Skip to main content

ডিভাইসটা দেখতে সুন্দর!


 


ডিভাইসটা দেখতে সুন্দর। দেখেই মনে হচ্ছে শিশুদের কোনো খেলনা মোবাইল অথবা রেডিওর মতো কিছু একটা?


লেখকঃ মুফতি গাজী আমিনুল ইসলাম কাসেমী


আদতে এটা এমন একটা ডিভাইস যেটাতে অডিও আকারে বাইবেল শোনা যায়৷ আর, মানুষের হাতে হাতে এটা বিলি করছে খ্রিস্টান মিশনারীর দল। তাদেরই একটা দল টিএসসির মতো জায়গায় এসে এটা বিলি করে গিয়েছে সেখানকার ছাত্র, কর্মজীবী সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের কাছে। একেবারে বিনামূল্যে। ঘটনাটা আরও ৬-৮ মাস আগের।


ওয়েল। এটাকেই বলে ডেডিকেশান। পশ্চিমের আয়েশি জীবনযাপন ছেড়ে এইসকল মিশনারীরা বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকে বাংলাদেশে। তা-ও আবার গুলশান, বনানী, বারিধারায় থাকে না তারা৷ তাদের অধিকাংশ কাজ হলো পার্বত্য অঞ্চলে, উত্তরবঙ্গের দুর্গম অঞ্চলগুলোতে যেখানে দারিদ্র‍্যের মাত্রা অত্যধিক।


যেসকল মানুষেরা দারিদ্র-পীড়িত, এইসব মিশনারীরা টার্গেট করে তাদেরকেই বেশি। তারা খাবার দেয়, অনেককে ভ্যান, রিকশা, অটো কিনে দেয়, কাউকে দোকান করে দেয়। তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য সেখানে তারা আলাদা স্কুল খুলে। ওরাই চালায়—মিশনারী স্কুল।


এইসবকিছুর আল্টিমেট উদ্দেশ্য হলো—মানুষকে খ্রিস্টান বানানো।


আপনি ভাবতে পারেন, ‘আরেহ, এত সহজ নাকি? কাউকে বলল আর খ্রিস্টান হয়ে গেল? মানুষ এত বোকা?’


জি, মানুষ এত বোকা নয়, তবে তারা যেসব অঞ্চলে কাজ করে সেসব অঞ্চলের মানুষের যুক্তিবোধ, ঈমান-বোধ এত তীব্র আর প্রখরও নয়। তারা অতি অল্পতেই বিশ্বাস করে ফেলে সবকিছু। মিশনারীদের কৌশলও অভিনব। তারা খ্রিস্টান ধর্মকে এমনভাবে উপস্থাপন করে, যেন তা ইসলামের বিরোধি কিছু বলে মনে না হয়৷ যেন দুটো ধর্ম একেবারে কাছাকাছি। একই মায়ের পেটের দুই সহোদর ভাইয়ের মতো। ইসলাম ছেড়ে খ্রিস্টান হলে যেন খুব বেশি কিছু হেরফের হয় না।


গরিব মানুষগুলো যখন দেখে তারা খাবার পাচ্ছে, চিকিৎসা পাচ্ছে, বাঁচার অবলম্বন পাচ্ছে, সন্তানদের পড়াশোনা হচ্ছে, তখন তারা খুব সহজেই বিশ্বাস বদলে ফেলে।


আমরা রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি নিয়ে মেতে আছি৷ আমাদের আলোচনার টেবিলে, সোশ্যাল মিডিয়া ফিডে কতো বাহারি টপিকের আলোচনা, কিন্তু একই সময়ে ( ভুল বলেছি। তাদের এই তৎপরতা বহু বহু বছর ধরে বিদ্যমান) খ্রিস্টান মিশনারীরা সারাদেশজুড়ে তাদের মিশন চালিয়ে যাচ্ছে নীরবে, নিভৃতে। তারা এখন পৌঁছে যাচ্ছে টিএসসির মতো শিক্ষিত আর এলিটদের জায়গাতেও৷


আমাদের সুসংগঠিত কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই। সুসংগঠিত কোনো দল নেই, মিশন নেই, ভিশন নেই৷ নিজেদের দল, মত, পন্থাকে জয়ী করতেই আমাদের সমস্ত শ্রম বিনিয়োগ করছি।



অন্যদিকে, কওমের আস্ত একটা অংশকে ঈমান থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেদিকে আমাদের কোনো পদক্ষেপ তো দূর, ভ্রুক্ষেপই নেই।

সহকারিঃ মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ ফাইয়াজ


Comments

Popular posts from this blog

হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

সকল সংখ্যা বিভাগ লেখকবৃন্দ আপনার জিজ্ঞাসা পরিচিতি যোগাযো বর্ষ: ২১,   সংখ্যা: শাবান ১৪৪৬   |   ফেব্রুয়ারি ২‘হেযবুত তওহীদ’ ॥ মতবাদ, ভ্রান্তি ও অপকৌশল : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির সাথে অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি সংগঠনের নাম ‘হেযবুত তওহীদ’ । বহুরূপী এই সংগঠনটির কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যার দরুন অনেক সরলমনা মুসলমান না বুঝেই তাদের দলে যোগ দিয়ে বসছেন। অনেকেই তাদের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব দেখে ও শুনে কোনো কোনো সচেতন ভাই উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানতে চাইছেন ,  এরা কারা ?  কী তাদের উৎস ?  কেমন তাদের আকীদা-বিশ্বাস ?  আর ইসলামের নামে তারা যেসব কথা বলছে ,  এগুলোর বাস্তবতাই বা কতটুকু ? আমরা একেবারে গোড়া থেকে শুরু করছি। হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠা ও উৎস হেযবুত তওহীদ দলটির প্রতিষ্ঠাতা টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। যিনি ছিলেন কলেজপড়ুয়া একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। আর কুরআ...

মাছের চামড়ার রহস্য !

মাছের চামড়া আর চিকিৎসাবিজ্ঞান: এক বিস্ময়কর আবিষ্কার! Publisher: Al-Fatiha Foundation Platform: Muslim World আমরা বাঙালি মুসলিমরা মাছ পেলে সেটাকে কেটে, রান্না করে খেয়ে ফেলি—মাছ আমাদের রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কখনো কি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করেছি, এই মাছ নামক প্রাণীটিকে আল্লাহ তাআলা কেমন করে সৃষ্টি করেছেন? এর চামড়া, হাড়, পেশি, রক্তনালী—সবকিছু কী নিখুঁতভাবে কাজ করে! আমরা কেবল স্বাদে মগ্ন, অথচ এর ভেতরের গঠন ও কার্যকারিতায় এক অনন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আর এই রহস্য আবিষ্কারে নেমেছে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন মাছের এমন এক উপকারিতা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।                       কী সেই আবিষ্কার? সম্প্রতি একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে, তেলাপিয়া (Tilapia) মাছের চামড়া মানুষের দেহে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে তা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা সেই চামড়াকে এক ধরনের 'জীবন্ত ব্যান্ডেজ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মাছের চামড়া মানবচামড়ার মতোই কোলাজেন সমৃদ্ধ, নমনীয়, এবং...

হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা | পর্ব ১

  হারিয়ে যাওয়া মুসলিম সভ্যতা পর্ব ১: আন্দালুস—যেখানে চাঁদ নামত মুসলিম মসজিদের গম্বুজে ✍️ লেখক: গাজী আমিনুল ইসলাম আল কাসেমী একটি সভ্যতা ছিল, যার সূর্য ডুবত না। যার ঘরে ঘরে ছিল জ্ঞানচর্চার আলয়। যার শহরে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার পাণ্ডিত্যের উৎস। যেখানে মসজিদ ছিল লাইব্রেরি, হাসপাতাল ছিল ওয়াক্‌ফের অংশ, ও রাস্তায় রাত্রি জাগত বাতির আলো। সেই শহর, সেই ভূমি— আন্দালুস । 🌙 ইউরোপের বুকে এক মুসলিম জগত আজকের স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় ছিল মুসলিমদের শাসিত এক গৌরবময় ভূমি। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তরিক ইবনে জিয়াদের অগ্নিশপথ দিয়ে যাত্রা শুরু, আর শুরু হলো এক বিস্ময়কর ইতিহাস—যা টিকেছিল প্রায় আট শতাব্দী। কর্ডোভা, গ্রানাডা, তোলে‌দো, সেভিল, আলমেরিয়া— এই শহরগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ছিল সভ্যতার একেকটি স্তম্ভ। ইউরোপ যখন ডুবে ছিল গোঁড়ামি, কুসংস্কার আর গির্জার আধিপত্যে, তখন আন্দালুস ছিল— গণশিক্ষার কেন্দ্র মহাকাশবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত ও দর্শনের স্বর্ণযুগ ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও শিল্পের চূড়ান্ত রূপ 🕌 কর্ডোভার সেই মহান রাত্রি ইতিহাসবিদরা লিখেছেন, কর্ডো...