Skip to main content

স্বপ্নে দেখা দরজা _ জ্বীন: পর্ব ৩


 


🕯️ জ্বীন: পর্ব ৩ — স্বপ্নে দেখা দরজা

✍️ লেখক: মুহিব্বুল্লাহ আমিন গাজী

ফাইয়াজের মধ্যে একটা অদ্ভুত পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।
মসজিদ আর বন্ধ ঘরের পর সে যখন কুরআন তিলাওয়াত করে, মনে হয় কিছু একটা তার চারপাশে ছায়ার মতো ঘুরছে।
তবে ভয় নয়—একটা দায়িত্ববোধ জন্ম নিয়েছে তার হৃদয়ে।


🌙 এক রাতে সে স্বপ্ন দেখল—
একটা লম্বা করিডোর, অস্পষ্ট আলো।
দেয়ালে আরবিতে লেখা:
"إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا"
(নিশ্চয়ই শয়তানের ষড়যন্ত্র দুর্বল।)

করিডোরের শেষ মাথায় একটা দরজা,
আর সেই দরজার ওপারে শোনা যাচ্ছে কান্নার শব্দ।
একটা শিশুর মত, কিন্তু কণ্ঠে যেন অচেনা আর্তি...


⏰ ঘুম থেকে উঠে ফাইয়াজ বুঝল, এটা স্রেফ স্বপ্ন না—একটা ইশারা

সে গিয়ে স্থানীয় এক বুড়ো হাফেজ সাহেবের সাথে দেখা করল।
হাফেজ সাহেব বললেন,
"তুই যে আয়াতটা স্বপ্নে দেখেছিস, সেটা শুধু মুখস্ত থাকলেই হবে না—জীবনের মধ্যে আনতে হবে।
তুই এখন শুধু পাঠক না, এক ধরনের দায়িত্বপ্রাপ্ত।"



🕋 ফাইয়াজ এবার সেই এলাকায় গেল যেখানে একসময় বহু আগে একটি মাদ্রাসা ছিল—
কিন্তু লোকজন বলত, সেখানে নাকি রাতে চিৎকার শোনা যায়।
গিয়ে দেখে—দরজাটা ঠিক স্বপ্নের মতোই!

সে দরজায় হাত রাখতেই এক ঝলক ঠান্ডা হাওয়া…



🧎 সে সিজদায় পড়ে গেল, বলল:
"হে আল্লাহ, আমি কিছুই না, তুমিই আমার রক্ষাকর্তা।
যদি এটা জ্বীনদের কোন ধোঁকা হয়, তুমি আমাকে রক্ষা করো।
আর যদি কেউ হিদায়াত চায়, তুমি পথ দেখিয়ে দাও।"



📿 তখন দরজার ভিতর থেকে একটা আওয়াজ এল:
"তুমি কুরআন শিখিয়ে দেবে? আমরাও শুনতে চাই…"



🌓 ফাইয়াজ বুঝে গেল—সব ভয় পেছনে ফেলে এখন তার সামনে এক নতুন দ্বায়িত্ব।
কুরআনের আলো শুধু মানুষের জন্য নয়, অদৃশ্য জগতের জন্যও।



📖 শিক্ষা:

▪️ স্বপ্ন সবসময় হাওয়ায় ভেসে আসা গল্প না, অনেক সময় ইশারা হয়
▪️ কুরআনের শিক্ষা এমন এক আলো, যা জ্বীনদের মাঝেও আলো ছড়াতে পারে
▪️ ইমানের সাহস থাকলে, অদৃশ্য জগতও শুনতে চায় আল্লাহর কথা


Publisher: Al-Fatiha Foundation
Platform: Muslim World


সিরিজ: জ্বীন
✍️ লেখক: মুহিব্বুল্লাহ আমিন গাজী


🔔 পর্ব ৪  — যেখানে ফাইয়াজ জড়িয়ে পড়বে এক হারিয়ে যাওয়া সুরার রহস্যে…

Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...