু কিন্তু আগের মত একই বেগে থাকবে। তার ফলে সবকিছু আকাশে উড়তে থাকবে।
যখন ঘূর্ণন গতি ৯০০-৫০০ কি.মি. প্রতি ঘণ্টায় হবে তখন পৃথিবীর একপাশে (যে পাশে সূর্য থাকবে) দিনের পরিমাণ বেড়ে যেতে থাকবে, আর অন্য পাশে একই সাথে রাতের পরিমাণও বেড়ে যাবে। ১০-১৩ দিন পর রাত আসবে। এই ফল পড়বে আমাদের যান্ত্রিক শক্তি বিতরণে। আমাদের সাধারণ ঘুমের সমস্যা হবে। মতিভ্রম হবে, আমাদের শরীরের পেশীগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেবে, আমদের মস্তিষ্ক তথ্যকে সঠিক ভাবে প্রসেস বা প্রক্রিয়াজাত করতে পারবে না।
পৃথিবীর নিজ অক্ষের ঘূর্ণন যখন কমতে থাকবে তার সবচেয়ে বড় খারাপ ফল পড়বে বিমান যাতায়াতে। বেশিরভাগ বিমান জিপিএস ব্যবহার করে থাকে, জিপিএস স্যাটেলাইট থেকে তথ্য নিয়ে থাকে। যখন পৃথিবীর নিজ অক্ষের ঘূর্ণন কমে যাবে, স্যাটেলাইট পৃথিবীর সাথে নিজের অবস্থান ঠিক করতে পারবে না, যার ফল বিমান দুর্ঘটনা।
আমাদের পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি পৃথিবীর জলভাগকে একটা আকৃতিতে রাখে, কিন্তু যেহেতু বেগ কমে যাবে তাই জলভাগের অবস্থান আকার পরিবর্তিত হবে। সকল সমুদ্র উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ফিরতে থাকবে। আমাদের পৃথিবী ৩টি স্তর দিয়ে গঠিত যেহেতু গতির পরিবর্তন হবে এবং ভেতরের স্তরগুলো এই পরিবর্তন সামলাতে ধাক্কা খাবে একে অপরের সাথে। এর ফল ভীষণ ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত। টানা রাত হবার ফলে তাপমাত্রা কমে -৫৫ ডিগ্রিতে চলে আসবে, যা সাধারণ শীতের ঠাণ্ডার চেয়ে ২০০ গুণ বেশি।
যখন গতি ৫০০-১০০তে নেমে আসবে, তখন দিনের পরিমাণ এবং রাতের পরিমাণ হবে প্রায় ৭২০ ঘণ্টা বা ১ মাসের সমান। মানুষ এই তাপমাত্রার সাথে নিজেদের খাপ খাওয়াতে শুরু করবে। আমাদের পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র বিলীন হতে থাকবে এবং মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ মারা যাবে মহাশূন্য থেকে আসা তেজস্ক্রিয়তার জন্য। কারণ, এই চৌম্বকক্ষেত্র মহাশূন্য থেকে আসা বিকিরণকে মানুষকে রক্ষা করে।
যখন বেগ ১০০-১১ এর ভেতর নেমে আসবে, তখন পৃথিবীর আবহাওয়া একেবারে বিলীন হয়ে যবে। সব সাগর মহাসাগর দুই ভাগে চলে যাবে উত্তর মেরুতে এবং দক্ষিণ মেরুতে। মাঝে তৈরি হবে হাজার হাজার মাইলের বিস্তীর্ণ ভূমি। আরো মানুষ মারা যাবে খাবারের অভাবে এবং অক্সিজেনের অভাবে।
বেগ ০-১১ হলে পৃথিবী সম্পূর্ণ স্থির, কিন্তু তবুও সে সূর্যের চারিদিকে ঘুরবে এবং ৬ মাস রাত আর ৬ মাস দিন থাকবে। বিষুবরেখার দিকে তাপমাত্রা থাকবে মেরু অঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি। বেঁচে থাকার সব আশা শেষ। ৬ মাস প্রচণ্ড উত্তাপ আর ৬ মাস তাপমাত্রা -৫৫ ডিগ্রীরও নিচে থাকবে। মানুষের শরীর তাকে এই পরিবেশে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করবে। এভাবেই চলতে থাকবে চলবে, যত দিন না সূর্য 'লাল দানবে' পরিণত হয়।
গবেষনা প্রমান দেখুনঃ
What would happen if Earth stopped spinning?
https://www.bbc.com/future/article/20140214-what-if-earth-stopped-spinning
What Would Happen if Earth Stopped Spinning?
http://thescienceexplorer.com/universe/what-would-happen-if-earth-stopped-spinning
The thought experiment: What would happen if the Earth stopped spinning?
https://www.sciencefocus.com/planet-earth/the-thought-experiment-what-would-happen-if-the-earth-stopped-spinning/
এরপরও, অবিশ্বাসীরা ত্যানা পেচাবে, "এটা নয়, ওটা নয়, এমন নয়, তেমন নয়" ইত্যাদি, ইত্যাদি। আসলে, ওরাযে অসুস্থ্য ওরা নিজেরাও জানেনা, জানলেও বুঝতে চায় না।

Comments