Skip to main content

 

হাজরে আসওয়াদ: জান্নাত থেকে আগত একটি কালো পাথর


কি এই পাথর? কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ মুসলিমদের কাছে?


হাজরে আসওয়াদ (الْحَجَرُ الْالْأَسْوَدُ) — অর্থাৎ “কালো পাথর” — এটি কাবা শরীফের পূর্বদিকের একটি কোণে স্থাপন করা আছে।

এটি কোনো সাধারণ পাথর নয়; বরং এটা জান্নাত থেকে আগত এক মহান নিদর্শন, যা নিজ হাতে কাবার গাঁথুনিতে বসিয়েছেন নবী ইব্রাহিম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ)।



---


হাদীস দ্বারা প্রমাণিত মহত্ত্বঃ


রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

“হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে আগত, এবং এটি প্রথমে ছিল সাদা—বরফের চেয়েও সাদা। কিন্তু মানুষের গুনাহ এটিকে কালো করে দিয়েছে।”

(জামে তিরমিযি, হাদীস: ৮৭৭)


আরও বলেন:

“হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইব্রাহিম কিয়ামতের দিনে আল্লাহর নির্দেশে মুখ ও চোখসহ হাজির হবে, এবং যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে এটি স্পর্শ বা চুম্বন করেছে, তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।”

(মুসনাদ আহমাদ, হাদীস: ২৭৯২)



---


কীভাবে হাজরে আসওয়াদ কাবায় স্থাপন হলো?


কাবা পুনঃনির্মাণের সময় কুরাইশরা এর আসন নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে।

তখন নবী মুহাম্মদ (সা.), যিনি তখনও নবুয়ত পাননি, এক চাদরে পাথর রেখে সকল গোত্রের প্রতিনিধি দিয়ে তা উত্তোলন করান এবং নিজ হাতে সেটিকে স্থাপন করেন।


এই ঘটনাই ছিল "আল-আমিন" নামে তাঁর গ্রহণযোগ্যতার এক উজ্জ্বল প্রমাণ।



---


তাওয়াফে হাজরে আসওয়াদ-এর ভূমিকা:


হাজরে আসওয়াদ হল তাওয়াফ শুরুর ও শেষ করার স্থান।


এটি স্পর্শ করা, চুমু দেয়া বা ইশারা করাকে সুন্নত হিসেবে গণ্য করা হয় (যদি সম্ভব হয়)।



রাসূল (সা.) নিজেও এই পাথরে চুমু দিতেন ও হাত বুলাতেন।



---


ইসলামী দৃষ্টিকোণ ও আক্বীদা:


হাজরে আসওয়াদ কোনো উপাস্য নয়।

আমরা এতে চুমু দিই, স্পর্শ করি কারণ নবী মুহাম্মদ (সা.) তা করেছেন—এটুকুই।


উমর (রা.) বলেছেন:

"আমি জানি, তুমি একটি পাথর, উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা তোমার নেই। যদি আমি রাসূল (সা.)-কে তোমায় চুমু দিতে না দেখতাম, আমি কখনও চুমু দিতাম না!"

(সহীহ বুখারী, হাদীস: ১৫৯৭)



---


বর্তমানে হাজরে আসওয়াদ:


পাথরটি এখন রূপালী ফ্রেমে ঘেরা অবস্থায় আছে।


এটি ৮টি খণ্ডে বিভক্ত, যা মূল এক পাথরের অংশ।


অতীতের বিভিন্ন হামলার সময় পাথরটি ভাঙে, কিন্তু ইসলামী হাকিমরা যত্নসহ পুনরায় সংরক্ষণ করেন।






---


Publisher: Al-Fatiha Foundation


Platform: Muslim World


Hashtags:

#MuslimWorld #মুসলিম_বিশ্ব #AlFatihaFoundation #HajrEAswad #হাজরে_আসওয়াদ #ইসলামের_পবিত্র_নিদর্শন





Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...