Skip to main content


 জাহান্নামের ভয়াবহ আজাবের গল্প,😭

_________ 📖আল ফাতিহা 📖 _________

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বারবার জাহান্নামের ভয়াবহতা ও তার আজাবের কথা উল্লেখ করেছেন, যা একমাত্র সত্যিকার মুমিনদের জন্য একটি সতর্কতা।


একদিন, এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার আত্মা পরকালে পৌঁছায়। একদিকে স্বর্গের দরজা ছিল, অন্যদিকে জাহান্নামের দরজা ছিল। সেই ব্যক্তি যখন জাহান্নামের দিকে তাকাল, সে অনুভব করল একটি অদৃশ্য শক্তি তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সে ভয় পেয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করল। কিন্তু তার কপালে ছিল এমন ভাগ্য যা সে আগে বুঝতে পারেনি।


জাহান্নামের দরজা খুলে গেল এবং এক নিঃসীম আগুনের শিখা তাকে অভ্যর্থনা জানাল। আগুনটি একেবারে উত্তপ্ত ছিল, তাপমাত্রা ছিল অবিশ্বাস্যভাবে উচ্চ। সে দেখল অসংখ্য প্রেতাত্মা ও দুষ্ট আত্মারা সেখানে চিৎকার করছে, তাদের মুখ থেকে আগুন বের হয়ে আসছে এবং শরীর ঝলসে যাচ্ছে। সেখানে প্রতিটি মুহূর্তে এক ভয়ঙ্কর কষ্ট ছিল—গলা শুকিয়ে যাওয়া, পায়ের তলায় আগুনের তাপ, এবং শরীরে যে কোন প্রাণী যখন কামড়াতে পারে, তেমন অনুভূতি।


সেখানে সে অজান্তেই শুনতে পেল আল্লাহর আওয়াজ। আল্লাহ বললেন: "তুমি কি কখনো আমার প্রতি বিশ্বাস রাখনি? আমার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিলে? যে পথ আমি নির্দেশ করেছি, তুমি তাকে পরিত্যাগ করেছিলে?"


ব্যক্তিটি নিজের ভুল বুঝতে পারল, কিন্তু এখন আর কিছু করার ছিল না। এক মুহূর্তের জন্য সে ভেবেছিল, যদি একটু দয়া পাওয়া যায়। কিন্তু সে জানত, এখন তার কিছু করার নেই।


এই গল্প থেকে শিক্ষা হলো—জাহান্নামের আজাব চিরকালীন, আর সেখানে যাওয়ার আগে আমাদের আল্লাহর পথে চলতে হবে। দুনিয়াতে তওবা ও ইবাদত করে যদি আমরা নিজেদের আল্লাহর কাছে সঁপে দিতে পারি, তবে পরকালে সেই ভয়াবহ আজাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


উপসংহার:

আমরা যেন এই পৃথিবীতে প্রতিটি দিন এমনভাবে কাটাই, যাতে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভ হয়। যদি কখনো গুনাহ করি, তবে তওবা করি এবং আবার আল্লাহর পথে ফিরে আসি।


আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়াত দান করুন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তি দান করুন। আমিন।


আপনি যদি আরও অন্য গল্প বা শিখনমূলক কিছু চান, জানাতে পারেন!

আমরা ইনশাআল্লাহ আপনার মত অনুযায়ী গল্প শোনানোর চেষ্টা করব। 

আর হ্যাঁ ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাইলো তাও বলবেন ইনশাআল্লাহ আমরা ইসলামের প্রতিটি কাজে অল্প অল্প করে এগানোর  চেষ্টা করব।



লেখক____  غازي امين اسلام قاسمي ____🌍

Comments

Anonymous said…
Mash Allah ❤️

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...