সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যারা অন্ধকারে (ফজর ও এশার সময়) মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদেরকে কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও।”
— Sunan Ibn Majah
এই হাদিসটি ইবনে মাজাহে বর্ণিত হয়েছে। সহিহ বুখারীতেও ফজর ও এশার জামাতে উপস্থিত হওয়ার গুরুত্ব এবং মসজিদে গমনকারীদের মর্যাদা সম্পর্কে বহু হাদিস রয়েছে।
সহিহ বুখারীর আলোকে বিষয়টির ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে ভারী সালাত হলো এশা ও ফজরের সালাত। তারা যদি এর ফজিলত জানত, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এতে উপস্থিত হতো।”
— Sahih al-Bukhari
আরেক হাদিসে এসেছে:
“যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় মসজিদে যায়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে প্রতিবার যাতায়াতের বিনিময়ে মেহমানদারির ব্যবস্থা করেন।”
— Sahih al-Bukhari
হাদিস থেকে শিক্ষা
১. ফজর ও এশার সালাতের বিশেষ গুরুত্ব
রাতের অন্ধকারে মসজিদে যাওয়া কষ্টসাধ্য হলেও এর প্রতিদান অত্যন্ত বড়। এজন্যই কিয়ামতের দিনের নূরের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
২. মসজিদের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা ঈমানের নিদর্শন
যে ব্যক্তি নিয়মিত মসজিদে যাতায়াত করে, তার অন্তরে আল্লাহর ঘরের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।
৩. কষ্টের বিনিময়ে বড় প্রতিদান
ঘুম, ক্লান্তি বা আবহাওয়ার কষ্ট সহ্য করে নামাজের জন্য বের হওয়া আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয় আমল।
৪. কিয়ামতের দিনের নূর
যেদিন অনেক মানুষ অন্ধকার ও ভয়ের মধ্যে থাকবে, সেদিন মসজিদমুখী মুমিনদের জন্য বিশেষ নূরের ব্যবস্থা থাকবে।
৫. মুনাফিকির একটি লক্ষণ থেকে বাঁচা
ফজর ও এশার জামাতকে হালকা মনে না করে গুরুত্বের সাথে আদায় করা উচিত।
আমল
ফজর ও এশার সালাত যথাসম্ভব জামাতে আদায়ের চেষ্টা করা।
সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই মসজিদমুখী করে গড়ে তোলা।
মসজিদে যাওয়ার পথে দোয়া ও জিকির করা।
মসজিদের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক তৈরি করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ফজর ও এশার সালাত জামাতের সাথে আদায় করার এবং কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূর লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
মন্তব্যসমূহ