ড্রাকুলা নামটি হয়তো আপনারা শুনে থাকবেন। এই নামটি পরিচিতি লাভ করেছে একটি ফিকশনাল ক্যারেক্টার তথা কাল্পনিক চরিত্র হিসেবে। ১৮৯৭ সালে আইরিশ লেখক ব্রাম স্ট্রোকার ‘ড্রাকুলা’ নামে একটি উপন্যাস প্রকাশ করেন। উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের নাম ছিল কাউন্ট ড্রাকুলা। যে ছিল ভ্যাম্পায়ার অর্থাৎ রক্তচোষা। সেই থেকে এই ড্রাকুলা ক্যারেক্টার নিয়ে অনেক উপন্যাস, কমিক এবং ভৌতিক চলচ্চিত্র, ওয়েব সিরিজ ইত্যাদি নির্মিত হয়েছে। এভাবেই ড্রাকুলা চরিত্রটি পরিচিতি লাভ করেছে একটি ফিকশনাল ক্যারেক্টার, রূপকথার চরিত্র হিসেবে। তবে এর মাধ্যমে আড়াল হয়ে গেছে সত্যিকারের ড্রাকুলা চরিত্র। হ্যাঁ, ড্রাকুলা নামে সত্যিকারেই একজন ছিল। খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীতে সে ছিল বর্তমান রোমানিয়ার শাসক। রোমানীয়রা তাকে নিজেদের ন্যাশনাল হিরো তথা জাতীয় বীর হিসেবে অভিহিত করে। তবে পক্ষান্তরে সে ছিল একজন ঘৃণ্য অপরাধী এবং অত্যাচারী শাসক। নির্দয়ভাবে সে হত্যা করেছিল প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে।
তার মূল নাম ভ্লাড তৃতীয়। লোকদেরকে সে নির্দয়ভাবে শূলীতে চড়িয়ে হত্যা করত। তাই ভ্লাড দি ইম্পেলার নামে সে কুখ্যাত হয়ে উঠে। ১৪৫৫-১৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সবমিলিয়ে সে সাত বছর রোমানিয়ার ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু যত মানুষের প্রাণ সে বধ করেছে সেই তুলনায় সাত বছরকে নিতান্তই কম মনে হয়। উসমানী সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় তাকে উসমানী সাম্রাজ্য বিরোধী ইউরোপীয় ড্রাগন স্কোয়াডের পক্ষ থেকে ‘ড্রাকুল’ উপাধি প্রদান করা হয়। ল্যাটিন ভাষায় ড্রাকুলা শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘সন অব ড্রাগন’ তথা ড্রাগনের সন্তান। আর আধুনিক রোমানীয় ভাষায় ড্রাকুলা অর্থ হচ্ছে ‘সন অব এভিল’ তথা শয়তানের সন্তান।
১৪৩১ সালের শীতমৌসুমে বর্তমান রোমানিয়ার সিগিসোয়ারায় জন্ম হয় ড্রাকুলা তথা ভ্লাড তৃতীয়ের। তার বেড়ে উঠা ছিল পূর্ব ইউরোপের ইতিহাসের সংকটপূর্ণ এক সময়ে। ১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ রহিমাহুল্লাহু কর্তৃক কনস্টান্টিনোপল বিজিত হওয়ার পর উসমানী বাহিনীর সামনে পুরো বলকান অঞ্চল উন্মুক্ত ময়দানের ন্যায় উন্মোচিত হয়ে যায়। রোমানিয়া অঞ্চল আগে থেকেই ছিল উসমানী এবং হাঙ্গেরীয় বাহিনীর সংঘর্ষের ক্ষেত্রে। উভয় শক্তিই রোমানিয়ার ছোট্ট সাম্রাজ্যের অস্তিত্বের জন্য ছিল ক্ষতিকর।
এদিকে রোমানিয়ার ক্ষমতায় শাসক এবং অস্থির অবস্থার ফায়েদা লুটতে ইচ্ছুক সভাসদদের মধ্যে চলতে থাকে মনোমালিন্য। এমন উত্তাল সময়ে রোমানীয়ার ক্ষমতায় ছিল ড্রাকুলার পিতা ভ্লাড দ্বিতীয়। ১৪৪২ সালে বিরোধী শক্তি এবং তৎকালীন হাঙ্গেরী রাজা তৃতীয় ভ্লাদিসাভের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে অপসৃত করা হয়। ১৪৪৩ সালে উসমানী সুলতান দ্বিতীয় মুরাদের সাথে জিজিয়া প্রদানে সম্মত হওয়ার পর উসমানী বাহিনীর সাহায্যে সে রোমানীয়ার ক্ষমতা পুনরায় দখল করে।
১৪৪৩ সালে রোমানিয়ার ক্ষমতা পুনরায় দখল করার পর ভ্লাড দ্বিতীয় আনুগত্যের নিদর্শন স্বরূপ তার দুই বৈধ পুত্র ভ্লাড তৃতীয় এবং রাডোকে উসমানী সুলতানের কার্যালয়ে বন্ধক স্বরূপ প্রেরণ করে। ভ্লাড দ্বিতীয়ের মৃত্যুর পর ভ্লাড তৃতীয় ফিরে যায় উসমানীদের সাহায্যে তাঁর পিতার স্থান দখলের জন্য। এদিকে তার সহোদর ভাই রাডো অভ্যস্ত হয়ে যায় তুর্কি জীবনধারার সাথে। ইসলাম গ্রহণ করে সে যোগ দেয় উসমানী বাহিনীর সৈনিক হিসেবে।
আদ্রিয়ানোপলে অবস্থানের সময়ে ভ্লাড তৃতীয় মানতেক, কুরআন এবং সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করে। এ কয়য় বছরে সে পুরোপুরি রপ্ত করে ফেলে উসমানীয় তুর্কি ভাষা। এমনিভাবে সে পারদর্শী হয়ে উঠে অশ্বারোহন এবং সমর বিদ্যায়। তবে বেপরোয়া স্বভাবের কারণে প্রায়ই তাকে উসমানীদের শাসনের মুখে পড়তে হতো।
তবে ভ্লাড তৃতীয়ের ক্ষমতা বেশি দিন স্থায়ীত্ব লাভ করার আগেই রোমানীয় বুয়ার নামক উচ্চশ্রেণীর লোকেরা এবং হাঙ্গেরির ক্ষমতার উত্তরসূরি জন হুনইয়াডি মিলে যুদ্ধ করে ভ্লাড তৃতীয়কে অপসৃত করে। এবার ভ্লাড তৃতীয় উসমানী বাহিনীর কাছে পুনরায় সাহায্য প্রার্থনায় আগ্রহী হয়নি। বিশেষত সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহের ক্ষমতা লাভের পর তার এই অনাগ্রহ বেড়ে যায়। তারা দুজনেই উসমানী পরিবেশে বেড়ে উঠেছিল। তখন থেকেই তাদের মধ্যে বনিবনা ছিল না। ফলে ভ্লাড দি ইম্পেলার মোলদাভিয়ায় পালিয়ে যায় এবং ১৪৫১ খ্রিষ্টাব্দে চাচার আশ্রয়ে সেখানেই অবস্থান করে। ১৪৫১ খ্রিষ্টাব্দে চাচার মৃত্যুর পর ভ্লাড পুনরায় হাঙ্গেরির উদ্দেশ্যে পলায়ন করে। সেখানে জন হুনইয়াডির সাথে তার সাক্ষাৎ হয়ে যায়। তবে জন হুনইয়াডি ভ্লাড তৃতীয়ের উসমানি সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীন অবস্থা এবং উসমানীদের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ পরিকল্পনার কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে যায়। এর পাশাপাশি উসমানি সাম্রাজ্যের প্রতি ভ্লাড তৃতীয়ের ব্যক্তিগত আক্রোশ তো ছিলই। এ দেখে জন হুনইয়াডি ভ্লাড তৃতীয়কে সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচিত করে।
এভাবেই ভ্লাড তৃতীয় হাঙ্গেরীতে অবস্থান করতে থাকে। এরই মধ্যে ১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে মে সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহর হাতে বিজিত হয় দুর্ভেদ্য কনস্টান্টিনোপল। এ বিজয়ের পর সে অঞ্চলে উসমানী সাম্রাজ্যের শক্তি এবং মিত্র আধিক্য লাভ করতে থাকে। যা কেড়ে নেয়ে তৎকালীন ইউরোপীয় লিডারদের প্রশান্তি।
কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের তিন বছর পর হাঙ্গেরী সাম্রাজ্যকে দুর্বল করার লক্ষ্যে উসমানী বাহিনী অবরোধ করে সার্বিয়ার বেলগ্রেড শহরকে। অবস্থাদৃষ্টে জন হুনইয়াডি হাঙ্গেরী ছেড়ে সার্বিয়া অভিযানে যেতে বাধ্য হয় এবং উসমানী বাহিনীর অবরোধ হটিয়ে দিতে সফলতা লাভ করে। তবে এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ভ্লাড তৃতীয় রোমানিয়ায় ফিরে গিয়ে পুনরায় ক্ষমতা দখল করে নিতে সক্ষম হয়ে যায়।
সর্বসাকুল্যে তার শাসন ক্ষমতা সাত বছরও স্থায়ী হয়নি। তবে এই ক বছরে সে যত মানুষ হত্যা করেছে সেই তুলনায় এই সময়কে নিতান্তই অল্প মনে হয়। প্রায় এক লক্ষাধিক মানুষকে সে হত্যা করে। যাদের অধিকাংশই ছিল তুর্কি এবং রোমানীয়ার বুয়ার শ্রেণীয়। এ সময়েই তার নাম দেয়া ভ্লাড দি ইম্পেলার। কারণ, সে বিরোধীকে হত্যা করতে শূলীর ব্যবহার করত।
সূত্রসমূহ থেকে জানা যায়, সে এক পাদ্রীকে তার গাধাসহ শূলীতে চড়িয়েছিল। শূলীতে চড়িয়েছিল রোমানীয়ার প্রাচীন রাজবংশের সাথে সম্বন্ধযুক্ত পাঁচশত লোককে। ছয়শ বিদেশী ব্যবসায়ীকে শূলীতে চড়ানোর সময় সে আয়েশ করে দেখেছিল। এর বিচারপ্রার্থী চারশ লোককে সে নিক্ষেপ করেছে অগ্নিকুণ্ডে। শিশুদেরকে সে বাধ্য করত মৃত মায়েদের গোশত ভক্ষণে। অনেক মায়ের স্তন কেটে সেখানে বেঁধে দিয়েছিল স্বীয় সন্তানের কর্তিত মাথা। রাজ্যের সকল ভিক্ষুকদেরকে একত্র করে সে তাদের জন্য খাবারের আয়োজন করেছিল। অতঃপর সবাইকেই জ্বালিয়ে দিয়েছিল আগুন দিয়ে। তুর্কি বন্দীদের পা থেকে চামড়া সরিয়ে সেগুলোতে লবন মাখিয়ে সে ছাগল দিয়ে চাটাত।
এমন আরও অনেক ঘৃণ্য অপরাধের হোতা ছিল সে। বিশ থেকে ত্রিশহাজার লোককে সে হত্যা করেছে শুধু নিজের বিনোদনের জন্য। এজন্যই সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহের সমসাময়িক ইতিহাসবিদ দুরসুন বেক তাকে ‘কাফিরদের হাজ্জাজ’ আখ্যা দিয়েছেন।
সে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য বুয়ারদের আবাসস্থল ব্রাসোভ শহরে হামলা করে। ১৪৫৯ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই জানুয়ারী সেইন্ট বারথলোমো উৎসব উপলক্ষ্যে সমবেত হওয়ার দিন সকালে সে ব্রাসোভ শহরের ত্রিশ হাজার ব্যবসায়ীকে শূলীতে চড়িয়ে হত্যা করে। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে রোমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং বিশৃঙ্খলার অভিযোগ আরোপ করা হয়। এরপর সে বিশ্রাম নেয় এবং শূলীতে বিদ্ধ লাশের স্তুপের মাঝে বসেই খাবার গ্রহণ করে। লাশগুলোকে সে এভাবেই রেখে দেয় যারা আনুগত্যে ইচ্ছুক নয় তাদের সতর্কবার্তা হিসেবে। এমনিভাবে ১৪৬০ খ্রিষ্টাব্দে সে ট্রান্সিলভেনিয়া অঞ্চলের সিবিউ শহরের হামলা করে হত্যা করে সেখানকার দশ হাজার লোককে।
১৪৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ ড্রাকুলার পক্ষ থেকে বিলম্বিত জিজিয়া আদায়ের জন্য তার কাছে চিঠি প্রেরণ করেন। যার পরিমাণ ছিল প্রায় দশহাজার দুকা। এর পাশাপাশি রোমানিয়ার পাঁচশ সৈনিককে প্রেরণ করার নির্দেশ দেয়া হয় উসমানি সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির জন্য।
কিন্তু ভ্লাড উসমানী সুলতানের সেই প্রস্তাবনা প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি সে উসমানীয় প্রতিনিধিদলের লোকদের সম্মান প্রদর্শন তো দূরের কথা, বরং তাদের মাথায় লোহার স্ক্রু গেঁথে দেয়ার নির্দেশ দেয়।
১৪৬০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই সেপ্টেম্বর সে ট্রান্সিলভেনিয়া অঞ্চলের উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠিয়ে সুলতান ফাতিহের আক্রমণ থেকে সতর্ক করে এবং উসমানী সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করার আহ্বান জানায়। ট্রান্সিলভেনিয়ায় সৈন্য একত্রকরণ শুরু হয়ে যায় এবং দানিয়ুব নদী অতিক্রম করে প্রশিক্ষণের জন্য তাদেরকে ভ্লাডের কাছে পাঠিয়ে দিতে থাকে। তখনও ভ্লাডের কাছে এই পরিমাণ শক্তি ছিল না, যা দিয়ে সে উসমানী বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে পারে। তাই সে ট্রান্সিলভেনিয়া অঞ্চলের কাছে সাহায্য কামনা করে। এভাবে ১৪৬১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ভ্লাড তৃতীয় এবং উসমানী বাহিনীর মধ্যে ছোট ছোট সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ সময়ে সে বেশ কিছু তুর্কিকে বন্দী করে এবং শূলীতে চড়িয়ে হত্যা করে ফেল।
এবার সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ ড্রাকুলাকে হত্যা এবং প্রতিশোধ গ্রহণের লক্ষ্যে হামজা পাশার নেতৃত্বে উসমানী বাহিনী প্রেরণ করেন। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে তারা ড্রাকুলার হাতে পরাজিত হন। তাদেরকে চড়ানো হয় শূলীতে। সবচেয়ে দীর্ঘ শূলীটি ছিল সেনাপতি হামজা পাশার জন্য। প্রায় পঁচিশ হাজার মুসলিম সৈন্যের রক্তে রঞ্জিত হয় সেদিন ভ্লাড দি ইম্পেলারের শূলী।
এরপর সুলতান ফাতিহ নিজের নেতৃত্বেই প্রস্তুত করেন এক দুঃসাহসী সেনাবাহিনী। ড্রাকুলাকে হত্যা করে রোমানিয়া দখলের জন্য। কিন্তু এই সামরিক অভিযান কোনো পরিণতি লাভ করতে পারেনি। ড্রাকুলা উসমানীয় বাহিনীর রণকৌশল সম্পর্কে ছিল সম্যক অবগত। তাই সে সরাসরি সম্মুখ লড়াইয়ে না গিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংঘর্ষের আশ্রয় নেয়। বিশেষ করে কাপুরুষের মতো রাতের বেলায় অতর্কিতে হামলার প্রতি সে খুবই গুরুত্ব দিয়েছিল। এই হামলার ফলে উসমানীদের মনোবল দুর্বল হয়ে পড়ে। তাদেরকে আরও দুর্বল করে দেয় তাদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকা এক ভয়ানক দৃশ্য। যেখানে টারাগোভিস্ট শহরের প্রাচীর ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে শূলীর আস্ত এক বন। যেগুলোর তীক্ষ্ণ মাথায় গেঁথে আছে প্রায় বিশহাজার মানুষের লাশ। যাদের অধিকাংশই তুর্কি মুসলিম।
অবশেষে সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহের সাহায্যে ড্রাকুলার সহোদর ভাই রাডো ড্রাকুলাকে পরাজিত করে এবং নিজেকে রোমানিয়ার ক্ষমতাধর হিসেবে অধিষ্ঠিত করে। এ সময় ড্রাকুলার আশ্রয় হয় হাঙ্গেরির কারাগারে।
১৪৭৫ খ্রিষ্টাব্দে রাডোর আচমকা মৃত্যু হয়ে গেলে ১৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে নভেম্বর ড্রাকুলা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণ করে। হাঙ্গেরির ম্যাথিয়াস করভিনোসের সমর্থনে সে নিজের অনুগত লোকদেরকে দিয়ে সেনাপ্রস্তুতি শুরু করে দেয় আসন্ন যুদ্ধের লক্ষ্যে। তবে তাঁর এই শেষ রাজত্বের বয়স ছিল অল্প কদিন মাত্র। দু মাসও স্থায়ী হয়নি। এর মধ্যেই বুখারেস্টের নিকটে উসমানী বাহিনীর সাথে যুদ্ধে তার জীবনলীলা সাঙ্গ হয়।
তার মাথাকে দেহ থেকে আলাদা করে উসমানী সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহের কাছে প্রেরণ করা হয়। তিনি একটি কাঠের শূলীর অগ্রভাগে ড্রাকুলার মাথাকে বিদ্ধ করে পুরো রাজধানীবাসীর সামনে উপস্থাপন করেন। তার দেহের বাকি অংশকে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই কোমানায় দাফন করা হয়। ১৪৬১ সালে সেখানে ড্রাকুলা যে প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল তার অভ্যন্তরে। এই প্রাসাদ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর ১৫৮৯ খ্রিষ্টাব্দে তা পুনরায় নির্মাণ করা হয়।
সুত্রঃ তারিখুদ দাওলাতিল উলইয়াতিল উসমানিয়্যাহ, আল ফাতিহা ফাউন্ডেশন

Comments