Skip to main content

ফাইয়াজের সফলতা।


এক শহরে ছিল একটি ছোট্ট ছেলে, নাম ছিল ফাইয়াজ।




 ফাইয়াজ বয়সে ছোট হলেও, তার চোখে ছিল কৌতূহলের দীপ্তি আর মনে ছিল জ্ঞান অর্জনের তীব্র আগ্রহ। তবে একটি জিনিস তাকে সবসময় দুর্বল করত—সে খুব সহজেই ভয় পেত।

শহরের বাইরে ছিল এক বিশাল জঙ্গল। জঙ্গলের ভেতর সবসময় অন্ধকার বিরাজ করত, আর মানুষের মধ্যে প্রচলিত ছিল একটি ভয়ঙ্কর কাহিনি—সেখানে থাকে এক রহস্যময় প্রেতাত্মা, যাকে সবাই “কালো ছায়া” বলে ডাকত। গ্রামের মানুষজন রাতে কখনো সেই জঙ্গলের দিকে যেত না। শিশুরা ঘুমাতে না চাইলে তাদের মায়েরা ভয় দেখাত—“কালো ছায়া এসে ধরে নিয়ে যাবে।”

ছোট থেকে ফাইয়াজও এই গল্প শুনে বড় হয়েছিল। কিন্তু তার মনে একদিন প্রশ্ন জাগল—“কালো ছায়া যদি সত্যিই থাকে, তাহলে কেউ কখনো তাকে দেখল না কেন? সবাই শুধু ভয় পায় কেন?”

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ফাইয়াজ একদিন সিদ্ধান্ত নিল—সে নিজেই জঙ্গলে গিয়ে সত্যিটা খুঁজে বের করবে।

সাহসের যাত্রা

এক পূর্ণিমার রাতে, চারপাশ ভরে ছিল চাঁদের আলোয়। ফাইয়াজ বুকের ভেতর সাহস সঞ্চয় করে জঙ্গলের দিকে হাঁটা শুরু করল। প্রথমে শহরের আলো পিছনে ফেলে আসতে আসতে তার মনে এক অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি হলো। জঙ্গলের কিনারায় পৌঁছে গিয়েই কানে আসতে লাগল অদ্ভুত শব্দ—কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, কোথাও পাতার মর্মর ধ্বনি, আবার কোথাও যেন ফিসফিস করে কেউ ডাকছে।

অন্য যে কোনো বাচ্চা হয়তো ফিরে যেত, কিন্তু ফাইয়াজ না। তার চোখে ভয় নয়, বরং কৌতূহল কাজ করছিল।

অদ্ভুত সাক্ষাৎ

জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ করার পর হঠাৎ করে চারপাশ আরও অন্ধকার হয়ে গেল। তখনই তার সামনে হাজির হলো একটি অদ্ভুত সাদা ছায়া। যেন মানুষের আকার, কিন্তু মুখ দেখা যায় না। বাতাসে ভেসে বেড়ানো সেই ছায়াটিকে দেখে যে কারোই গা শিউরে উঠত।

কিন্তু ফাইয়াজ ভয় না পেয়ে এগিয়ে গিয়ে জোরে প্রশ্ন করল—
“তুমি কি কালো ছায়া?”

ছায়াটি ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এসে বলল—
“না, আমি কালো ছায়া নই। আমি তোমার ভয়, তোমার কল্পনা। মানুষ যখন ভয় পায়, তখন সেই ভয়ই তার চোখে রূপ নিয়ে দাঁড়ায়। তুমি আমাকে ভয় করে এসেছো, তাই আমি তোমার সামনে এসেছি।”

ফাইয়াজ বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল, এতদিন যাকে কালো ছায়া বলে ভয় দেখানো হয়েছে, সেটি আসলে বাস্তব কোনো প্রাণী নয়—এটি মানুষের ভেতরের ভয়, যা কল্পনায় বড় হয়ে দাঁড়ায়।

ভয় জয় করে প্রত্যাবর্তন

ফাইয়াজ তখনই উপলব্ধি করল—
“ভয় কোনো বাস্তব শত্রু নয়। ভয় হলো এক অদৃশ্য শৃঙ্খল, যা মানুষকে অন্ধকারে আটকে রাখে। যদি সাহস করে প্রশ্ন করা যায়, তাহলে ভয় ধোঁয়ার মতো মিলিয়ে যায়।”

এই উপলব্ধি তার জীবন বদলে দিল। সে আর কোনোদিন ভয়কে তার নিয়ন্ত্রণ নিতে দিল না। পরীক্ষার ভয়, ব্যর্থতার ভয়, মানুষের কথার ভয়—সবকিছুকেই সে জয় করল নিজের সাহস দিয়ে।

ফাইয়াজ ধীরে ধীরে শহরে ফিরে এলো। মানুষ যখন তাকে জিজ্ঞাসা করল—“কালো ছায়াকে দেখেছ?” সে হাসিমুখে উত্তর দিল—
“কালো ছায়া বাইরে নেই, কালো ছায়া আমাদের ভেতরেই আছে। আমরা ভয় পেলে সে বড় হয়, আর আমরা সাহসী হলে সে মিলিয়ে যায়।”

সেদিন থেকে ফাইয়াজ শুধু শহরের নয়, সবার জন্য এক অনুপ্রেরণা হয়ে উঠল।


শিক্ষণীয় বিষয়

ফাইয়াজের গল্প আমাদের শেখায়—

  • ভয় বাস্তবে কিছু নয়, এটি কেবল মনের খেলা।
  • সাহস মানে ভয় না পাওয়া নয়; বরং ভয়কে মোকাবিলা করা।
  • আল্লাহর উপর ভরসা করলে মন শান্ত হয়, ভয় দূরে সরে যায়।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন—
“তোমরা মানুষকে ভয় করো না; আমাকেই ভয় করো।”
(সুরা মায়িদাহ: 44)

অতএব, ভয় যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু হয়, তবে সেটি কেবল কল্পনা।


✍️ লেখক: মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ ইবনে আমিন 

সম্পাদক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী








Comments

MUSLIM WOULD.1M said…
আলহামদুলিল্লাহ
Anonymous said…
মাশাআল্লাহ

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...