Skip to main content

জ্বিন| পর্ব ২





🕯️  ফাইয়াজ ও বন্ধ ঘর

সেই রাতের ঘটনার পর ফাইয়াজ বুঝেছিল, মসজিদের তালগাছটা শুধু গুজব না—কিছু একটা ছিল।
কিন্তু তার ইমান আরও দৃঢ় হয়ে উঠেছিল।
সে ঠিক করল, এই এলাকায় যত অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে, সব জানবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে মোকাবিলা করবে।


📜 ঘটনার শুরু:
গ্রামের পুরনো প্রাথমিক স্কুলের পাশে একটি ছোট পরিত্যক্ত ঘর।
লোকজন বলে, ওই ঘরটার ভেতর কেউ ঢুকলে কিছুক্ষণ পর গলার আওয়াজ ভেসে আসে।
কেউ কেউ বলেছে, রাতে ওইখানে আলো জ্বলে আবার নিভে যায়…

📖 ফাইয়াজ কুরআন হাতে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিল:
"আমি যাবো, কারণ আল্লাহ যদি আমার সাথে থাকেন—তাহলে কারও সাহস নেই আমাকে স্পর্শ করার।"


🌒 রাতে সে আবার বের হলো।
বন্ধ ঘরের সামনে গিয়ে সে বলল:
"বিসমিল্লাহ" — আর দরজাটা খুলে দিল।

ঘরের ভেতর অন্ধকার, ধুলোর গন্ধ।
একটা কোণায় কাঠের পুরনো খাট।
খাটের নিচে যেন কেউ ফিসফিস করল…
"তুই কে...?"


📿 ফাইয়াজ ভয় না পেয়ে সোজা দাঁড়িয়ে পড়ল নামাজে।
প্রথম রাকাতেই বাতাস বন্ধ হয়ে গেল, যেন কিছু থেমে আছে।

দ্বিতীয় রাকাতে সে পড়ল:
"قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ"
"قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ"

নামাজ শেষে বলল:
"হে জ্বিন, যদি তুমি পথভ্রষ্ট হও, আল্লাহর দিকে ফিরে এসো।
এই ঘর শুধু মানুষের না, নামাজের আলো সবার জন্য।"


🌓 কিছুক্ষণ পর, হঠাৎ ঘরের এক কোণায় থাকা পুরনো আয়নাটা পড়ল নিচে।

ফাইয়াজ এগিয়ে গেল। আয়নার পেছনে লেখা:
"তোমার কণ্ঠস্বর আমাদের ঘুম ভাঙালো…"


🌿 পরদিন সকালে লোকজন দেখল, ঘরের চারপাশে সুরা লেখা কাগজ উড়ে বেড়াচ্ছে।
আর সেই রাত থেকেই আর কোনো শব্দ আসেনি।


📖 শিক্ষা:

▪️ যে কুরআন পড়ে, তার ভয় শয়তানের জন্য হয়
▪️ জ্বিনদেরও কুরআনের ডাক পৌঁছায়
▪️ মানুষ ও জ্বিন উভয়েই ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে (সূরা যারিয়াত ৫৬)


Publisher: Al-Fatiha Foundation
Platform: Muslim World


সিরিজ: জ্বিন

লেখক মুহিবুল্লাহ আমিন গাজী


🔔  পর্ব ৩  এবার ফাইয়াজ কি মুখোমুখি হবে কোনো এক অদ্ভুত "স্বপ্নের ইশারা"-এর?

Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...