কাবা শরীফের ভিতরের ইতিহাস ও জাহিলি যুগের মূর্তি: এক ভয়ংকর বাস্তবতা
কাবা — তাওহিদের ঘর
---
পবিত্র কাবা শরীফ—যা আজ মুসলিম জাতির হৃদয়ের কেন্দ্র, ইসলামের প্রধান কিবলা, এবং তাওহিদের প্রতীক—এই কাবাই একসময় ছিল মূর্তিপূজার কেন্দ্রস্থল!
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং ইসমাঈল (আঃ) কাবাকে নির্মাণ করেছিলেন শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদতের জন্য।
"…তুমি আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী, রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো।"
(সূরা আল-বাকারা: ১২৫)
কিন্তু সময়ের প্রবাহে, ইবলিস ও মানুষের শয়তানি চিন্তার ফাঁদে পড়ে কাবা শরীফ হয়ে উঠেছিল এক মূর্তির মেলা।
---
কাবা শরীফে কতগুলো মূর্তি ছিল?
রাসূল (সা.) মক্কা বিজয়ের সময় কাবা শরীফে প্রবেশ করে ৩৬০টি মূর্তি ধ্বংস করেন।
কাবার ভেতর ও বাইরে ছিল এই সমস্ত মূর্তি।
কাবার ছাদের উপরও ছিল বহু প্রতিমা।
সবচেয়ে বড় মূর্তিটি ছিল "হুবল"—যাকে কাবার ভেতরে সবচেয়ে সম্মানজনক স্থানে রাখা হয়েছিল।
হাদীসে বর্ণিত:
> "রাসূলুল্লাহ (সা.) কাবা শরীফে প্রবেশ করে একটি লাঠি দিয়ে সব মূর্তি ধাক্কা দিতে দিতে বললেন:
جاء الحق وزهق الباطل، إن الباطل كان زهوقا
অর্থাৎ: ‘সত্য এসেছে, মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; নিশ্চয়ই মিথ্যা চিরস্থায়ী নয়।’
(সহীহ বুখারী, হাদীস: ৪২৮৭)
---
কাবা শরীফের ভেতরের সাজসজ্জা (জাহিলি যুগে):
ভিতরের দেয়ালে ছিল দেবতাদের ছবি।
ঈসা (আঃ) ও মরিয়ম (আঃ)-এর ছবিও ছিল সেখানে—যা খ্রিস্টানদের প্রভাবে সংযুক্ত হয়েছিল।
মূর্তিগুলোর সামনে লোকেরা সিজদা করত, মান্নত করত।
কাবার ভেতরে রাখার জন্য সোনা-রূপার তৈরি ছোট ছোট মূর্তিও ব্যবহৃত হতো।
---
ইসলামের আগমন এবং মূর্তি ধ্বংসের বিপ্লব
রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয়ের পর কাবা শরীফে প্রবেশ করে সমস্ত মূর্তি ধ্বংস করেন।
তাওহিদের পতাকা আবার উড়ানো হয় কাবার বুকে।
শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত সেখানে শুরু হয়।
---
ইসলামী বার্তা:
আজ যে কাবা শরীফ আমরা দেখছি—তা রক্ত, চোখের জল ও ঈমান দিয়ে পুনঃপবিত্র করা হয়েছে।
কিন্তু ইতিহাস ভুলে গেলে আমরা আবার সে গ্লানির পথে ফিরতে পারি।
কাবা একদিন ছিল মূর্তিপূজার কেন্দ্র — এখন তা ঈমানের কেন্দ্র।
এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছিল কেবল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তাওহিদি আন্দোলনের মাধ্যমে।
---
Publisher: Al-Fatiha Foundation
Platform: Muslim World
Hashtags:
#MuslimWorld #মুসলিম_বিশ্ব #AlFatihaFoundation #KaabaHistory #তাওহিদের_ঘর #ইসলামের_বিজয়

Comments