Skip to main content

Demon) কাদেরকে বলে ?


 লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী


📌 ইসলামের দৃষ্টিতে: শয়তান ও জ্বীন

১. শয়তান (Shaytaan):

‘শয়তান’ শব্দটি কুরআনে এসেছে ৮০+ বার। এটি সব অবাধ্য, বিপথগামী সত্তার সাধারণ নাম—হোক সে মানুষ, জ্বীন, অথবা চিন্তার ধারা।

🗣️ কুরআন বলে:

"তাদের মধ্যেও কিছু মানুষ শয়তান এবং কিছু জ্বীন শয়তান, তারা একে অন্যের কাছে অলংকৃত কথা বলে।"
— সূরা আন’আম: ১১২

👉 অর্থাৎ, শয়তান মানেই শুধু ইবলিস নয়।
যে কেউ (মানুষ বা জ্বীন) অন্যকে আল্লাহ থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করে—সে শয়তান।


২. জ্বীন (Jinn):

জ্বীন হল এক ধরনের সৃষ্টি, যারা আগুন বা অদৃশ্য শক্তি থেকে সৃষ্টি।
তাদের মধ্যেও মুসলিম-অমুসলিম, ভালো-মন্দ, সাধু-পাপী সব রকম আছে।

🧾 কুরআনে জ্বীনদের একটি আলাদা সূরা আছে—সূরা জিন।



🕷️ তাহলে “ডেমন” কারা?

৩. ডেমন (Demon):

“Demon” শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রীক ও রোমান বিশ্বাস থেকে।
তারা বলত—Daimon হলো একধরনের অদৃশ্য আত্মা, যারা মানুষের ভাগ্য, মন, এবং চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করে।

পরে খ্রিস্টান ধর্মে এই শব্দটি নেগেটিভ হয়ে যায়। এখন “Demon” বলতে বোঝায়:

  • অশুভ আত্মা
  • পাপাচারী জ্বীন
  • মানুষের ওপর ভর করে বসে থাকা অদৃশ্য সত্তা
  • বিভ্রান্তি ছড়ানো দেহহীন শক্তি

🛑 পশ্চিমা সংস্কৃতিতে তারা এদেরকে ভয়ংকর রূপে চিত্রিত করে—শিং, লেজ, আগুন, অন্ধকার ইত্যাদি দিয়ে।


🧠 ইসলামের আলোকে বুঝলে—

ডেমন = শয়তানি প্রকৃতির জ্বীন বা ওয়াসওয়াসা প্রদানকারী অদৃশ্য সত্তা
✅ যারা সাধারণত:

  • মানুষকে বিভ্রান্ত করে
  • দেহে ভর করে
  • চিন্তা ও স্বপ্নে প্রভাব ফেলে
  • ভয় ও কুফরি উসকায়

🔁 সম্পর্ক: শয়তান, জ্বীন ও ডেমন

ইসলামি পরিভাষা পাশ্চাত্য নাম প্রকৃতি
শয়তান (Shaytaan) Demon / Evil Spirit শত্রু, বিভ্রান্তকারী, অবাধ্য
জ্বীন (Jinn) Spirit / Supernatural Being অদৃশ্য জাতি—ভালো-মন্দ দুটোই হতে পারে
ইবলিস Satan প্রধান শয়তান—আদমকে সিজদা না করায় লানতপ্রাপ্ত

🧨 উপসংহার:

"সব ডেমন হচ্ছে শয়তান, কিন্তু এই কথা মনে রাখবেন কখনো শয়তান মানুষের আকারে আসে, কখনো চিন্তার ভিতরে, আবার কখনো জ্বীনের ভর হিসেবে।

ডেমন শব্দটি মূলত পশ্চিমা সংস্কৃতিতে ব্যবহার হয়, কিন্তু এর মৌলিক সত্তা ইসলামেও বিদ্যমান—শয়তান ও জ্বীনের মাধ্যমে।


সহকারি লেখক: এ এফ মুহিবুল্লাহ আমিন

আমাদের সঙ্গেই থাকুন ইনশাআল্লাহ আগামীতে আরো এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আসব এবং এটি সিরিজ আকারে তুলে ধরার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ. আর অচিরে ই আমাদের বই বের হতে যাচ্ছে অপেক্ষায় প্রহর গুনছি আলহামদুলিল্লাহ




Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...