Skip to main content

হজ সম্পর্কিত মাসয়ালা।


হজ্ব: আত্মার শুদ্ধি ও এক মহাজাগরণের আহ্বান


পৃথিবীর বুক জুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মুসলমান—তারা সকলেই একটি ঘরের দিকে ফিরে দাঁড়ায় পাঁচবার করে প্রতিদিন। সেই ঘর, বাইতুল্লাহ্‌—মক্কায় অবস্থিত কা'বা। আর সেই ঘরকে কেন্দ্র করেই জীবনে অন্তত একবার ডাক আসে এক মহাযাত্রার—হজ্ব।


হজ্ব কী?


হজ্ব হল ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। এটি এমন এক ইবাদত যা আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার আদায় করা ফরজ (আবশ্যক) করা হয়েছে। এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে আদায় করতে হয়।


আল্লাহ বলেন:


> “সর্বপ্রকার মানুষের জন্য আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ ঘরের (কাবা) হজ্ব করা ফরজ, যে ব্যক্তি সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে।”

— (সূরা আলে ইমরান: ৯৭)





---


হজ্বের ইতিহাস


হজ্বের ইতিহাস নবী ইবরাহিম (আ.) এর সময়ে গিয়ে পৌঁছায়। তিনি তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে নিয়ে কা’বা ঘর নির্মাণ করেন। পরে সেই স্থানে নবী মুহাম্মদ (সা.) ইসলামের পূর্ণতা ঘোষণা করেন, এবং হজ্বের প্রকৃত রূপ ও নিয়ম প্রতিষ্ঠা করেন।



---


হজ্বে কী কী কাজ করতে হয়?


হজ্বের কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুকন (আবশ্যকীয় কাজ) রয়েছে:


1. ইহরাম: নির্দিষ্ট পোশাকে (সাদা দুই টুকরো কাপড়) নিজেকে ঢেকে নেওয়া ও নিয়ত করা।



2. তাওয়াফ: কা’বার চারপাশে সাতবার ঘোরাফেরা।



3. সাঈ: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্য দিয়ে সাতবার দৌড়/চলা।



4. আরাফার ময়দানে অবস্থান: ৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকা—হজ্বের মূল রুকন।



5. মুযদালিফায় রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহ।



6. শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ: মিনার জামারাতে শয়তান প্রতীকে কংকর নিক্ষেপ করা।



7. কুরবানি: পশু কোরবানি করা।



8. চুল কাটানো / মুন্ডানো এবং বিদায়ী তাওয়াফ।





---


হজ্ব আমাদের কী শেখায়?


ঐক্য: এখানে ধনী-গরীব, রাজা-ভিখারি এক সারিতে দাঁড়ায়—একটি পোশাক, একটি নিয়ম, একটি লক্ষ্য।


আত্মশুদ্ধি: হজ্ব মানে পেছনের সব পাপ ফেলে আসা, এক নতুন জীবনের শুরু।


ত্যাগ: চুল, নখ, সাজগোজ সব ছেড়ে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া।


তাওহীদ: কা'বার চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে হৃদয় বুঝে—এই জীবন কেবল এক রবের জন্যই।




---


হজ্বের পর বান্দার অবস্থান


রাসূল (সা.) বলেন:


> “যে ব্যক্তি হজ করে এবং অশ্লীলতা ও পাপকর্ম থেকে বেঁচে থাকে, সে সেই দিন জন্ম নেয়া নবজাতকের মতো পাপমুক্ত হয়ে ফিরে আসে।”

— (বুখারী, মুসলিম)





---


কে যেতে পারবে হজ্বে?


যাঁর শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য আছে।


মহিলাদের জন্য মাহরাম (পুরুষ অভিভাবক) থাকা আবশ্যক।


যারা সম্পূর্ণভাবে দেনা মুক্ত বা হজ্বের খরচ বাদ দিয়ে পরিবারকে নিরাপদ রাখতে সক্ষম।




---


হজ্ব: শুধু একটি সফর নয়, বরং আত্মার পুনর্জন্ম


এই সফর কেবল আরাফা, মিনা, কাবা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়—এ এক অন্তরের সফর। যেখানে অহংকার পুড়ে ছাই হয়, হৃদয় আল্লাহর কাছে বিনম্র হয় এবং আত্মা পায় চির শান্তি।



---


তুমি কি হজ্বে যাবার স্বপ্ন দেখো?

তবে সেই স্বপ্নকে দোয়া ও প্রস্তুতির মাধ্যমে বাস্তব করো—কারণ এটি জীবন বদলে দেওয়া সফর।

লেখক ঃ গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী 

প্রচ্ছদঃ মুহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহ আমিন 

---


📖 আরও জানুন ইসলামের অন্যান্য স্তম্ভ ও জীবনের দিকনির্দেশনা নিয়ে:

👉 https://muslimworld1m.blogspot.com





Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...