Skip to main content

Posts

ঐতিহাসিক শহীদি আযানের ৯৪ বছর

   শহীদি  আযানের ৯৪ বছর                         লেখকঃ   মুফতি গাজী আমিনুল ইসলাম কাসেমী হাফিঃ ১৮৪৬ সালে অভিশপ্ত বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মাত্র ৭৫ লাখ রুপির বিনিময়ে মুসলিমদের ভূমিগোটা কাশ্মীর ভূখণ্ডকে আরেক অভিশপ্ত ডোগরা রাজা গুলাব সিং এর কাছে বিক্রি করে দেয়।   ভূমির প্রকৃত মালিক মুসলিমদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার তোয়াক্কা না করে অভিশপ্ত জাতি বৃটিশরা তাদেরই আরেক গোলাম হিন্দু জমিদারদের হাতে মুসলিমদের ভূখণ্ড বিক্রি করে দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই গোটা ভূখণ্ডে অশান্তির দাবানল জ্বলে ওঠে।  এমনই উত্তাল সময়ে কাশ্মীরের উধমপুর জেলায় একজন ব্যবসায়ী ইসলাম গ্রহণ করলে হিন্দুরা তাঁর সম্পত্তি জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে তাঁর হিন্দু ভাইকে দিয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে তিনি মামলা করেন। কিন্তু হিন্দু বিচারক তাঁকে শর্ত দিয়ে বসে- পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে না আসলে তিনি আর নিজের জমির মালিক থাকবেন না। ১৯৩১ সালের এপ্রিল মাসের ২৯ তারিখ। কাশ্মীরের মুসলমানরা ঈদুল ফিতরের নামায আদায় করেন। নামাজের ইমামতি করেন মুফতি মুহাম্মদ ইসহাক। নামাযের পর তিনি তাঁর খুতবায়...

কুঁড়েঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়

(কুঁড়েঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়)   উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রায় প্রত্যেকটা প্রসিদ্ধ জীবনীগ্রন্থে ঘটনাটির উল্লেখ পাওয়া যায়। খলিফার দায়িত্ব পাওয়ার পর উনি নিয়ম করে রাতের বেলা মহল্লায় মানুষদের খোঁজখবর নিতে বের হতেন।কোনো দলবল ছাড়াই। একা, একেবারে সাধারণ বেশভূষায়। এমনই একদিনের ঘটনা। একটি ভগ্নপ্রায় কুঁড়েঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়, ঘরের ভেতরে থাকা মা এবং মেয়ের কথোপকথন কানে আসে খলিফা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর। তিনি থামলেন এবং তাদের সেই আলাপচারিতা ভালোভাবে শুনবার জন্য কানজোড়াকে আরও সজাগ করলেন। উক্ত ঘরের বাসিন্দারা বকরির দুধ বেচত। মা মেয়েকে বলছিল দুধের মধ্যে পানি মিশিয়ে পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে। এতে করে বেশি টাকা পাওয়া যাবে। মায়ের কথায় প্রতিবাদ করে উঠল মেয়ে। মেয়েটা বলল, 'এটা তুমি কী বলছ মা! দুধের মধ্যে পানি মেশাব কেন? খলিফা জানতে পারলে কী হবে তুমি জানো?' মা বলল, 'খলিফা কীভাবে জানবে এই কথা? খলিফা কি দেখবেন নাকি আমরা পানি মিশিয়েছি কি না?' তখন মেয়েটা বলল, 'মা, খলিফা নাহয় দেখলেন না আমরা কী করছি। কিন্তু, যিনি আসমানে আছেন, তিনি তো দেখছেন। তার কাছ থেকে আমরা কীভাবে লুকোবো এই কাজ?' মেয়েটার এহ...

সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ ||

  সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:                        💥 সূর্যগ্রহণ : চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোনো দর্শকের কাছে সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়। আমাবস্যার পরে নতুন চাঁদ উঠার সময় এ ঘটনা বেশি ঘটে। পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। এর মধ্যে শূন্য থেকে দুইটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়। আরবিতে এর নাম কুসূফ, ইংরেজিতে একে Solar Eclipse বলে। 🌘 চন্দ্রগ্রহণ : পৃথিবী তার পরিভ্রমণ অবস্থায় চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এলে কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করতে থাকে। তখন পৃথিবী থেকে দেখা যায় যে চাঁদ অদৃশ্য হয়ে গেছে বা আংশিক ঢাকা পড়েছে। এটাকে চন্দ্রগ্রহণ বলে। আরবিতে এর নাম খুসূফ, ইংরেজিতে একে Lunar Eclipse বলে। 🔘কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের কোনো প্রভাব গর্ভবতী মা বা তাঁর গর্ভস্থ ভ্রূণের উপর পড়ে না। গর্ভবতী মা কিছু কাটলে, ছিঁড়লে ...

ভণ্ডরা কারা?

 🔎 ভণ্ডরা কারা? লেখক মুফতি গাজী আমিনুল ইসলাম কাসেমী ভণ্ড বা মুনাফিক হলো সেইসব মানুষ যারা মুখে মুসলমান দাবি করে, কিন্তু অন্তরে কুফর, অবিশ্বাস ও শত্রুতা লুকিয়ে রাখে। তারা কখনও প্রকাশ্যে মুসলিমদের মতো চলে, আবার গোপনে শত্রুদের সঙ্গে মিলে মুসলমানদের ক্ষতি করে। 🌐 ভণ্ডদের প্রকাশ্য বৈশিষ্ট্য মুসলমানদের সামনে নামাজ, রোজা, কোরআন পাঠ করে ধার্মিক সাজে। মানুষকে উপদেশ দেয়, অথচ নিজেরা তা মানে না। ইসলামি দাওয়াত বা আলেমের পরিচয়ে নিজেদের সম্মানিত করে তোলে। সমাজে মুসলমানদের বন্ধু সাজে, কিন্তু আড়ালে অন্যদের সঙ্গে মুসলমানদের বিরুদ্ধে চুক্তি করে। প্রতিটি কাজে দ্বিমুখী আচরণ—একজনের সামনে একরকম, আরেকজনের সামনে আরেকরকম। 📖 কোরআনে: “তারা যখন মু’মিনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি।’ আর যখন নিজেদের শয়তানদের সঙ্গে একান্তে থাকে, বলে, ‘আমরা তো তোমাদের সঙ্গেই আছি; আমরা তো শুধু ঠাট্টা-বিদ্রূপ করি।’” (সূরা বাকারা: ১৪) 🕋 ভণ্ডদের গোপন নীতি ও কাজ ইসলামের শত্রুদের খবর দেয়া – মুসলিমদের গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়। অভ্যন্তরীণ বিভেদ সৃষ্টি – মুসলিম সমাজকে টুকরো করার জন্য কাজ করে। কোরআন...

বাইতুল্লাহর দেয়াল|

বাইতুল্লাহর দেয়াল  (ক) আমরা সবাই জানি, পবিত্র কাবা ঘর সর্বপ্রথম নির্মাণ করেছিলেন আমাদের পিতা ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। তিনি তাঁর পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামকে সাথে নিয়ে, মরুভূমির বালুকাময় উপত্যকার সেই বিজন প্রান্তরে দাঁড়িয়ে, পাথরের উপর পাথর দিয়ে বিনির্মাণ করেন বাইতুল্লাহ। কিন্তু, বর্তমানে আমরা বাইতুল্লাহকে যেভাবে দেখি, ইবরাহিম আলাইহিস সালামের হাতে নির্মিত বাইতুল্লাহ কি দেখতে ঠিক এমনই ছিল? উত্তর হচ্ছে—না। এই ইতিহাসটুকু জানতে হলে আমাদেরকে একটু অতীতে ফিরে যেতে হবে। রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বয়স তখন ৩৫ বছর। সে-বছর মক্কায় প্রচণ্ড রকমের বন্যা হয়। বাইতুল্লাহর চারপাশে ছিল অসংখ্য ছোট বড় পাথুরে পাহাড়। সেইসব পাহাড় থেকে বন্যার ঢল নেমে এসে বাইতুল্লাহর দেয়ালে আছড়ে পড়তে পড়তে বাইতুল্লাহর দেয়াল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরেকটা অপ্রীতিকর একটা ঘটনাও সে-বছর ঘটেছিল। একদল নরাধম বাইতুল্লাহর দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে, ভেতরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। ফলে বন্যা আর লুটপাট, দুই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তখনকার মক্কাবাসী সিদ্ধান্ত নেয় যে—বাইতুল্লাহকে আগাগোড়া ভেঙে সংস্কার করা হবে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাইতু...

শায়খ আহমাদু বাম্বা (রহ.)—নির্বাসনের পথ ও আধ্যাত্মিক বিজয়

  বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম শায়খ আহমাদু বাম্বা (রহ.)—নির্বাসনের পথ ও আধ্যাত্মিক বিজয় শায়খ আহমাদু বাম্বা (রহ.), যিনি সেরিন তুবা নামে বেশি পরিচিত, তিনি পশ্চিম আফ্রিকার ইতিহাসে ইসলামী চেতনা, সুফি আধ্যাত্মিকতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের উজ্জ্বল প্রতীক। সেনেগালের এই মহাপুরুষ উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এমন সময়ে আবির্ভূত হন, যখন ফরাসি ঔপনিবেশিক শক্তি মুসলিম সমাজকে ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেরিন তুবা কলম, কবিতা, শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে ইসলামকে জীবন্ত করে তোলেন। তাঁর জীবন আমাদের শিখিয়ে দেয়, ঈমান ও জ্ঞান দিয়ে কিভাবে দুনিয়ার যেকোনো শত্রুর মোকাবিলা করা যায়। নির্বাসনের শুরু ১৮৯৫ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর, ফরাসি সেনারা শায়খ আহমাদু বাম্বাকে ডাকারে নিয়ে আসে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে নির্বাসনে পাঠানো। তিনি প্রথমে সেনেগাল থেকে গ্যাবনের দিকে রওনা হন। ফরাসিরা ভেবেছিল, তাঁকে দূরবর্তী জঙ্গলে পাঠালে তিনি হারিয়ে যাবেন, কিংবা তাঁর মৃত্যু হবে। কারণ, আগে যারা সেনেগাল থেকে গ্যাবনে নির্বাসিত হয়েছিল, তারা আর কখনো ফিরে আসেনি। গ্যাবনের জঙ্গল ছিল ভয়ংকর জন্তু-জানোয়ারে ভরা এ...

সুরা আদ-দোহাকে আপনি কীভাবে পড়েন?

সুরা আদ-দোহাকে আপনি কীভাবে পড়েন?                       Arif azad  কুরআনের এই বিশেষ সুরাটিকে নানানভাবে বুঝবার সুযোগ রয়েছে। তাফসির বিশারদগণ নানান বৈচিত্রময় দিক থেকে সুরাটিকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন। অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়, আলোকোজ্জ্বল ভোর নিকটবর্তী। দুঃখ চিরস্থায়ী নয়, সুখ অত্যাসন্ন। কষ্টের পরেই আসে সুখ। দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, আখিরাতের জীবনের আনন্দই সত্যিকারের সফলতা—এমনসব সুখকর, অনুপ্রেরণাদায়ী কথামালায় সাজানো সেইসব ব্যাখ্যা। হতাশায় নিমজ্জিত অন্তরকে জাগিয়ে তুলতে এই সুরা যেন এক মহৌষধের মতো কাজ করে আমাদের জীবনে। সমস্ত আশা হারিয়ে ফেলে যে হৃদয় হাঁবুডুবু খাচ্ছে অন্ধকারের অতল গহ্বরে, সেই হৃদয়কে আনন্দের মোহনায় টেনে আনতে সুরা আদ-দোহা যেন বিকল্পহীন।   আরেকটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকেও সুরা আদ-দোহাকে বোঝার সুযোগ রয়েছে বলে আমার ধারণা। আমার এই ধারণা পূর্বের ব্যাখ্যাগুলোর সাথে কোনোভাবে সাংঘর্ষিক নয়, বরং সেগুলোর পরিপূরক। সুরা আদ-দোহা থেকে আমরা অনুপ্রেরণাটুকু কেবল নিয়ে থাকি, কিন্তু কোনো কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করি না। আমার ধারণা—এই সুরার মধ্যে আল্লা...