Skip to main content

শয়তানের ফাঁদ?


 শয়তানের ইতিহাস: এক পতিত সত্তার চিরন্তন প্রতিশোধ


ইবলিস—একটা নাম, একটাই পরিচয়, কিন্তু এর ইতিহাস আবৃত রহস্যে, আগুনে, অহংকারে, আর চিরন্তন প্রতিশোধে। আজ আমরা জানবো তার প্রকৃত ইতিহাস, তার উত্থান থেকে শুরু করে মানুষের চিরশত্রু হয়ে ওঠার পথে তার যাত্রা।


আলো থেকে আগুনে


ইবলিস ছিল জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু সে ছিল সৎকর্মশীল, আল্লাহর ইবাদতে রত, এতটাই উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছেছিল যে ফেরেশতাদের সঙ্গেও তার অবস্থান হয়ে গিয়েছিল কাতারে। বর্ণনায় আসে, সে ছিল পৃথিবীতে একমাত্র এমন সত্তা যার ইবাদত এমন স্তরে পৌঁছেছিল যে কেউ তার সমকক্ষ ছিল না।


সিজদার হুকুম ও অহংকারের বিদ্রোহ


আল্লাহ তা’আলা যখন আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করলেন, তখন সব ফেরেশতাদের আদেশ দিলেন তাকে সিজদা করার জন্য। সবাই সিজদা করলো—শুধু ইবলিস করলো না।

তার যুক্তি ছিল,


> “আমি আগুন দিয়ে সৃষ্টি, আর সে মাটি দিয়ে। আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সিজদা করবো না।”




এই এক মুহূর্তেই সব শেষ।

আল্লাহ বললেন,


> “নেমে যাও, তুমি অভিশপ্ত, আর কিয়ামত পর্যন্ত তোমার উপর আমার লানত।”




প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা


ইবলিস তখন প্রতিজ্ঞা করে বসলো,


> “আমি আদমের সন্তানদের সামনে-পেছনে, ডানে-বামে থেকে পথভ্রষ্ট করবো। তারা যেন তাওহীদ ও সরল পথ না পায়।”




এমনকি সে চ্যালেঞ্জ জানালো:


> “তুমি অনেককেই কৃতজ্ঞ পাবেন না।”




আল্লাহ তখন জানিয়ে দিলেন,


> “আমার প্রকৃত বান্দাদের উপর তোমার কোন আধিপত্য থাকবে না।”




ইবলিসের অস্ত্র ও কৌশল


ইবলিস নিজ হাতে অস্ত্র তোলে না। সে রক্ত ঝরায় না। তার প্রধান অস্ত্র হচ্ছে কুমন্ত্রণা (وسوسة), ধোঁকা (خدعة) ও তামান্না (লালসা)।


তাকে আল্লাহ যা অবকাশ দিয়েছেন, সে তা কাজে লাগায় কেয়ামত পর্যন্ত মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। সে চায় আমরা অবাধ্য হই, পাপ করি, গোমরাহ হই—তার সাথী হই।



---


তবে কি আমরা পরাজিত?


না, একেবারেই না।

আল্লাহ আমাদের প্রতিরক্ষা দিয়েছেন:


ইখলাস (তাওহীদ)


ইস্তেগফার


ইলম


কুরআন তিলাওয়াত


নিয়মিত নামাজ



এইসব আমাদের ঢাল। আমাদের ভিতরে যদি ঈমান থাকে, আল্লাহর ভয় থাকে, তাহলে ইবলিস কখনো আমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না।



---


আরও জানুন এই অদ্ভুত ইতিহাস ও বিশ্লেষণ


ঘুরে আসুন এখানে...





---


লেখা পছন্দ হলে শেয়ার করুন, যেন আরও ভাই-বোন এই জ্ঞানের আলো পায়।

আর যদি এমন আরও আকর্ষণীয়, বিশ্লেষণভিত্তিক ইসলামিক বিষয় পড়তে চান, আমাদের ওয়েবসাইট Muslim World-এ নিয়মিত ভিজিট করুন।




Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...