Skip to main content

১৪৬০ সাল এর দৃশ্য

 👇


পবিত্র কাবা শরীফের ১৪৬০ সালের চেহারা ও স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে, আমাদের ইতিহাসের পাতায় ফিরে যেতে হবে। যদিও সেই সময়ের সরাসরি চিত্র বা আলোকচিত্র পাওয়া যায় না, তবে ঐতিহাসিক দলিল ও বিবরণ থেকে আমরা একটি সুস্পষ্ট ধারণা পেতে পারি। 



🕋 কাবা শরীফ ১৪৬০ সালে: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট


১৪৬০ সালটি ইসলামী হিজরি বর্ষপঞ্জিতে ৮৬৪ হিজরি সনের অন্তর্ভুক্ত। এই সময়ে কাবা শরীফ ও মসজিদুল হারাম ছিল মক্কার কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে মুসলিম উম্মাহ হজ ও উমরাহ পালন করতেন। 



---


🏛 স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য


📐 কাঠামো ও নির্মাণ


আকৃতি ও আকার: কাবা একটি ঘনক আকৃতির (কিউব) কাঠামো, যার উচ্চতা প্রায় ১৫ মিটার, দৈর্ঘ্য ১২ মিটার এবং প্রস্থ ১০ মিটার।  


নির্মাণ সামগ্রী: কাবা নির্মিত হয়েছে ধূসর পাথর ও মার্বেল দিয়ে। 


প্রবেশদ্বার: উত্তর-পূর্ব কোণে একটি দরজা রয়েছে, যা মাটির থেকে প্রায় ২.৩ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। 


অভ্যন্তরীণ কাঠামো: ভিতরে তিনটি কাঠের স্তম্ভ রয়েছে যা ছাদকে সমর্থন করে, এবং সোনার ও রূপার ঝাড়বাতি ঝুলানো থাকে। 



🧵 কিসওয়া (Kiswah)


কাবা শরীফের বাইরের অংশ একটি বিশাল কালো কাপড় দ্বারা আবৃত থাকে, যাকে কিসওয়া বলা হয়। এই কাপড়ে সোনার সুতা দিয়ে কুরআনের আয়াত লেখা থাকে। প্রতি বছর এটি পরিবর্তন করা হয়।  



---


🕰 ঐতিহাসিক বিবর্তন


কাবা শরীফের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার হয়েছে। যেমন, ১৬২৯ সালে সুলতান মুরাদ চতুর্থ কাবা শরীফের সংস্কার করেন। তবে ১৪৬০ সালের নির্দিষ্ট সংস্কার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না।  



---


🌐 ইসলামিক গুরুত্ব


কাবা শরীফ মুসলিমদের জন্য কিবলা, অর্থাৎ নামাজের সময় মুখ করার দিক। এটি হজ ও উমরাহর কেন্দ্রস্থল, যেখানে মুসলিমরা তাওয়াফ (কাবার চারপাশে সাতবার ঘোরা) করেন। কাবা শরীফের এই গুরুত্ব ইসলামী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত। 



---


📸 ঐতিহাসিক চিত্র


যদিও ১৪৬০ সালের সরাসরি চিত্র পাওয়া যায় না, তবে পরবর্তী সময়ের কিছু চিত্র ও বর্ণনা থেকে আমরা কাবা শরীফের ঐতিহাসিক রূপ সম্পর্কে ধারণা পেতে পারি। 



---


📚 তথ্যসূত্র


Britannica: Kaaba


Learn Religions: The Architecture and History of the Kaaba


Wikipedia: Kaaba




মুহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহ আমিন 


Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...