তুরস্কের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ক্যাপাডোশিয়ার রুক্ষ ভূখণ্ডের নিচে লুকিয়ে আছে ডেরিনকুয়ু—একটি বিস্ময়কর ভূগর্ভস্থ নগরী, যা বাইজেন্টাইন আমলে, আনুমানিক ৭ম বা ৮ম শতাব্দীতে আগ্নেয় শিলার ভেতর খোদাই করে তৈরি করা হয়েছিল। ১৮ তলা গভীরে বিস্তৃত এই নগরী একসঙ্গে ২০,০০০-এরও বেশি মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষমতা রাখত। এটি শুধু একটি লুকানোর জায়গা ছিল না, বরং ছিল একটি সম্পূর্ণ কার্যকর শহর—যেখানে ছিল আঙ্গুরের রস নিষ্কাশন ব্যবস্থা, আস্তাবল, বিদ্যালয় ও উপাসনালয়।
এই নির্দিষ্ট কক্ষটি সম্ভবত ছিল একটি যৌথ ব্যবহারের ঘর বা খাদ্য সংরক্ষণের স্থান। দেয়ালে খোদাই করা খাঁজগুলি হয়তো তেল বাতি বা পাত্র রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো, আর মাটিতে ক্ষয়প্রাপ্ত অংশগুলো শত শত বছরের পদচিহ্নের সাক্ষী। গোলকধাঁধার মতো আঁকাবাঁকা গলি আর সংকীর্ণ পথগুলো তৈরি করা হয়েছিল প্রতিরক্ষার কৌশল হিসেবে—যাতে আক্রমণকারীদের পথ সীমাবদ্ধ করা যায় বা ফাঁদে ফেলা যায়। ভেতর থেকে গড়িয়ে দেওয়া যেত বিশাল পাথরের দরজা, যা পুরো শহরকে বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলত।
ডেরিনকুয়ু আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সেই সময়কে—যখন টিকে থাকার মানে ছিল অদৃশ্য হয়ে যাওয়া। যখন ধর্মীয় নিপীড়ন ও সংঘাতের ভয়ে পুরো সমাজ মাটির নিচে হারিয়ে গিয়েছিল। এটি মানুষের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও সহিষ্ণুতার এক নিঃশব্দ সাক্ষ্য—পাথরের নিচে চাপা পড়ে থাকলেও, কখনোই বিস্মৃত ন
য়।
মুহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহ আমিন

Comments