Skip to main content

সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ ||

 

সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:

                       💥 সূর্যগ্রহণ :

চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোনো দর্শকের কাছে সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়। আমাবস্যার পরে নতুন চাঁদ উঠার সময় এ ঘটনা বেশি ঘটে। পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। এর মধ্যে শূন্য থেকে দুইটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়। আরবিতে এর নাম কুসূফ, ইংরেজিতে একে Solar Eclipse বলে।


🌘 চন্দ্রগ্রহণ :

পৃথিবী তার পরিভ্রমণ অবস্থায় চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এলে কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করতে থাকে। তখন পৃথিবী থেকে দেখা যায় যে চাঁদ অদৃশ্য হয়ে গেছে বা আংশিক ঢাকা পড়েছে। এটাকে চন্দ্রগ্রহণ বলে। আরবিতে এর নাম খুসূফ, ইংরেজিতে একে Lunar Eclipse বলে।


🔘কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী

সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের কোনো প্রভাব গর্ভবতী মা বা তাঁর গর্ভস্থ ভ্রূণের উপর পড়ে না।

গর্ভবতী মা কিছু কাটলে, ছিঁড়লে বাচ্চা ঠোঁটকাটা জন্মাবে, কোনো কিছু ভাঙলে বা বাঁকা করলে সন্তান বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেবে-এ ধরনের সব প্রচলিত ধারণা ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। এর সাথে কুরআন ও সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই।

🔘

চন্দ্র, সূর্য বা অন্য কোনো সৃষ্ট বস্তু অদৃশ্যভাবে কারো উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না। এ ধরনের বিশ্বাস রাখা তাওহীদের পরিপন্থী।

🔘

মুসলিমের করণীয়

আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণও একটি নিদর্শন। সুতরাং যখন গ্রহণ দেখা যায়, তখন রাসূল সা. এর সুন্নাহ অনুযায়ী আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা উচিত।

🔘



বাস্তবে সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কিংবা অন্য কারো জন্য কোনো জাগতিক কাজ করা বা না করার বিষয়ে ইসলামে কোনো বিধি-নিষেধ নেই। সমাজে প্রচলিত সবকিছুই কেবল কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাস। এগুলো মানা মারাত্মক গুনাহ।

বরং হাদীসে এসেছে, সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণকে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন মনে করতে হবে এবং পুরুষদেরকে জামাআতে সালাতুল কুসূফ (সূর্যগ্রহণে) ও সালাতুল খুসূফ (চন্দ্রগ্রহণে) আদায় করতে বলা হয়েছে। এর বাইরে কোনো বিধি-নিষেধ নেই।


কুরআন-হাদীস থেকে প্রমাণ

☀ আল্লাহ বলেন:

“...তোমরা যা কিছু রাসূল তোমাদেরকে দেন, তা গ্রহণ কর এবং তিনি যা কিছু থেকে তোমাদেরকে বিরত করেন, তা থেকে বিরত থাক।”

-সূরা হাশর: ৭

☀ রাসূল ﷺ বলেছেন:

“সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে এদের গ্রহণ হয় না। তাই যখন তোমরা গ্রহণ দেখতে পাও, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর।”

-সহীহ বুখারী ৪৮১৮; ইফা


☀ অন্য বর্ণনায় এসেছে:

“সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে হয় না। বরং এগুলো আল্লাহর নিদর্শন, যা দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সতর্ক করেন। সুতরাং যখন গ্রহণ দেখতে পাও, আল্লাহর জিকিরে মশগুল হও যতক্ষণ না তা আলোকিত হয়ে যায়।”

-সহীহ মুসলিম ১৯৭২; ইফা।


উপসংহার : সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণে গর্ভবতী মহিলা বা গর্ভস্থ সন্তানের কোনো ক্ষতি হয় না। বরং এগুলো আল্লাহর মহাশক্তির নিদর্শন। মুসলিমদের উচিত কুসংস্কার বর্জন করে সুন্নাহ অনুযায়ী নামায, দোয়া ও আল্লাহর স্মরণে মনোনিবেশ করা।



Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...