ইয়াজুজ-মাজুজ ও গোক-তুর্কিক, খাজার, হানস-মঙ্গল-তাতারদের এবং আধুনিক সেকুলার শাসনব্যবস্থার সম্পর্ক: বিশ্লেষণ


 ইয়াজুজ-মাজুজ ও গোক-তুর্কিক, খাজার, হানস-মঙ্গল-তাতারদের এবং আধুনিক সেকুলার শাসনব্যবস্থার সম্পর্ক:  বিশ্লেষণ


(গবেষণা মুলক আলোচনা শুধু মাত্র যারা এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা গবেষণা ও আলোচনা করতে আগ্রহী তাদের জন্য।) 

-----

সকল প্রশংসা একমাত্র রব আল্লাহর নামে শুরু করছি।

-----


১. ইয়াজুজ-মাজুজ (গোগ ও মাগোগ) ও ককেকাশ পর্বতমালার উত্তর পশ্চিম অঞ্চল ও খোরাসান এর প্রেক্ষাপট


ইসলামী প্রামাণ্য সূত্রে ইয়াজুজ-মাজুজকে একদল বর্ণিত করা হয়েছে যারা মানব জাতি এবং পৃথিবীতে ব্যাপক ফিতনা ও ধ্বংসের কারণ হবে।


ঐতিহাসিক ও আধুনিক অনেক গবেষক এই জাতিগুলোর অবস্থান ও পরিচয় ককেকাস এর উত্তর পশ্চিম ও খোরাসান অঞ্চল ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় দেখতে পান।


প্রাণীন খোরাসান মূলত ইরান, আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান ও পাকিস্তানের এক বিস্তৃত অঞ্চল, যা ইতিহাসে নানা নৃগোষ্ঠীর অভয়ারণ্য ছিল। আর ককেকাস অঞ্চল মুলত আর্মেনিয়া আজারবাইজান অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী রাশিয়া,ইউক্রেন, চীন ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল।


---

২. গোক-তুর্কিক ও খাজার জাতির উদ্ভব ও ইতিহাস


খাজার সাম্রাজ্য (৭ম-১০ম শতাব্দী)


খাজাররা মূলত তুর্কি ভাষাভাষী ছিলেন এবং কৃষ্ণ সাগর থেকে কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল।


তারা ইসলাম গ্রহণের আগে ইহুদীবাদ গ্রহণ করেছিল বলে ঐতিহাসিক সূত্রে দেখা যায়।


খাজার সাম্রাজ্য ছিল তাদের সময়ের এক প্রভাবশালী শক্তি, যারা বিভিন্ন গোত্রের মঙ্গোল ও তুর্কি জাতির মিলনস্থল ছিল।


খাজারদের ব্যাপক প্রভাবের কারণে তাদের প্রভাব আজও ইউরোপ ও এশিয়ার নৃগোষ্ঠী ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্পষ্ট।


গোক-তুর্কিক (Göktürks)


গোক-তুর্কিকরা প্রাচীন তুর্কি নৃগোষ্ঠী যারা ৬ষ্ঠ শতকে মধ্য এশিয়ায় শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।


তাদের রাজধানী ও মূল এলাকা ছিল বর্তমান মঙ্গোলিয়া ও চীনের উত্তরাংশ।


তাদের সাম্রাজ্যের পতনের পর অনেক গোক-তুর্কিকরা বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, যাদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে খাজার ও অন্যান্য তুর্কি জাতির অংশ হয়ে যায়। 


---


৩. হানস, মঙ্গল ও তাতারদের ইতিহাস


হানস: চীনের উত্তরপূর্বাঞ্চলের একটি জাতি, যারা মূলত মঙ্গোলিয়ার সমীপবর্তী ছিল।প্রাচীন গোক তার্কিক থেকে আগত জাতীর আরেকটি অংশ।


মঙ্গল জাতি: চেঙ্গিস খানের নেতৃত্বে তাদের সাম্রাজ্য মধ্যযুগে বিশাল বিস্তার লাভ করে।


তাতার: সাধারণত মঙ্গোল ও তুর্কি জাতির মিশ্রণ যা পূর্ব ইউরোপ ও এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে।


তারা যুদ্ধ ও সাম্রাজ্য বিস্তারে অত্যন্ত নির্মম ছিল এবং তাদের ধ্বংসাত্মক অভিযান বিশ্ব ইতিহাসে দাগ রেখে গেছে।


---


৪. আধুনিক সেকুলার গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পটভূমি ও তুলনা


সেকুলার গণতন্ত্র: ধর্ম থেকে আলাদা করা শাসনব্যবস্থা যেখানে ধর্মীয় বিধিনিষেধ ও প্রভাব নেই। এক প্রকার নাস্তিকতার ধারণা থেকে উদ্ভব একটা বিশ্বাস যার সাথে ধর্মের সম্পর্ক নেই।


সেকুলার সমাজতন্ত্র: ধর্মনিরপেক্ষ সমাজব্যবস্থা যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে।


---


৫. ঐতিহাসিক জাতি ও আধুনিক শাসনব্যবস্থার সম্পর্ক (তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ)


৫.১. ঐতিহাসিক বংশ ও আধুনিক নীতির মিল


গোক-তুর্কিক, খাজার ও মঙ্গোল জাতির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য ও সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব আধুনিক শাসনব্যবস্থায় সাম্রাজ্যবাদ ও রাজনৈতিক আধিপত্যবাদীর রূপে পুনরায় উদ্ভূত হয়েছে।


অনেক সমসাময়িক গবেষক দেখিয়েছেন যে, এই জাতিগুলোর নিপীড়নমূলক শাসন ও দমন-পীড়নের কৌশল আধুনিক সেকুলার শাসনব্যবস্থার কিছু দিকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।


উদাহরণস্বরূপ, ধর্মের পরিবর্তে সেকুলার ও জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য যুদ্ধের প্রবণতা।


৫.২. সেকুলার গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে 'দাজ্জালের দুই শিং' দেখা হবে কেন?


ইসলামী চিন্তাবিদরা মনে করেন, দাজ্জাল একটি বৃহৎ ধোঁকাবাজ এবং তার অনুসারী দুই শিং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতবাদ যেমন সেকুলার গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র।


তারা যুক্তি দেন যে, এই দুই রাজনৈতিক ধারনাই ধর্মীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ঘটায় এবং মানুষের আধ্যাত্মিকতা ও নৈতিকতা বিনষ্ট করে। এই দুই রাজনৈতিক আদর্শ ধর্মের সাথে সম্পর্কহীন এবং ধর্মের বিশ্বাস ও বিধান অস্বীকার করে।


এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায় আধুনিক সেকুলার শাসনব্যবস্থাগুলো ঐতিহাসিক গোক-তুর্কিক ও মঙ্গোলদের বর্বরতা ও দুনিয়া দারিত্বের আধুনিক রূপ। বিভিন্ন  জাতির উপর বিজয় অর্জন পরে তাদের মতাদর্শ জাতিগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে। 

---

৬. মূল সূত্র ও রেফারেন্স

বিষয় সূত্র / রেফারেন্স

ইয়াজুজ-মাজুজ পরিচিতি ও তুর্কি বংশ ইবন কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (IslamAwareness.net)

খাজার সাম্রাজ্যের ইতিহাস Wikipedia Khazars

গোক-তুর্কিক ও মঙ্গোল ইতিহাস Wikipedia Göktürks, Wikipedia Mongols

দাজ্জালের দুই শিং তত্ত্ব ইসলামিক থিওলজি ও আধুনিক ইসলামী চিন্তাবিদদের লেখা

আধুনিক সেকুলার শাসনব্যবস্থার বিশ্লেষণ Various political science and religious critique sources

---


৭. সংক্ষিপ্ত উপসংহার


ইয়াজুজ-মাজুজ হিসেবে বিবেচিত গোক-তুর্কিক, খাজার ও মঙ্গোল জাতি তাদের বর্বর সাম্রাজ্যবাদী ইতিহাসে পরিচিত।


আধুনিক সেকুলার গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাগুলোকে ইসলামী চিন্তাবিদরা দাজ্জালের দুই শিং বা দুইটা অনুসারী বাহিনী  হিসেবে দেখেন, যা ঐতিহাসিক বর্বরতার আধুনিক রূপ।


সরাসরি ঐতিহাসিক জাতি থেকে আধুনিক রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ সংযোগ এখনও ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক গবেষণার বিষয়।


আলোচনা চলবে....


আগের আলোচনা গুলো বিস্তারিত জানতে...


ইয়াজুজ-মাজুজ অবস্থান ও ইতিহাস  প্রাথমিক আলোচনা : #1


মন্তব্যসমূহ