গল্প: হোস্টেল ছেড়ে চলে গেল হিব্বান
রাজশাহীর পিটিআই হোস্টেলের প্রতিটা কোণা যেন হিব্বানের দুষ্টুমি আর হাসির আওয়াজে মুখরিত ছিল। তার ছোট্ট পায়ের ছাপগুলো মেঝেতে এমনভাবে ছাপ ফেলত, যেন সে পুরো হোস্টেলের রাজা। কিন্তু সেদিন হঠাৎ এমন এক ঘটনা ঘটল, যা হোস্টেলের পরিবেশ একেবারে বদলে দিল।
সকাল থেকেই হিব্বান কেমন জানি চুপচাপ। তার স্বভাবসুলভ দুষ্টুমি নেই, সবাইকে অকারণে বিরক্ত করার কোনো চেষ্টা নেই। আমি, আদনান, মেজ ভাই হাম্মাদ, ওসামা, সারফারাজ আর হাস্সান—সবাই যেন অবাক হয়ে দেখছিলাম ওকে।
হিব্বানের সিদ্ধান্ত
দুপুরের দিকে হিব্বান আমার কাছে এসে বলল, “ফাইয়াজ চাচ্চু, আমি হোস্টেল ছেড়ে চলে যাব।”
আমি তো হতভম্ব! “তুই হোস্টেল ছেড়ে কোথায় যাবি? এটা তো তোর রাজ্য!”
হিব্বান গম্ভীর মুখে বলল, “আমার রাজ্য অনেক বড়। শুধু এই হোস্টেল না, আমি পুরো পৃথিবীতে রাজত্ব করতে চাই। এখানে সবাই বড় বড় কথা বলে, কিন্তু কেউ আমার মত করে চিন্তা করে না। তাই আমি চলে যাব।”
আদনান হেসে বলল, “আরে হিব্বান, তুই কি আমাদের ছেড়ে চলে যাবি? তোর রাজত্বের প্রজারা কোথায় থাকবে তাহলে?”
হিব্বান বলল, “আপনারা তো আমাকে হাসালেও অনেক সময় বকা দেন। আমি এবার নিজে বড় হব, নিজে কাজ করব, নিজে হোস্টেল বানাব।”
সবার চেষ্টায় ব্যর্থতা
হিব্বানের এমন আচরণ দেখে হাস্সান তার ছেলেকে ডেকে বলল, “বাবা, তুই হোস্টেল ছেড়ে গেলে আমি কী করব? তোর দুষ্টুমি ছাড়া তো দিন কাটে না।”
হিব্বান তখন বলল, “আপনি তো বড়। বড়দের তো অনেক কাজ থাকে। আমি ছোট বলে সবাই আমাকে অবহেলা করে।”
ওসামা যোগ দিল, “হিব্বান, তুই না থাকলে এই হোস্টেলের গল্পগুলো ফাঁকা হয়ে যাবে। তোর সব মিষ্টি কে খাবে?”
হিব্বান একটু ভাবল, তারপর বলল, “আপনারা মিষ্টি খাওয়ার জন্য আমাকে রাখতে চান? তবে আমার শর্ত আছে!”
সারফারাজ বলল, “তুই যা শর্ত দিস, আমরা মেনে নেব। শুধু তুই হোস্টেল ছেড়ে যাস না।”
শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তা
সবাই যখন হিব্বানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছিল, তখন সে বলল, “ঠিক আছে, আমি থাকব। কিন্তু একটা শর্তে—আপনারা সবাই আমার জন্য একটা বড় হোস্টেলের রাজকীয় চেয়ার বানাবেন।”
আদনান বলল, “তুই রাজা, তোর কথা অবশ্যই শুনব। তবে তুই মিষ্টি আনতে আমাকে দৌড়াতে বলবি না, এটাই আমার শর্ত।”
হিব্বান একগাল হেসে বলল, “ঠিক আছে। তাহলে হোস্টেলে আমি থাকছি, কিন্তু রাজা হিসেবে।”
শেষে ফিরে এলো হাসি
হিব্বানের মুখে রাজি হওয়ার কথা শুনে সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। আর হোস্টেলে যেন আবার প্রাণ ফিরে এল। সেই ছোট্ট দুষ্টু ছেলেটা হোস্টেল ছেড়ে কোথাও যায়নি, কিন্তু তার কথা সবাইকে মনে করিয়ে দিল যে একসঙ্গে থাকা আর একে অপরকে গুরুত্ব দেওয়াই আসল সুখ।
দোস্ত, গল্পটা কেমন হলো? হিব্বানের নাটকীয় সিদ্ধান্ত তোকে মনে করিয়ে দিল আমাদের সেই ছোট্ট হাসির ঝড়গুলো?

Comments